প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, মূল্যায়ন ও বদলি নিয়ে নানা অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোমনাথ মন্ডলের পুনঃসংযুক্তি ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তাঁর কথিত রাজনৈতিক ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, অতীতের প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং বদলি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এনে বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
সরকারি নথিতে সোমনাথ মন্ডলকে আইডি নম্বর ১০৫৬১-সহ সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) এবং বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব (প্রেষণ) হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় সোমনাথ মন্ডলের তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে ৩ আগস্ট বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জন্য খাবারের আয়োজন ও আর্থিক সহযোগিতার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নথি এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএম কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রশ্ন, জুলাই আন্দোলনের সময় যেসব শিক্ষার্থী রাজপথে ছিলেন, তাঁদের কেউ আহত হয়েছেন, কেউ মামলার মুখোমুখি হয়েছেন—সেই প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এমন একজন শিক্ষককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো প্রশাসন যাচাই করেছে কি না।
এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য,
কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হেয় করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন।”
অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ও বর্তমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট করা উচিত।
সোমনাথ মন্ডলের বিরুদ্ধে বিএম কলেজে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর প্রদানে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে ইনকোর্স পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছিল। এমনকি একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।
তবে ওই নোটিশের কপি, তারিখ ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাচাই না করে অভিযোগটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
সোমনাথ মন্ডলের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষককে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে হয়রানি বা বদলির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর প্রভাবের কারণে কয়েকজন শিক্ষক প্রশাসনিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সোমনাথ মন্ডলকে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে বদলি এবং পরবর্তীতে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছিল।
এ বদলির কারণ কী ছিল এবং সেগুলো প্রশাসনিক না কি শাস্তিমূলক—তা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোমনাথ মন্ডলকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে রেখে বিএম কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এরপর তিনি বিএম কলেজে যোগ দিয়ে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিএম কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটিকে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
তাঁর পুনঃসংযুক্তি ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পরই অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এনে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষককে হয়রানি করা যেমন কাম্য নয়, তেমনি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে সেগুলো যাচাই না করেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।
তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হোক। তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।
সোমনাথ মন্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, জুলাই আন্দোলনের সময়কার ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং বদলি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে তাঁকে বিএম কলেজে পুনঃসংযুক্ত করা এবং ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা।
তালাশ বিডির পক্ষ থেকে সোমনাথ মন্ডলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন