০৫:০৪ পি.এম
দুর্গোৎসবের আনন্দ এখনো শেষ হয়নি। আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে লক্ষ্মীপূজা। তাই গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্মীপূজার প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে প্রতিমার হাট জমে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাটে ক্রেতারা প্রতিমা ও পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে ভিড় করছেন। অন্যদিকে, মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তথ্য অনুসারে, রবিবার (২৫ অক্টোবর) লক্ষ্মীপূজা শুরু হতে যাচ্ছে, তাই গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমার হাট এখন জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও আশ্বিন মাসের কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করবেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। ঘরে ঘরে মণ্ডপ তৈরি করে দেবীর প্রতিমা বসানো হবে। পূজামণ্ডপ ও আঙিনা ঢাক-ঢোল ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
পূজার তিথি অনুযায়ী, কোজাগরী পূর্ণিমা রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে শুরু হবে এবং শেষ হবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে।
লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জ শহরের খাটরা সার্বজনীন কালীবাড়ী, বেদগ্রাম, ঘোনাপাড়া, সাতপাড়, বৌলতলী, গান্ধিয়াশুর বাজার, কাশিয়ানীর সিংগা, রাহুথর বাজার, রামদিয়া, কাশিয়ানী সদর, কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া ও মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে লক্ষ্মী প্রতিমার হাট বসেছে।
হাটে প্রতিমার পাশাপাশি পূজার নানা উপকরণও পাওয়া যাচ্ছে। সোলার ফুল, নৌকা, কলাগাছ, মালা, নলডুগলি লতা, হলুদগাছ, পদ্মফুলসহ বিভিন্ন সামগ্রী সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। আকার ও মানভেদে ছোট প্রতিমার দাম ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বড় ও কারুকার্যখচিত প্রতিমার দাম দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
প্রতিমার উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। ফলে তাদের প্রতিমা বিক্রির মূল্য আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রতিমাশিল্পী নেপাল পাল জানান, উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে। তাই বিক্রয়মূল্যও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
এদিকে, প্রতিমার হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। অনেকেই বাড়িতে পূজার আয়োজন করতে হাটে ঘুরছেন; পছন্দের প্রতিমা দেখে দরদাম করে কিনছেন। সাধ্যের মধ্যে প্রতিমা কেনার পাশাপাশি একই জায়গা থেকে পূজার উপকরণ সংগ্রহ করতে পারায় ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করছেন।
গোপালগঞ্জ শহরের বটতলা রোডের বাসিন্দা প্রিয়ম মণ্ডল বলেন, ‘আড়াই শ টাকা দিয়ে প্রতিমা কিনেছি মায়ের পূজা করব বলে। মা আমাদের সবাইকে ভালো রাখবেন, এই আশায় পূজার আয়োজন করছি।’
দুর্গাপূজার পর কোজাগরী পূর্ণিমায় বাঙালি হিন্দু পরিবারে লক্ষ্মীপূজা পালিত হয়। সংসারে সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নতির জন্য দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন ভক্তরা।
‘কোজাগরী’ শব্দটি সংস্কৃত ‘কো জাগর্তি’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘কে জেগে আছো?’ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূর্ণিমা রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে পরিভ্রমণ করেন এবং যারা জেগে থেকে তার আরাধনা করেন, তাদের আশীর্বাদ করেন। তাই কোজাগরী পূর্ণিমায় রাত জেগে দেবীর পূজা করার রীতি প্রচলিত।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন