০৫:২৮ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অযৌক্তিক হয়রানির বিরুদ্ধে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারীরা ২য় দিনের মতো কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা কাস্টমস সুপারের নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা করেছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এ পরিস্থিতিতে বন্দরে ভারতীয় ট্রাকের জট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি বুধবার বিকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। কর্মবিরতির কারণে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের জট সৃষ্টি হয়েছে। যদি কর্মবিরতি চলতে থাকে, তবে বৃহস্পতিবার ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ সমাবেশে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ওয়াসিম আকরামসহ অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেছেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা তুচ্ছ বিষয়গুলোতে এবং বিনা কারণে কর্মচারীদের ওপর হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন।
কোনো ভুলত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছেমতো কার্ড আটকে রাখা, ফাইল সাবমিট করার পর বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা এবং আগে না জানিয়ে হঠাৎ করে নতুন নতুন আইন দেখিয়ে প্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানি করার মতো ঘটনা ঘটছে। এছাড়া কর্মচারীদের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার চরম আকার ধারণ করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। বিশেষ করে কাস্টমস সুপার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা জানান, তিনি তুচ্ছ অজুহাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করছেন এবং যাত্রীদের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করেন। রাতে দীর্ঘ সময় অফিসে এসি চালিয়ে রাখা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত ট্যাক্স বা জরিমানা আদায়ের মতো হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তিনি। আন্দোলনকারীরা আরও জানান, বিগত দিনে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই তারা স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে এলেও বর্তমান কর্মকর্তার একক সিদ্ধান্ত ও খামখেয়ালিপনার কারণে বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: রহনপুরে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার বিক্রি, ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ম্যানেজারের ৭ দিনের কারাদণ্ড
একজন আমদানিকারকের ২০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থাকলে কোনো কারণ ছাড়াই পণ্য চেকিং এর নামে সবগুলো গাড়ি পানামার ভেতর আনলোড করার জন্য নির্দেশনা জারি করে। এর ফলে পণ্য খালাসের বাড়তি খরচ ওই আমদানিকারক ও সিএনএফ এজেন্টকে বহন করতে হয়। অবিলম্বে এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি এখানে নতুন এসেছেন। কারও সঙ্গে অশালীন বা খারাপ আচরণ করা হয় কিনা তা তার জানা নেই। সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মচারীরা কী কারণে আন্দোলন করছেন তা জানার জন্য তাদের আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও তারা প্রত্যাখ্যান করায় আন্দোলনের কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কারো ফাইল আটকে রাখা বা কাউকে হয়রানি করার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।
তিনি আরও জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরটি চোরাচালানের এলাকা হওয়ায় প্রয়োজনে কাস্টমস কর্মকর্তারা দিন-রাত এখানে অবস্থান করতে পারেন, এটা আইনের পরিপন্থি নয়।
এদিকে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল হোসেন জানান, কর্মবিরতি চলার কারণে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের জটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সারাদিনে ভারত থেকে ৩৬০টি পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাক বা ভারতীয় কোনো খালি ট্রাক বন্দর থেকে বের হয়নি। কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে বৃহস্পতিবার ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন: গোমস্তাপুরে পাচারের সময় ১৬ বস্তা সার আটক, ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন