জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৯:৫০ পি.এম
বালিয়াকান্দি উপজেলার নিশ্চিন্তপুর পূর্বপাড়া ও বাহিরচর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার।
মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে এই কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়।
এদিন, বালিয়াকান্দি থানার ওসি আব্দুর রব তালুকদার নিশ্চিন্তপুর পূর্বপাড়ার ডাবল ব্রিজ এলাকা ও বাহিরচর গ্রামে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি এ সময় মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মতবিনিময়কালে ওসি আব্দুর রব তালুকদার উল্লেখ করেন, অতীতে মানুষ অভাবের কারণে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ত। কিন্তু বর্তমানে মাদকদ্রব্যের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন এবং যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য এলাকাবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক সেবন ও বিক্রির বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্যও তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
মতবিনিময় শেষে, ওসি আব্দুর রব তালুকদার গ্রামের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এসব এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
ওসি জানান, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিশ্চিন্তপুর ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ খোকন সরদার, সাংবাদিক জুয়েল রানা, ফিরোজ আহমেদ, ঝন্টু মোল্লা, তোফাজ্জল মন্ডল, হযরত সরদার, এসআই শামসুল আলম, আলিমুদ্দিন মন্ডল, সঞ্জয় মন্ডলসহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর একান্ত সহকারী রিদওয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েমসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার আনোয়ারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন উপজেলার জুইদণ্ডী এলাকার মো. হাসান। মামলায় ৭৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট ভোরে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকায় বাঁশখালী-চট্টগ্রাম সড়কে একদল লোক ব্যানার ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া এবং সড়কে যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান। এ ঘটনায় মো. সাইমন (২৩) ও রহিম উদ্দিন (৪২) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখিত অন্য আসামিরা হলেন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান (৩২), পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মন্নান (২৮), বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জোনাইদ খান (২৫), বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বোরহান (২৬), আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রুকন উদ্দিন অভি (২৪), সাইফুল ইসলাম শামীম (৪২), মোঃ ফরিদ (৩২), বরুমছড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোঃ ইদ্রিচ (৩৫), বারশত ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন গফুর (৪৮), কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিন (৫৫), দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের রবিউল হায়দার (২৮), রায়পুরের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন শরিফ (৬৫), ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আহাকাম ইবনে জামিলমসহ (৪২) আরও অনেকে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় তিন দশক পর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কুড়িগ্রাম ইউনিটের কার্যনির্বাহী পরিষদের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারিসহ সদস্য পদে জয় পেয়েছেন বিএনপি সমর্থিত ‘শামসুল-মোস্তফা পরিষদ’-এর প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম রেড ক্রিসেন্ট ভবনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামসুল ইসলাম মন্ডল ৪৩৬ ভোট এবং সেক্রেটারি পদে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ৪৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
সদস্য পদেও বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের মো. কফিল উদ্দিন আহমেদ, শফিকুল ইসলাম বেবু, মো. জহরুল আলম, অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব ও হাসান জুবায়ের হিমেল জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনে বিজয়ী সেক্রেটারি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ছিল। সদস্যদের আস্থার মর্যাদা রেখে মানবিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং দুর্যোগ ও বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই নতুন পরিষদের প্রধান লক্ষ্য হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মো. আনোয়ার হোসেন মন্ডল জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা সম্পন্ন হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিশুদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে মেটা। শিশু ও কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আরও নিরাপদ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে করা ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতার অংশ হিসেবে একাধিক নতুন ব্যবস্থা চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, তাদের প্ল্যাটফর্মের নকশা শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে এবং এতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে এরই মধ্যে মেটাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নতুন সমঝোতার আওতায় ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে একাধিক পরিবর্তন আসবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো দৈনিক ব্যবহারের সময়সীমা। শিশু ও কিশোররা প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত থাকবে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা।
সামাজিক তুলনা কমানোর লক্ষ্যেও কিছু পরিবর্তন আনা হবে। শিশুদের অ্যাকাউন্টে লাইক ও রিঅ্যাকশনের সংখ্যা গোপন রাখা হবে। ব্যবহারকারীর চেহারায় পরিবর্তন আনে এমন প্রসাধনী ফিল্টারও ডিফল্টভাবে বন্ধ রাখা হবে। এসব সেটিং পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন হবে।
স্কুল চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি মনোযোগ কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কিশোর ব্যবহারকারীদের কাছে পাঠানো অধিকাংশ পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখবে মেটা।
অভিভাবকদের জন্যও বাড়তি নজরদারির সুযোগ রাখা হচ্ছে। নির্ধারিত অভিভাবক বা অভিভাবকসুলভ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সন্তানের অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন সেটিং আরও বিস্তৃতভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিবর্তন করতে পারবেন।
সন্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতটা সময় কাটছে, কোন ব্যবহারকারীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং কারা তাদের বার্তা পাঠাচ্ছে, এসব তথ্যও অভিভাবকরা দেখতে পারবেন। কোনো কিশোর প্রথমবার কোনো প্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্টে বার্তা পাঠালে তার অভিভাবককে দৈনিক নোটিফিকেশন দেওয়া হবে এবং ওই অ্যাকাউন্টের লিংকও পাঠানো হবে।
আত্মহত্যা, আত্মক্ষতি বা খাবারজনিত মানসিক সমস্যাসংক্রান্ত নির্দিষ্ট শব্দ খোঁজা হলেও অভিভাবকদের জানাবে মেটা।
শিশুদের বয়স যাচাই ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নিজেদের প্রযুক্তির পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং বয়স যাচাই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়মিতভাবে বাইরের সংস্থার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।
মেটা অবশ্য কোনো অন্যায় স্বীকার করেনি। তবে সমঝোতার আওতায় প্রতিষ্ঠানটি আগামী ১০ বছরে বিভিন্ন মার্কিন অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং নিউইয়র্ক ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার পেতে পারে। টেক্সাস আলাদাভাবে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সমঝোতায় পৌঁছেছে।
মেটার মোট সমঝোতার অঙ্ক ১৮ বিলিয়ন ডলার বলা হলেও, এর পুরো অর্থ প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে দিতে হবে না। মোট অর্থের প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৭০ শতাংশ আগামী ১০ বছরে পরিশোধ করবে তারা। বাকি প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে তখনই, যখন স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলোও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে অর্থ দিতে সম্মত হবে।
এই পরিবর্তনগুলো ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। আদালত সমঝোতাটি অনুমোদন করার পর চার মাসের মধ্যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয় এমন ফিড চালুর কথা রয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে আরও বিস্তৃত নিয়ম কার্যকর হবে এবং এক বছরের মধ্যে বয়স যাচাইসংক্রান্ত বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নতুন নিয়মগুলো আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। বিশ্বের অন্য দেশেও একই পরিবর্তন আনা হবে কি না, সে বিষয়ে মেটা এখনো স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মেটার বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা ও আসক্তিকর নকশা নিয়ে নিয়মিত তদন্ত করছে। যুক্তরাজ্য আগামী বছর ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে। ব্রাজিলেও শিশুদের অ্যাকাউন্টে অভিভাবকের সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু দৈনিক ব্যবহারের সময় কমিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁদের মতে, অনন্ত স্ক্রল, অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বার্তা, উপহার পাঠানো, লাইভস্ট্রিমিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ফিচারগুলোর অনেকগুলোই এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসেনি।
ফলে মেটার এই সমঝোতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষায় বড় পরিবর্তনের সূচনা করলেও, অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক এখানেই শেষ হচ্ছে না।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাহাবুদ্দিন কামিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষিকা ফারজানার এনটিআরসি সনদ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষিকার এনটিআরসি সনদ ভুয়া বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সনদ পাঠানো হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
শাহাবুদ্দিন কামিল মাদরাসাটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে সহকারী শিক্ষিকা ফারজানার সনদ নিয়ে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনারা যে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন, সেটি সঠিক। আমি নিজেই ওই শিক্ষিকার সনদ যাচাইয়ের জন্য পাঠিয়েছি। কিন্তু এনটিআরসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফারজানার সনদ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”
অধ্যক্ষ আরও জানান, বিষয়টি জানার পর মাদরাসার বর্তমান সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি)-কে অবহিত করা হয়েছে। পরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেজুলেশন করা হয়। এরপর গত দুই মাস ধরে ওই শিক্ষিকার বেতন বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, ফারজানা অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন দিনের ছুটি নিয়েছেন। তবে ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি এখন পর্যন্ত মাদরাসায় যোগদান করেননি।
অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের মাদরাসাটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাঁর কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষিকা ফারজানার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেন। পরে এনটিআরসি সনদ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই সনদটির প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ