১২:৫৪ পি.এম
আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু হওয়ার পূর্বে দেশে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন, সৌরবিদ্যুতের প্রসারের জন্য ইতিমধ্যে নীতিগত সহায়তা, প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। সৌরবিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: ঢাকার স্থবিরতার কারণ ই-রিকশা ও হকার সমস্যা: ডিএসসিসি প্রশাসক
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর কেবল সম্ভাবনার খাত নয়, বরং এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা। সঠিক নীতি, প্রযুক্তি এবং উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। উদ্যোক্তাদের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে আইনি এবং নীতিগত বাধা দূর করার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। উদ্যোক্তাদের ভাল উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী ধারণা যাতে অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের প্রসারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দসহ পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানি এবং সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় দেশের মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুতিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এনআইডি সংশোধন জালিয়াতি রোধে নতুন পদক্ষেপ ইসির
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা, ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলন বাড়ানো এবং জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে সহজ সুযোগ সৃষ্টি, সাশ্রয়ী বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করছে। উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি, উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। মঞ্চে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন