ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ভান্ডারিয়ার শাহাবুদ্দিন কামিল মাদরাসার শিক্ষিকার এনটিআরসি সনদ নিয়ে প্রশ্ন

অধ্যক্ষের দাবি, যাচাইয়ে সনদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; দুই মাস ধরে বেতন বন্ধ


অধ্যক্ষের দাবি, যাচাইয়ে সনদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; দুই মাস ধরে বেতন বন্ধ

 


পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাহাবুদ্দিন কামিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষিকা ফারজানার এনটিআরসি সনদ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষিকার এনটিআরসি সনদ ভুয়া বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সনদ পাঠানো হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

শাহাবুদ্দিন কামিল মাদরাসাটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে সহকারী শিক্ষিকা ফারজানার সনদ নিয়ে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

এ বিষয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনারা যে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন, সেটি সঠিক। আমি নিজেই ওই শিক্ষিকার সনদ যাচাইয়ের জন্য পাঠিয়েছি। কিন্তু এনটিআরসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফারজানার সনদ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”

অধ্যক্ষ আরও জানান, বিষয়টি জানার পর মাদরাসার বর্তমান সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি)-কে অবহিত করা হয়েছে। পরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেজুলেশন করা হয়। এরপর গত দুই মাস ধরে ওই শিক্ষিকার বেতন বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, ফারজানা অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন দিনের ছুটি নিয়েছেন। তবে ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি এখন পর্যন্ত মাদরাসায় যোগদান করেননি।

অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের মাদরাসাটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাঁর কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষিকা ফারজানার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেন। পরে এনটিআরসি সনদ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই সনদটির প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কী লাভ, জানালেন তুরস্কের অধ্যাপক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ পি.এম


মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কী লাভ, জানালেন তুরস্কের অধ্যাপক

এক চুক্তিতে তিন দেশ যাকে অনেকে বলছেন ‘মুসলিম ন্যাটো’। সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া কথিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এর সম্ভাব্য সামরিক, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক এবং তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুরাত আসলাম বলেন, এই জোটকে আক্রমণাত্মক সামরিক জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, এর মূল লক্ষ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং সম্মিলিতভাবে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

তিনি বলেন, জোটটির কোনো নির্দিষ্ট শত্রু নেই। সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক অংশীদারিত্বও এর গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও দেশ এতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে তিন দেশকে নিয়ে আলোচনা হলেও সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নামও উঠে এসেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জোটে বাংলাদেশের যোগদান অনেকটাই বর্তমান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আগ্রহ ও আমন্ত্রণের ওপর নির্ভর করবে। আমন্ত্রণ এলে বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজের মতে, এই জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশের জন্য যৌথ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হতে পারে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। বায়রাক্তার ড্রোন ও অটোকার কোবরা ধরনের সামরিক যানসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। সম্ভাব্য জোটের মাধ্যমে এই অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে অধ্যাপক মুরাত আসলাম মনে করেন, একে নতুন কোনো ন্যাটো বলা ঠিক হবে না। কারণ, ন্যাটোর মতো এই জোটের কোনো একক কমান্ড কাঠামো বা সমন্বিত স্থায়ী সেনাবাহিনীর ধারণা এখনো নেই।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি। জোটে পাকিস্তানের উপস্থিতির কারণে ভারত বিষয়টিকে কীভাবে দেখবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত দেখা দিলে বাংলাদেশের ওপর কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, তাই মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সামরিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনীতি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সব মিলিয়ে, জোটটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার জটিল শক্তির ভারসাম্যও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আঞ্চলিক যুদ্ধের শেষ সীমানায় মধ্যপ্রাচ্য, রেহাই পাবে না কেউ: জাতিসংঘে সিরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৫ পি.এম


আঞ্চলিক যুদ্ধের শেষ সীমানায় মধ্যপ্রাচ্য, রেহাই পাবে না কেউ: জাতিসংঘে সিরিয়া

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম ওলাবি অভিযোগ করে বলেছেন, ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়াবহ বিপর্যয় ও আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধ শুরু হলে কেউই রেহাই পাবে না।

সম্প্রতি সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে আটবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর পাশাপাশি সিরিয়ার ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ, অপহরণ, গোলাবর্ষণসহ বিভিন্ন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান ওলাবি।

এদিকে, জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সিরিয়ার মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছেন। দেশটিতে এখনো ৫৫ লাখের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। এর মধ্যে ৮ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ ১,২০০টিরও বেশি শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে স্থলমাইন ও বিস্ফোরকের আঘাতে হতাহত ২,৪০০ জনের বেশি। এদের মধ্যে ৮৬৫ জন নিহত হয়েছেন।

ওলাবি জানান, উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সিরিয়া আন্তরিকভাবে অংশ নিচ্ছে। তবে ইসরায়েল হামলা ও অনুপ্রবেশ বন্ধ না করলে অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।

সিরিয়ায় জাতিসংঘের উপ-দূত ক্লদিও কর্দোনে বলেন, দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়াকে তিনি স্বাগত জানান।

তবে, দারিদ্র্য ও মূল্যস্ফীতি এখনো ব্যাপক এবং অধিকাংশ সিরিয়াবাসীর জীবনযাত্রা কঠিন বলে সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের স্থল অভিযান, বাড়িতে তল্লাশি এবং ব্যক্তিগত ও কৃষিজ সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাও তুলে ধরেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ: রেড ক্রস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৬ পি.এম


নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ: রেড ক্রস

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭৯ জন নিহত এবং ৯৭৭ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার দেশটির দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবারের ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এতে দুই দেশের হিসাবে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৪ জনে। দুই দেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

বন্যায় অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরুরি সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে পড়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (আইএফআরসি)।

বুধবার হিমালয়ের নেপালের লাংটাং ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় একটি বিশাল হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পাথর ও বরফ নেমে এসে নদী ও উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এতে একের পর এক গ্রাম, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়।

আইএফআরসি জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনও পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বন্যার পানির তোড়ে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম মূলত হেলিকপ্টারনির্ভর হয়ে পড়েছে। সংস্থাটির নেপাল প্রতিনিধি ডেভিড ফিশার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ শুরু হলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বন্যার পর উদ্ধার অভিযানও বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সীমান্তের কাছে ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ উপচে পড়ায় ত্রিশুলি নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করে। এতে উদ্ধারকর্মীদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নেপালের বিদুর শহরসহ বেশ কিছু এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ভয়াবহ। বহু বাড়িঘর কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

জাতিসংঘের নেপাল সমন্বয়কারী লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, বন্যায় ৪০টির বেশি সেতু ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

এদিকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপাল সরকার জানিয়েছে, আপাতত তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে এবং বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলে যাওয়া এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নেপালের মতো পাহাড়ি অঞ্চলগুলো আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে পড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের বন্যায় ২৫০ মাইল দূরেও মিলছে লাশ, মর্গেও জায়গা নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


নেপালের বন্যায় ২৫০ মাইল দূরেও মিলছে লাশ, মর্গেও জায়গা নেই

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এখনও থামেনি মৃত্যুর মিছিল। দুর্যোগকবলিত এলাকার নদীতে ভেসে যাওয়া মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে অনেক দূরের জেলাগুলোতেও। এতে একদিকে যেমন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে মর্গগুলোতে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবারের প্রবল বন্যায় রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার বহু মানুষ মারা যান। কিন্তু পানির তীব্র স্রোতে তাদের অনেকের মরদেহ ভেসে চলে যায় ভাটির দিকে। পরে চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপারাসি ও অন্যান্য জেলায় মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।

এর মধ্যে একটি মরদেহ রাসুয়া থেকে প্রায় ২৫০ মাইল দূরের লুম্বিনি প্রদেশেও পাওয়া গেছে। নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারেও মূল দুর্যোগকেন্দ্র থেকে ১০০ মাইলের বেশি দূরে তিনটি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় কয়েকটি জেলার হাসপাতাল ও মর্গে দেখা দিয়েছে তীব্র জায়গা সংকট। নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপারাসির মর্গগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কিছু মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলার মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

চিতওয়ানেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখা সম্ভব। কিন্তু মরদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতা নিয়ে একটি অস্থায়ী মর্গ তৈরি করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিতওয়ান এলাকায় ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীর থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। এরপরও সেখানে নতুন করে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে।

প্রিয়জন নিখোঁজ থাকার খবর পেয়ে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখন চিতওয়ান ও আশপাশের এলাকায় ছুটে আসছেন। অনেকে হাসপাতাল ও মর্গে ঘুরে স্বজনদের খোঁজ করছেন। মরদেহ শনাক্ত করা এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে নেপালজুড়ে নিখোঁজ ও জীবিতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ৫ হাজার সদস্য কাজ করছেন। হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উপায়ে দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তবে দুর্যোগের পর নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় শুক্রবার উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভূমিধস ও ধ্বংসাবশেষে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দুটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোর পানি উপচে পড়লে আবারও পাহাড়ি ঢল নেমে নতুন বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া রাসুয়ার উঁচু এলাকায় অবস্থিত ত্রিশূলী বাজারে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫৪৭ ও ৫৭৯- দুটি আলাদা হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। দুর্যোগের পর উদ্ধার ও শনাক্তকাজ চলতে থাকায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে।

সূত্র কাঠমান্ডু পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%