ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব কংগ্রেস নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে


আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব কংগ্রেস নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আয়েশা ওয়াহাব উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মেলিসা হার্নান্দেজের চেয়ে তিনি উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আছেন, ফলে পূর্ণ মেয়াদে কংগ্রেসের আসনটি ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে ওয়াহাব ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হার্নান্দেজ ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

৩৯ বছর বয়সী আয়েশা ওয়াহাব আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান। এর আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের আগস্টে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের ছেড়ে যাওয়া আসনের বাকি মেয়াদের দায়িত্ব নেন। ২ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। বর্তমানে তিনি ২০২৭ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

আরও পড়ুন: ব্যাংকক বিমানবন্দরের ট্যাক্সিওয়েতে আটকে গেল এমিরেটসের বিশাল এয়ারবাস এ৩৮০

১৯৮৭ সালের ১১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের কুইন্সে আয়েশা ওয়াহাবের জন্ম। তার শৈশবকাল ছিল বেশ কঠিন। জীবনী অনুযায়ী, বাবাকে হত্যার পর এবং মায়ের মৃত্যুর পর তিনি দত্তক হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠেন। ফ্রেমন্টের কেনেডি হাইস্কুল থেকে ২০০৫ সালে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন।

পরে সান হোসে স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১০ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইস্ট বে থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ২০২৪ সালে ডক্টর অব সোশ্যাল ওয়ার্ক (ডিএসডব্লিউ) ডিগ্রি নেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেছেন।

রাজনীতিতে উত্থান

আয়েশা ওয়াহাবের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার স্থানীয় সরকার থেকে শুরু হয়। ২০১৮ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। এই মাধ্যমেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে পরিচিতি পান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালনের পর ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত হন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি সিনেটের সহকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন: রজার্সের কৌশল ব্যর্থ, ৬০ শতাংশ ইহুদি ভোট এল-সায়েদের পক্ষে

ক্যালিফোর্নিয়া সিনেটে দায়িত্ব পালনকালে ওয়াহাব আবাসনসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয়, ভোক্তা অধিকার ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোতে কাজ করেন। ২০২৩ সালে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করতে একটি বিল উত্থাপন করে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসেন। তবে গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বিলটিতে ভেটো দেন। তার যুক্তি ছিল, বিদ্যমান নাগরিক অধিকার আইনেই এ ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে।

নির্বাচনী অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান

আয়েশা ওয়াহাব এবারের নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়, আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

সিনেটর থাকাকালে অযৌক্তিক অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ, বাজারে মূল্য কারসাজি মোকাবিলা এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য কর-সুবিধা বাড়ানোর মতো বিষয়েও কাজ করেছেন। প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং বড় করপোরেশনের একচেটিয়া প্রভাব নিয়ন্ত্রণের কথাও বলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: যেসব কৌশলে আরো শক্তিশালী হচ্ছেন শি জিনপিং

যে আসনে লড়ছেন

ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের আওতায় রয়েছে হেওয়ার্ড, প্লেজ্যান্টন, লিভারমোর, ইউনিয়ন সিটি ও কাস্ত্রো ভ্যালিসহ ইস্ট বে অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর। এ ছাড়া ফ্রেমন্ট ও ডাবলিনের কিছু এলাকাও এ আসনের অন্তর্ভুক্ত।

সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। ২০২৬ সালের আগস্টে বিশেষ নির্বাচনে মেলিসা হার্নান্দেজকে হারিয়ে ওয়াহাব ওই আসনের বাকি মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। এবার একই প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে পূর্ণ মেয়াদের নির্বাচনে লড়ছেন তিনি।

প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ওয়াহাবের জয় অনেকটাই সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে। তবে ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ভিয়েতনাম কি জিডিপিতে ইন্দোনেশিয়ার পর থাইল্যান্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে?

সূত্র: কিউইডি, সিবিএস নিউজ, এবিসি৭, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ইতিহাস ও আর্কাইভ এবং প্রতিনিধি পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা, নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের নেতারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী তিনটি দাবি তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, দেশের ছয় লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

জোটের প্রথম দাবি হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য অবিলম্বে বদলি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। নেতাদের মতে, নিজ জেলা বা এলাকার বাইরে চাকরি করার কারণে অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। অনেকেই স্ত্রী-সন্তান ও অসুস্থ মা-বাবাকে রেখে দূরবর্তী এলাকায় চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, "আমিও নিজ পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার এবং নিজ বাড়ি থেকে ১৬৯ কিলোমিটার দূরে চাকরি করছি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, পারিবারিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, বদলি কোনো বিলাসিতা নয়; বরং এটি শিক্ষকদের মানবিক ও পারিবারিক অধিকার। তাই আর বিলম্ব না করে বদলির আদেশ জারি করতে হবে।

দ্বিতীয় দাবি হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে। জোটের নেতারা জানান, একই ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দায়িত্ব ও পেশাগত মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় তাদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আজিজী জানান, গত ৩১ অক্টোবর দেশের শতাধিক জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একইভাবে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে এখনো কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি। জোটের সদস্য সচিব দ্রুত এসব শিক্ষকের জন্যও অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানোর দাবি জানান। তাঁর মতে, শুধু উদ্যোগ নিলেই হবে না, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

জোটের তৃতীয় দাবি হলো, আগামী ঈদুল ফিতর থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা দিতে হবে। বর্তমানে তারা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। নেতারা এটিকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বলেন, ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পারিবারিক উৎসবেও শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তারা আগামী ঈদ থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা চালুর সুস্পষ্ট ঘোষণা চান।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানো এবং রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় চলমান শ্রমিক আন্দোলনসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন করা হয়েছে।

নেতারা জানান, শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রেসক্লাবের সামনের কর্মসূচির পরিবর্তে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে এতে আন্দোলন স্থগিত করা হয়নি। তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, তারা সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন করছেন না। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা এবং ছয় লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। তারা কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চান না; বরং আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক সমাধান প্রত্যাশা করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে জোটের নেতারা সরকারের প্রতি দ্রুত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তারা বলেন, "শুধু আশ্বাস কিংবা অনির্দিষ্ট সময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর সন্তুষ্ট রাখা যাবে না।" আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জোটের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বিক্ষোভ, ভারতীয় ট্রাকের জটের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বিক্ষোভ, ভারতীয় ট্রাকের জটের আশঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অযৌক্তিক হয়রানির বিরুদ্ধে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারীরা ২য় দিনের মতো কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা কাস্টমস সুপারের নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা করেছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

এ পরিস্থিতিতে বন্দরে ভারতীয় ট্রাকের জট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি বুধবার বিকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। কর্মবিরতির কারণে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের জট সৃষ্টি হয়েছে। যদি কর্মবিরতি চলতে থাকে, তবে বৃহস্পতিবার ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ সমাবেশে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ওয়াসিম আকরামসহ অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেছেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা তুচ্ছ বিষয়গুলোতে এবং বিনা কারণে কর্মচারীদের ওপর হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন।

কোনো ভুলত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছেমতো কার্ড আটকে রাখা, ফাইল সাবমিট করার পর বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা এবং আগে না জানিয়ে হঠাৎ করে নতুন নতুন আইন দেখিয়ে প্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানি করার মতো ঘটনা ঘটছে। এছাড়া কর্মচারীদের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার চরম আকার ধারণ করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। বিশেষ করে কাস্টমস সুপার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা জানান, তিনি তুচ্ছ অজুহাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করছেন এবং যাত্রীদের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করেন। রাতে দীর্ঘ সময় অফিসে এসি চালিয়ে রাখা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত ট্যাক্স বা জরিমানা আদায়ের মতো হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তিনি। আন্দোলনকারীরা আরও জানান, বিগত দিনে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই তারা স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে এলেও বর্তমান কর্মকর্তার একক সিদ্ধান্ত ও খামখেয়ালিপনার কারণে বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

একজন আমদানিকারকের ২০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থাকলে কোনো কারণ ছাড়াই পণ্য চেকিং এর নামে সবগুলো গাড়ি পানামার ভেতর আনলোড করার জন্য নির্দেশনা জারি করে। এর ফলে পণ্য খালাসের বাড়তি খরচ ওই আমদানিকারক ও সিএনএফ এজেন্টকে বহন করতে হয়। অবিলম্বে এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি এখানে নতুন এসেছেন। কারও সঙ্গে অশালীন বা খারাপ আচরণ করা হয় কিনা তা তার জানা নেই। সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মচারীরা কী কারণে আন্দোলন করছেন তা জানার জন্য তাদের আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও তারা প্রত্যাখ্যান করায় আন্দোলনের কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কারো ফাইল আটকে রাখা বা কাউকে হয়রানি করার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

তিনি আরও জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরটি চোরাচালানের এলাকা হওয়ায় প্রয়োজনে কাস্টমস কর্মকর্তারা দিন-রাত এখানে অবস্থান করতে পারেন, এটা আইনের পরিপন্থি নয়।

এদিকে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল হোসেন জানান, কর্মবিরতি চলার কারণে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের জটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সারাদিনে ভারত থেকে ৩৬০টি পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাক বা ভারতীয় কোনো খালি ট্রাক বন্দর থেকে বের হয়নি। কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে বৃহস্পতিবার ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য মেলার আয়োজনের ঘোষণা প্রধান তথ্য কমিশনারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য মেলার আয়োজনের ঘোষণা প্রধান তথ্য কমিশনারের

ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তথ্য মেলা’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্য অধিকার চর্চাকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে, এমনটি জানিয়েছেন প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান।

আজ ঢাকায় তথ্য কমিশন বাংলাদেশের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এই তথ্য প্রদান করেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তথ্য মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা, কর্মপরিধি ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এনজিওগুলোর সম্ভাব্য সহযোগিতা, অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়, যা তথ্য অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তথ্য মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অধিকার বিষয়ক স্টল স্থাপন, প্রকাশনা, পোস্টার, লিফলেট ও বুকলেট প্রদর্শন এবং ভিডিও, নাটিকা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি, তথ্য চেয়ে আবেদন করার পদ্ধতি ও আবেদন ফরম পূরণে ব্যবহারিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, আপিল ও অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বাস্তব ধারণা দেওয়ার মাধ্যমে তথ্য অধিকার চর্চাকে সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান তথ্য কমিশনার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক এ তথ্য মেলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তথ্য অধিকার সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াবে। একই সঙ্গে, তথ্যভিত্তিক, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ গঠনে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মতবিনিময় সভায় তথ্য কমিশনার এস, এ, এম মাহফুজুর রহমান, খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন এবং কমিশনের সচিব মো. শাহ আলমও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোহাগাড়ায় চুরি আড়াল করতে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


লোহাগাড়ায় চুরি আড়াল করতে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ

চুরির ঘটনা আড়াল করতে আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার স্ত্রী থানায় স্বামীকে অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন। তবে পুলিশের তদন্তে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তার বসতঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা মূল্যের ক্যামেরা ও সরঞ্জাম।

বুধবার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. রেদুয়ানুল হক। গত সোমবার লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা এলাকার আওয়ার পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তিনি জানান, গত ৯ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের প্রথম তলায় ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ নামের একটি দোকান বন্ধ করে বাইরে যান মালিক বাবলু পাল। পরদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকানে ফিরে তিনি দেখেন, স্লাইডিং গ্লাসের দরজার তালা খোলা। দোকান থেকে চুরি হয়েছে মূল্যবান ক্যামেরা ও সরঞ্জাম।

চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল তিনটি সনি আলফা-৭ মার্ক থ্রি ক্যামেরা, একটি সনি আলফা-৭সি ক্যামেরা, বিভিন্ন মডেলের আটটি ক্যামেরার লেন্স, দুটি ব্যাটারি ও একটি চার্জার। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য আট লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

এদিকে ঘটনার দুদিন পর ১২ অক্টোবর রেদুয়ানুলের স্ত্রী রেশমী আক্তার থানায় অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে।

পুলিশ জানায়, চুরি ও কথিত অপহরণের অভিযোগ দুটি পাওয়ার পর পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করা হয়। একপর্যায়ে মোস্তফা সিটি মার্কেটের ওয়েডিং ফটোগ্রাফি দোকানসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চুরির ঘটনায় রেদুয়ানুলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এতে তার অপহরণের অভিযোগ নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রেদুয়ানুল চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির ঘটনা আড়াল করে তদন্ত অন্যদিকে নিতে আত্মগোপনে থেকে স্ত্রীকে দিয়ে অপহরণের অভিযোগ করানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%