প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রচারণার কোনো কোনো বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও যাচাই-বাছাই ছাড়াই তা ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগে মোস্তাফিজুর রহমান বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সর্বশেষ তাঁকে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকা রেঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়নের পর ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট, মন্তব্য ও অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। এর মধ্যে কিছু পোস্টে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে, আবার কিছু পোস্টে তাঁর দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করা হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব বক্তব্যের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন তথ্য নেই। ফলে কোনো পোস্ট বা অনলাইন বক্তব্যকে সরাসরি প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে গ্রহণের সুযোগ নেই।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে মূল প্রশ্ন এখানেই—যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তার উৎস কী? অভিযোগের পক্ষে নথি বা প্রমাণ কোথায়? আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যই বা কী?
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমান চলতি বছরের মার্চে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে জুলাইয়ে তাঁকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বরিশাল রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন পুলিশি কার্যক্রম নিয়ে তাঁর তদারকির কথা সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে।
এসব তথ্য অবশ্যই তাঁর সরকারি দায়িত্ব পালনের নথিভুক্ত কর্মকাণ্ডের অংশ; এগুলোর ভিত্তিতে ব্যক্তিগত চরিত্র বা সততার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়।
তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান প্রচারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, আমি আমার দায়িত্ব সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে যাব এবং বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া প্রত্যেকটি দায়িত্ব যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যা যা করা দরকার, সেটা করব।
নিজেকে নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপপ্রচারকারীরা কী অপপ্রচার করে, তা দেখার সময় আমার নেই। আমি আমার কাজ নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সার্ভিসে আমি যদি ভালো কাজ করি, আমি অবশ্যই ভালো প্রতিদান পাব। আর যদি কোনো অন্যায় করি, সেটাও বাংলাদেশ সরকার দেখবে। ভালো কাজের হিংসা করে যদি কেউ কিছু লেখে, সে বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।
কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পোস্ট, ফেসবুক আইডি কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বক্তব্য একা কোনো অভিযোগের প্রমাণ নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নথি, প্রত্যক্ষ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অবস্থান।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অনলাইনে প্রচারিত প্রতিটি অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এসব প্রচারণার নেপথ্যে দায়ী করার মতো যাচাইযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।
একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তার নথি ও প্রমাণ সামনে আসা প্রয়োজন। আবার কোনো অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সেটিও পাঠকের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
তালাশ বিডির নীতি—প্রচার নয়, প্রমাণ; অভিযোগ নয়, যাচাই; আর একতরফা বক্তব্য নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে প্রচারিত কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের পক্ষে নতুন নথি বা যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যসহ প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন