শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৫ এম
চাকরি পাওয়ার আশায় যোগাযোগ শুরু হয় বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ্লিকেশন টেলিগ্রামে। এরপর কমিশনের লোভ, একের পর এক অনলাইন অর্ডার এবং অ্যাকাউন্টে মুনাফার অঙ্ক দেখানো হতে থাকে। মুনাফা তুলতে গেলেই সামনে আসত নতুন নতুন অজুহাত, ফলে দিতে হতো আরও টাকা।
এভাবে চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এই অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জুলহাস উদ্দিন (৩৯) ও প্রহড় (২৮) রয়েছেন। এ নিয়ে এই চক্রের মোট ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হলো। শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উলস্নাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, গত বছরের ২৪ আগস্ট মেহেদি হক নিয়নকে টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি আইডি থেকে জ্যালস জুয়েলারি নামের প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট দেখে চাকরিতে আগ্রহী হন তিনি। এরপরই শুরু হয় প্রতারণার মূল কৌশল। চক্রটি একটি ফিশিং লিংকের মাধ্যমে তাকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করে। প্রথমে সেখানে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্ন করলে কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কমিশন পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর আস্থা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, পরবর্তী ধাপে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। একপর্যায়ে জানানো হয়, বিভিন্ন রাউন্ডে মোট ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি অর্ডারের সঙ্গে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে মুনাফার অঙ্ক দেখানো হত। ফলে তার কাছে মনে হচ্ছিল, বিনিয়োগ করা টাকা দ্রুতই লাভসহ ফেরত পাওয়া যাবে। কিন্তু টাকা উত্তোলনের সময়ই পাল্টে যেত চক্রটির কৌশল।
মুনাফার টাকা তুলতে হলে আরও অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে, দিতে হবে অতিরিক্ত অর্থ, এমন নানা অজুহাতে দফায় দফায় টাকা চাওয়া হয়। চক্রটির কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিকবার টাকা পাঠান নিয়ন। এভাবে শেষ পর্যন্ত তার কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
বিশেষ পুলিশ সুপার ছুফি উলস্নাহ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পল্টন থানায় একটি মামলা করেন নিয়ন। পরে তদন্তের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরই মধ্যে এই চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মামলার ১৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় প্রহড়কে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় আমন মৌসুমে ধান রোপণের কাজ শেষের দিকে। এরই মধ্যে সারের সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় অনেক কৃষককে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিশেষ করে ডিএপি সার বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সার কোথাও কোথাও ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এদিকে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের মধ্যে সার সরবরাহ ও বণ্টন নিয়ে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও করছেন কৃষকরা। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সার সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দৈনিক যুগান্তরের পক্ষ থেকে আসমা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সার বারহাট্টা সর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মহিম উদ্দিনের গোডাউনে রাখা হয়েছে কেন—এ বিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান পত্রিকার বারহাট্টা প্রতিনিধি।
এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, আসমা ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার সেলিমের কাছে টাকা না থাকায় চলতি মাসের সার মহিম উদ্দিন কিনেছেন।
পরে জানতে চাওয়া হয়, আসমা ইউনিয়নের কৃষকরা যদি নিজ ইউনিয়নে সার না পেয়ে বারহাট্টা সদর ইউনিয়নে এসে যানবাহন ভাড়া করে সার কিনতে বাধ্য হন, তাহলে এতে কৃষকদের বাড়তি ভোগান্তি ও খরচের বিষয়টি কীভাবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এক ইউনিয়নের ডিলারের জন্য বরাদ্দ করা সার অন্য ইউনিয়নের ডিলার কিনতে পারেন কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে চান তিনি।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা। এ সংক্রান্ত বক্তব্যের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
এ সময় কৃষি অফিসের কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান কৃষি কর্মকর্তার সামনে সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহ করতে আসতে পারবেন না বলে নিষেধ করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকের উপর চড়াও হন এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এক ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সার অন্য ইউনিয়নের ডিলার কেনার বিষয় এবং এতে কৃষকদের ভোগান্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি কৃষি বিভাগের আওতাধীন। এ বিষয়ে তিনি সাক্ষাতে কথা বলবেন।
সাংবাদিকরা কৃষি অফিসে তথ্য জানতে গিয়ে খারাপ আচরণের শিকার হওয়ার বিষয়টি ইউএনওকে জানালে তিনি প্রতিবেদককে আগামী রোববার অফিসে এসে এ বিষয়ে কথা বলতে বলেন।
এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, আমন মৌসুমে প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়া এবং বেশি দামে সার কিনতে হওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থে সার সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সার সংকট, ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দের সার অন্যত্র রাখা এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে কৃষি বিভাগের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও কার্যকর পদক্ষেপ চান ভুক্তভোগী কৃষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, মূল্যায়ন ও বদলি নিয়ে নানা অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোমনাথ মন্ডলের পুনঃসংযুক্তি ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তাঁর কথিত রাজনৈতিক ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, অতীতের প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং বদলি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এনে বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
সরকারি নথিতে সোমনাথ মন্ডলকে আইডি নম্বর ১০৫৬১-সহ সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) এবং বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব (প্রেষণ) হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় সোমনাথ মন্ডলের তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে ৩ আগস্ট বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জন্য খাবারের আয়োজন ও আর্থিক সহযোগিতার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নথি এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএম কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রশ্ন, জুলাই আন্দোলনের সময় যেসব শিক্ষার্থী রাজপথে ছিলেন, তাঁদের কেউ আহত হয়েছেন, কেউ মামলার মুখোমুখি হয়েছেন—সেই প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এমন একজন শিক্ষককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো প্রশাসন যাচাই করেছে কি না।
এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য,
কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হেয় করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন।”
অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ও বর্তমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট করা উচিত।
সোমনাথ মন্ডলের বিরুদ্ধে বিএম কলেজে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর প্রদানে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে ইনকোর্স পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছিল। এমনকি একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।
তবে ওই নোটিশের কপি, তারিখ ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাচাই না করে অভিযোগটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
সোমনাথ মন্ডলের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষককে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে হয়রানি বা বদলির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর প্রভাবের কারণে কয়েকজন শিক্ষক প্রশাসনিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সোমনাথ মন্ডলকে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে বদলি এবং পরবর্তীতে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছিল।
এ বদলির কারণ কী ছিল এবং সেগুলো প্রশাসনিক না কি শাস্তিমূলক—তা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোমনাথ মন্ডলকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে রেখে বিএম কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এরপর তিনি বিএম কলেজে যোগ দিয়ে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিএম কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটিকে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
তাঁর পুনঃসংযুক্তি ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পরই অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এনে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষককে হয়রানি করা যেমন কাম্য নয়, তেমনি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে সেগুলো যাচাই না করেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।
তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হোক। তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।
সোমনাথ মন্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, জুলাই আন্দোলনের সময়কার ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং বদলি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে তাঁকে বিএম কলেজে পুনঃসংযুক্ত করা এবং ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা।
তালাশ বিডির পক্ষ থেকে সোমনাথ মন্ডলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের ডাসারে ইতালি প্রবাসীর ৬০ শতাংশ জমির ধান বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই বিঘা জমির ধান দিয়ে পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর স্বপ্ন ভেঙে গেছে ভুক্তভোগী পরিবারের।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর ধূয়াসার মৌজায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক ইতালি প্রবাসী মেনাজুল আকনের স্ত্রী মিম আক্তার। অভিযুক্ত ইব্রাহিম মাতুব্বর দক্ষিণ ধূয়াসার এলাকার মানিক মাতুব্বরের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পরদিন সকালে মিম আক্তার জমিতে গিয়ে দেখেন, বিষাক্ত কীটনাশকের প্রভাবে পুরো ধানক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের শীষ বের হওয়ার আগেই ফসল নষ্ট হওয়ায় পরিবারটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মিম আক্তারের দাবি, ইব্রাহিম মাতুব্বরের সঙ্গে তাদের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। এমনকি অভিযুক্তের জমিও তাদের জমির সংলগ্ন নয়। কারও প্ররোচনা বা লোভে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি ডাসার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ফসল নষ্টের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান মাহমুদ বলেন, “এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রচারণার কোনো কোনো বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও যাচাই-বাছাই ছাড়াই তা ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগে মোস্তাফিজুর রহমান বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সর্বশেষ তাঁকে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকা রেঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়নের পর ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট, মন্তব্য ও অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। এর মধ্যে কিছু পোস্টে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে, আবার কিছু পোস্টে তাঁর দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করা হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব বক্তব্যের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন তথ্য নেই। ফলে কোনো পোস্ট বা অনলাইন বক্তব্যকে সরাসরি প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে গ্রহণের সুযোগ নেই।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে মূল প্রশ্ন এখানেই—যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তার উৎস কী? অভিযোগের পক্ষে নথি বা প্রমাণ কোথায়? আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যই বা কী?
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমান চলতি বছরের মার্চে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে জুলাইয়ে তাঁকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বরিশাল রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন পুলিশি কার্যক্রম নিয়ে তাঁর তদারকির কথা সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে।
এসব তথ্য অবশ্যই তাঁর সরকারি দায়িত্ব পালনের নথিভুক্ত কর্মকাণ্ডের অংশ; এগুলোর ভিত্তিতে ব্যক্তিগত চরিত্র বা সততার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়।
তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান প্রচারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, আমি আমার দায়িত্ব সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে যাব এবং বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া প্রত্যেকটি দায়িত্ব যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যা যা করা দরকার, সেটা করব।
নিজেকে নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপপ্রচারকারীরা কী অপপ্রচার করে, তা দেখার সময় আমার নেই। আমি আমার কাজ নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সার্ভিসে আমি যদি ভালো কাজ করি, আমি অবশ্যই ভালো প্রতিদান পাব। আর যদি কোনো অন্যায় করি, সেটাও বাংলাদেশ সরকার দেখবে। ভালো কাজের হিংসা করে যদি কেউ কিছু লেখে, সে বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।
কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পোস্ট, ফেসবুক আইডি কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বক্তব্য একা কোনো অভিযোগের প্রমাণ নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নথি, প্রত্যক্ষ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অবস্থান।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অনলাইনে প্রচারিত প্রতিটি অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এসব প্রচারণার নেপথ্যে দায়ী করার মতো যাচাইযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।
একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তার নথি ও প্রমাণ সামনে আসা প্রয়োজন। আবার কোনো অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সেটিও পাঠকের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
তালাশ বিডির নীতি—প্রচার নয়, প্রমাণ; অভিযোগ নয়, যাচাই; আর একতরফা বক্তব্য নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে প্রচারিত কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের পক্ষে নতুন নথি বা যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যসহ প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ