০৭:৫৮ এম
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সংশোধন আবেদনে জালিয়াতি প্রতিরোধে নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এনআইডি সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। এই ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বর্তমানে নাগরিকেরা ফেস ভেরিফিকেশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণের মাধ্যমে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতারক চক্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়াই তাঁর পরিচয়ে সংশোধনের আবেদন করছে। এই ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করার জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি কোনো নাগরিকের নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর না থাকে, তবে তিনি এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন না। বিটিআরসির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সর্বোচ্চ আটটি এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে নিজের নামে নিবন্ধিত নম্বর দিয়ে আবেদন করার নিয়ম চালু হলে, সংশোধনের আবেদন করতে হবে তাঁর নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর থেকেই। অর্থাৎ একটি নম্বর দিয়ে কেবল একজনের এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যাবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও সংশোধন কার্যক্রমকে আরো দ্রুত ও সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগও নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বিটিআরসিসহ নয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদফতরের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগ।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
এদিকে, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরির বিষয়েও নির্বাচন কমিশন চিন্তা করছে। এ বিষয়ে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষ হলে এনআইডি সংশোধনের আবেদনে আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহারের পদ্ধতি চালু করা হবে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৭টি দেশের এনআইডি কার্যক্রম চালু রয়েছে। স্পেন, জার্মানি ও হংকংয়ে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ তিন দেশে কার্যক্রম শুরু হলে মোট ২০টি দেশে এনআইডি সেবা কার্যক্রম শুরু হবে। তবে সুইডেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এনআইডি সেবা চলমান রয়েছে, যার ফলে নতুন এ তিন দেশসহ অফিসিয়ালি ২০টি দেশে হলেও বাস্তবে ২২টি দেশে এনআইডি সেবা কার্যক্রম হবে। চলতি মাসে হংকং ও জার্মানিতে কারিগরি দল পাঠানো হবে এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে স্পেনে কারিগরি দল যাবে। নির্বাচন কমিশন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনশক্তি ব্যুরো, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি- বায়রাসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে যে, ৪০টি দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা অনেক। এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান, লিবিয়া, সুদান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, হংকং, মিশর, ব্রুনাই, মারিশাস, ইরাক, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, স্পেন, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, তুরস্ক ও সাইপ্রাস। এসব দেশে এক কোটি ৪০ লাখের বেশি প্রবাসী অবস্থান করছেন। সৌদি আরবে ৪০ লাখ ৫০ হাজারের মতো প্রবাসী রয়েছে, যা সর্বাধিক। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে প্রবাসীর সংখ্যা দুই হাজার ৫০০ জনের মতো, যা সর্বনিম্ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন