ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ, বিএম কলেজে সোমনাথ মন্ডলের যোগদান ঘিরে তোলপাড়


জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ, বিএম কলেজে সোমনাথ মন্ডলের যোগদান ঘিরে তোলপাড়

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, মূল্যায়ন ও বদলি নিয়ে নানা অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোমনাথ মন্ডলের পুনঃসংযুক্তি ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তাঁর কথিত রাজনৈতিক ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, অতীতের প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং বদলি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এনে বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

সরকারি নথিতে সোমনাথ মন্ডলকে আইডি নম্বর ১০৫৬১-সহ সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) এবং বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব (প্রেষণ) হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায়।


অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় সোমনাথ মন্ডলের তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে ৩ আগস্ট বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জন্য খাবারের আয়োজন ও আর্থিক সহযোগিতার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নথি এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে কুমারী পূজা পরিদর্শনে কায়সার কামাল, দিলেন সম্প্রীতি ও শিক্ষার বার্তা


বিএম কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রশ্ন, জুলাই আন্দোলনের সময় যেসব শিক্ষার্থী রাজপথে ছিলেন, তাঁদের কেউ আহত হয়েছেন, কেউ মামলার মুখোমুখি হয়েছেন—সেই প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এমন একজন শিক্ষককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো প্রশাসন যাচাই করেছে কি না।

এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য,
কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হেয় করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন।”

অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ও বর্তমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট করা উচিত।


সোমনাথ মন্ডলের বিরুদ্ধে বিএম কলেজে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর প্রদানে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে ইনকোর্স পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছিল। এমনকি একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।

তবে ওই নোটিশের কপি, তারিখ ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাচাই না করে অভিযোগটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।


সোমনাথ মন্ডলের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষককে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে হয়রানি বা বদলির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর প্রভাবের কারণে কয়েকজন শিক্ষক প্রশাসনিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সোমনাথ মন্ডলকে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে বদলি এবং পরবর্তীতে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছিল।

এ বদলির কারণ কী ছিল এবং সেগুলো প্রশাসনিক না কি শাস্তিমূলক—তা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোমনাথ মন্ডলকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে রেখে বিএম কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এরপর তিনি বিএম কলেজে যোগ দিয়ে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিএম কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটিকে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

তাঁর পুনঃসংযুক্তি ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পরই অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এনে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

আরও পড়ুন: আবু তাহের তালুকদারের নেতৃত্বে পূর্বধলায় ৬৬ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক সহায়তা

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষককে হয়রানি করা যেমন কাম্য নয়, তেমনি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে সেগুলো যাচাই না করেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।

তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হোক। তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।


সোমনাথ মন্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, জুলাই আন্দোলনের সময়কার ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং বদলি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে তাঁকে বিএম কলেজে পুনঃসংযুক্ত করা এবং ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা।

তালাশ বিডির পক্ষ থেকে সোমনাথ মন্ডলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধানের শীষ আসার আগেই বিষে পুড়ল ৬০ শতাংশ ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাওন বল, মাদারীপুর

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ এম


ধানের শীষ আসার আগেই বিষে পুড়ল ৬০ শতাংশ ধান

মাদারীপুরের ডাসারে ইতালি প্রবাসীর ৬০ শতাংশ জমির ধান বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই বিঘা জমির ধান দিয়ে পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর স্বপ্ন ভেঙে গেছে ভুক্তভোগী পরিবারের।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর ধূয়াসার মৌজায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক ইতালি প্রবাসী মেনাজুল আকনের স্ত্রী মিম আক্তার। অভিযুক্ত ইব্রাহিম মাতুব্বর দক্ষিণ ধূয়াসার এলাকার মানিক মাতুব্বরের ছেলে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পরদিন সকালে মিম আক্তার জমিতে গিয়ে দেখেন, বিষাক্ত কীটনাশকের প্রভাবে পুরো ধানক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের শীষ বের হওয়ার আগেই ফসল নষ্ট হওয়ায় পরিবারটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মিম আক্তারের দাবি, ইব্রাহিম মাতুব্বরের সঙ্গে তাদের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। এমনকি অভিযুক্তের জমিও তাদের জমির সংলগ্ন নয়। কারও প্ররোচনা বা লোভে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি ডাসার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ফসল নষ্টের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান মাহমুদ বলেন, “এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ, দায়িত্বের শুরুতেই কেন এই প্রচারণা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ এম


ঢাকা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ, দায়িত্বের শুরুতেই কেন এই প্রচারণা?

বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রচারণার কোনো কোনো বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও যাচাই-বাছাই ছাড়াই তা ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এর আগে মোস্তাফিজুর রহমান বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সর্বশেষ তাঁকে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়।


ঢাকা রেঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়নের পর ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট, মন্তব্য ও অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। এর মধ্যে কিছু পোস্টে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে, আবার কিছু পোস্টে তাঁর দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব বক্তব্যের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন তথ্য নেই। ফলে কোনো পোস্ট বা অনলাইন বক্তব্যকে সরাসরি প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে গ্রহণের সুযোগ নেই।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে মূল প্রশ্ন এখানেই—যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তার উৎস কী? অভিযোগের পক্ষে নথি বা প্রমাণ কোথায়? আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যই বা কী?


প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমান চলতি বছরের মার্চে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে জুলাইয়ে তাঁকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

খুলনা রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বরিশাল রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন পুলিশি কার্যক্রম নিয়ে তাঁর তদারকির কথা সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে।

এসব তথ্য অবশ্যই তাঁর সরকারি দায়িত্ব পালনের নথিভুক্ত কর্মকাণ্ডের অংশ; এগুলোর ভিত্তিতে ব্যক্তিগত চরিত্র বা সততার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়।


তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান প্রচারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, আমি আমার দায়িত্ব সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে যাব এবং বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া প্রত্যেকটি দায়িত্ব যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যা যা করা দরকার, সেটা করব।

নিজেকে নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপপ্রচারকারীরা কী অপপ্রচার করে, তা দেখার সময় আমার নেই। আমি আমার কাজ নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সার্ভিসে আমি যদি ভালো কাজ করি, আমি অবশ্যই ভালো প্রতিদান পাব। আর যদি কোনো অন্যায় করি, সেটাও বাংলাদেশ সরকার দেখবে। ভালো কাজের হিংসা করে যদি কেউ কিছু লেখে, সে বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।


কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পোস্ট, ফেসবুক আইডি কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বক্তব্য একা কোনো অভিযোগের প্রমাণ নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নথি, প্রত্যক্ষ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অবস্থান।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অনলাইনে প্রচারিত প্রতিটি অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এসব প্রচারণার নেপথ্যে দায়ী করার মতো যাচাইযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।


একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তার নথি ও প্রমাণ সামনে আসা প্রয়োজন। আবার কোনো অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সেটিও পাঠকের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

তালাশ বিডির নীতি—প্রচার নয়, প্রমাণ; অভিযোগ নয়, যাচাই; আর একতরফা বক্তব্য নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ।

ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে প্রচারিত কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের পক্ষে নতুন নথি বা যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যসহ প্রকাশ করা হবে।

তালাশ বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের চাচা শ্বশুর কাওসার হোসেন শিপন গ্রেপ্তার, শেষ রক্ষা হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ এম


বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের চাচা শ্বশুর কাওসার হোসেন শিপন গ্রেপ্তার, শেষ রক্ষা হলো

 

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও রূপাতলী বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানা।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হাউজিং এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাওসার হোসেন শিপনের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান শুরু করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল। দীর্ঘ সময় কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রূপাতলী হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় কাওসার হোসেন শিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।


কাওসার হোসেন শিপন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রূপাতলী বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। এ প্রভাবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার অনুসারীদের সঙ্গে সাবেক কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদের অনুসারীদের বিরোধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


কাওসার হোসেন শিপনের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি বরিশালের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে কাওসার হোসেন শিপনের পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাওসার হোসেন শিপন জিয়া উদ্দিন সিকদারের চাচা শ্বশুর এবং জিয়া উদ্দিন সিকদার কাওসার হোসেন শিপনের বড় ভাই মো. ফিরোজ আহমেদের মে জামাই।

এই পারিবারিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর কাওসার হোসেন শিপন দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থেকেও কীভাবে নিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা ছিল।


এদিকে, কাওসার হোসেন শিপনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর কোনো মামলা হয়নি—এমন দাবিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় থাকলেও পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে তা মেলে না। পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন এবং সেই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


তিনি জানান,কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) অলক কান্তি শর্মা, (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম ও ওসি তদন্ত লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কাওসার হোসেন শিপনকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তবে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর সুনির্দিষ্ট নম্বর, ধারাসমূহ এবং মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে তালাশ বিডি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ এম


আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নামাজ ইসলাম ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইমানের পর নামাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসাবে গণ্য করা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের বিভিন্ন নফল সালাতেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

হাদিসের আলোকে, নামাজ মুমিন এবং অমুসলিমের মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য নির্দেশ করে। এটি মানুষের সকল প্রকার পাপ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করে। তাই, প্রতিটি মুসলিমের জন্য দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যথাসময়ে নামাজ আদায় করা একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সাল, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা, ০৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ:

ফজর- ভোর ৪: ৩২ মিনিট

জুমা- দুপুর ১১: ৫৬ মিনিট

আসর- দুপুর ৪: ১৭ মিনিট

মাগরিব- সন্ধ্যা ৬: ০৩ মিনিট

এশা- রাত ৭: ১৬ মিনিট

ফজর- ভোর ৪: ৩২ মিনিট (২০ সেপ্টেম্বর)

নামাজ আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%