মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:২২ পি.এম
এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আত্মসাতের অভিযোগে উখিয়া উপজেলার বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম কিবরিয়াকে নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই দিনই কক্সবাজারের ‘বিতর্কিত’ পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান তার হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দিয়েছেন উখিয়া থানায় গিয়ে, যা প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। একই দিনে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে পুরস্কৃত করার ঘটনায় পুলিশ সুপার সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
পুলিশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মাসিক সভায় সর্বোচ্চ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে। কিন্তু সেই নিয়মের বাইরে গিয়ে অভিযোগ প্রকাশের দিনেই উখিয়া থানায় হাজির হয়ে এসআই কিবরিয়ার হাতে পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার। একই ঘটনায় উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, ২২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকা থেকে ছৈয়দুল বশর ওরফে সিসি বশরকে আটক করে পুলিশ। অভিযানে এসআই গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। অভিযোগকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী সরওয়ার সিকদারের দাবি, ওই অভিযানে দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু এসআই কিবরিয়াকে বাদী করে দায়ের করা মামলার এজাহারে মাত্র ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়। বাকি ১ লাখ পিস ইয়াবা সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সরওয়ারের অভিযোগ, উদ্ধারকৃত সেই ১ লাখ পিস ইয়াবা পরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
সরওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিকে প্রথমে বালুখালী পুলিশ ফাঁড়িতে এবং পরে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়। এরপর বালুখালীর জোড়াব্রিজ এলাকায় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি কাগজে-কলমে দেখানো হয়। তবে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা দুই সাক্ষী দেলোয়ার ও সাদ্দাম জানিয়েছেন, পুলিশের অভিযান ও ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। এমনকি মামলায় সাক্ষী হিসেবে তাদের নাম থাকার বিষয়েও তারা অবগত নন বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, জব্দতালিকা, মামলার নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করলে উদ্ধার করা ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ উন্মোচিত হবে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ২২ অক্টোবর ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ও একজনকে গ্রেপ্তারের স্বীকৃতি হিসেবেই এসআই কিবরিয়া ও ওসিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তবে একই অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গুঞ্জন ও প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘এসপি স্যার যে এমন ভুল করবেন, সেটা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারিনি। নিয়ম অনুযায়ী, মাসিক সভায় এ পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে।’ এক লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ। তবে অভিযোগ প্রকাশের দিনেই অভিযুক্ত এসআইকে পুরস্কৃত করার ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, উদ্ধার করা ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিতর্কিত ভূমিকা
এদিকে এসপি সাজেদুর রহমান কক্সবাজারে যোগদানের পর থেকে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম নাজুক হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দিনদুপুরে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত অর্ধশত যানবাহনে লুটপাট চালানো হয়।
শুধু তাই নয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ঠিক সামনেই মিলেছে ইয়াবার গুদাম। সম্প্রতি সেই গুদাম থেকে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় সেখান থেকে ২ লাখ পিস ইয়াবা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে পুরো জেলায় তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ আছে, ইয়াবা গায়েবকারীকে খুঁজে বের করতেও এসপির কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি।
পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, যোগদানের পর থেকে নানা অপকর্মে জড়িত ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের শাস্তির বদলে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন এই পুলিশ সুপার। তার সর্বশেষ প্রমাণ—১ লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতে অভিযুক্ত এসআই কিবরিয়াকে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান। পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর থেকে জেলায় খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলি এবং বিচারককে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর মতো অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা, তদন্তের নিরপেক্ষতা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে কক্সবাজারে ৯৫টি খুন, ১২৭টি ধর্ষণ ও ২৯৭টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে দেড় শতাধিক। এছাড়া পর্যটন এলাকাসহ জেলায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০টি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। তবে অনেক ঘটনায় মামলা বা জিডি না হওয়ায় প্রকৃত চিত্র পরিসংখ্যানে উঠে আসছে না।
আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তার চিত্রও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে এক যুবক পিস্তল দেখিয়ে একজন বিচারককে ভয় দেখান বলে জানিয়েছেন জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে দুই বিচারক তৎকালীন সদর থানার ওসি ছমিউদ্দীনকে ডেকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। বিষয়টি পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে একাধিক বিচারক পুলিশ সুপারের কাছে গানম্যান চেয়ে চিঠি দিলেও তাঁদের নিরাপত্তারেক্ষী দেওয়া হয়নি, এমনকি চিঠির জবাবও মেলেনি। এর মধ্যে গত ২৪ মে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গোলাগুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হন।
গত ২৪ মার্চ রাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম। ঘটনার পর তারিন নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশ এবং তাঁর ব্যাগ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের কথা জানায়। তবে খোরশেদের জানাজা চলাকালেই এক সংবাদ সম্মেলনে তারিনকে নির্দোষ ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান। এতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে নিহত খোরশেদের পরিবার পুলিশের তদন্তে অনাস্থা জানালে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত তারিনকে আসামি না করে কেবল সাক্ষী করা হয়েছিল।
গত ২২ এপ্রিল কক্সবাজার শহরতলির খুরুশকুলে মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধুকে হত্যার পর তাঁর লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সংবাদকর্মী অন্তর দে বিশাল। তাঁর অভিযোগ, সংবাদটি সরিয়ে না ফেললে তাঁকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন এসপির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এলআইসি সদস্য সোহেল। অন্তর দে জানান, বিষয়টি এসপিকে জানালে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে নিউজ করতে কে বলেছে?’ পরে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে সদর থানা জিডি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে, ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় সংবাদদাতা শাহেদ ফেরদৌস হিরুকে এসপি প্রশ্ন করেন, ‘ইয়াবা নিয়ে সাংবাদিকদের এত আগ্রহ কেন?’ হিরুর অভিযোগ, এসপির ব্যর্থতা, অদক্ষতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণেই জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
বাহিনীতে অসন্তোষ ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া
জেলা পুলিশের অন্তত ৩৫ জন কর্মকর্তার অভিযোগ, এসপির হঠকারী সিদ্ধান্ত, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বদলি এবং কথায় কথায় বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) ও সার্ভিস বুকে বিরূপ মন্তব্যের ভয় দেখানোর কারণে অভ্যন্তরীণ বাহিনীতে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি গোপন তথ্য প্রকাশের অভিযোগে ১০১ জন পুলিশ সদস্যকে গণবদলি করা হয়; যাদের মধ্যে সাতজন পরিদর্শক, ৩৬ জন এসআই, ২৪ জন এএসআই ও ৩৪ জন কনস্টেবল রয়েছেন। কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, অভিজ্ঞ সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় অপরাধপ্রবণ এলাকা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের জ্ঞান ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার পুলিশ সুপার হন, তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি যোগদানের পর থেকে পুলিশের হেফাজত থেকে ইয়াবা গায়েব হওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপরও তিনি নির্লজ্জের মতো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, তিনি কক্সবাজারের মানুষের সঙ্গে তামাশা করতে এসেছেন।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসপি এএনএম সাজেদুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত না করে উল্টো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুস গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি পূর্বে অবগত ছিলেন না। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টার নিয়মিত অভিযানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৫৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই সময়ে ৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ থেকে ১৫০ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৯৪ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭৪ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৬২ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৮ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৪২ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৩৭ জন, রমনা বিভাগ থেকে ৩৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১টি সুইচ গিয়ার, ১টি প্লায়ার্স, ১টি অ্যান্টি কাটার, ১টি অবিস্ফোরিত ককটেল, ১টি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ১ হাজার ১২১ পিস ইয়াবা, ২৮ গ্রাম হেরোইন, ১টি অটোরিকশা, ১৫টি মোবাইল ফোন এবং ১৩টি সিমকার্ড। এ সময় একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলে মশার উপদ্রবে ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) হলের মধ্যে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, মশার উৎপাত দিন-রাত তাদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় তারা দ্রুত মশা নিধনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের আশপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা, পানি নিষ্কাশনের ড্রেন এবং ময়লা ফেলার স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। এছাড়া নিয়মিত মশানাশক ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া সহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
স্বাধীনতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আল-আমিন আরটিভিকে বলেন, "মশার উপদ্রব একদম অস্বাভাবিক। সব সময় মশার প্যানপ্যানানি শব্দ আছেই। মনে হয় যেন সব সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্ট চলে!" তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার পর মশার সংখ্যা বেড়ে যায় এবং কয়েল জ্বালানো বা মশারি টাঙানো ছাড়া পড়ালেখা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাতে ঘুমাতেও সমস্যা হচ্ছে এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে সব সময় সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
স্বাধীনতা হলের আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম জারিফ আরটিভিকে বলেন, "আমরা যারা নিচের তলার কক্ষগুলোতে থাকি, তারা মশার সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছি।" তিনি বলেন, হলের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এর মূল কারণ। সন্ধ্যা হওয়ার পর থেকেই মনে হয় যেন মশার রাজ্যে বসবাস করছি। তিনি অভিযোগ করেন, "মশারি টাঙালেও মশার অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।" এ বিষয়ে হল প্রশাসনের উদ্যোগ নেই বললেই চলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাধীনতা হলের প্রভোস্ট আল ফাহাদ ভূঁইয়া আরটিভিকে জানান, "স্বাধীনতা হলের পাশে ময়লা ফেলার সমস্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।" তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।" তিনি জানান, মশার উপদ্রব কমাতে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, "ময়লা ফেলার কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আগে পৌরসভা থেকে ময়লা সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে পৌরসভা ময়লা সংগ্রহ করছে না বলে জানানো হয়েছে।" বিষয়টি প্রো-ভিসি স্যারকে জানানো হয়েছে এবং তিনি এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন, তা দেখতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "ময়লা ব্যবস্থাপনার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক এবং হলের আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুক।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করা হয়েছে। তবে, এই ১০ জনের মধ্যে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান এখনও মেলেনি।
শহরের দুটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা রয়েছেন। একটি পরিবারের চারজন এবং অন্য পরিবারের ছয়জন রয়েছে।
চার সদস্যের পরিবারটিতে ছিলেন শ্যামলীতে অবস্থিত গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
অন্য পরিবারের সদস্যরা হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।
নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
অপরদিকে মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুড়ে যাওয়া লাশগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করে এবং স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, উখিয়া থানার এসআই রিমন ঘোষ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবার লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে অবহিত করবে।
নিখোঁজ মুক্তার সন্ধান মেলেনি
অগ্নিকাণ্ডের পর ১০টি লাশ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন। ফলে একজনের অবস্থান নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) ডিএনএর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কোনো লাশের নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেন, ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, তাদের ডিএনএ স্যাম্পলই মিল পাওয়া গেছে। আরেকজনেরটা পাওয়া যায়নি।
মুক্তা ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে তিনি কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা। মুক্তার বাবার নাম মোস্তফা কামাল।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে ১২শ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে যাওয়া এমভি ফুলবাড়ী নামক কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) গভীর রাতে সুন্দরী কোঠা এলাকায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে কার্গোটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার শিকার কার্গো জাহাজের স্টাফরা জানান, মোংলা বন্দরের হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লা বোঝাই করে মোংলার দিকে আসছিল এমভি ফুলবাড়ী। পথিমধ্যে পশুর চ্যানেলের সুন্দরী কোঠা এলাকায় পৌঁছালে এমটি জান্নাতুল ফেরদৌস নামক অপর একটি তেলবাহী ট্যাংকার এমভি ফুলবাড়ী জাহাজটিকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে কয়লাবোঝাই জাহাজটি ডুবে যায়। এই জাহাজটি আইআরএস ইন্টারন্যাশনালের মালিকানাধীন। জাহাজে থাকা ৯ জন স্টাফ সাঁতরে পাশের একটি কার্গো জাহাজে উঠতে সক্ষম হওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তারা আরো জানিয়েছেন, কয়লা নিয়ে কার্গো জাহাজটির ঢাকার বাদামতলায় যাওয়ার জন্য সিডিউল ছিল। জাহাজটি পশুর চ্যানেলের বাহিরে ডুবে যাওয়ায় মূল চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে বলে স্টাফরা নিশ্চিত করেছেন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, পশুর চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। এই চ্যানেল দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, মালিক পক্ষ দ্রুত জাহাজ তোলার ব্যবস্থা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ