০৬:২৯ এম
সরকার গঠন হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে প্রথমে পৌঁছে গিয়েছিলেন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ কেমন ছিল এবং জনতার দরবারে তাঁর অভিজ্ঞতাও উল্লেখ করেছেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ঋদ্ধি আশা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, গত ১২ বছরে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে ডাক পাননি। সরকার গঠন হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে তাঁর উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেছেন কীভাবে এটি হয়ে গেল এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ।
ঋদ্ধি বলেছেন, তৃণমূল ক্ষমতাধারী থাকাকালীন তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখলে সরকারি অনুষ্ঠানের ডাক পাওয়া যেত। এই কারণেই তিনি ১২ বছর ডাক পাননি। আক্ষেপ করে তিনি জানিয়েছেন, "সেই সময়ে একজন শিল্পীও প্রতিবাদ করেননি। কোনও বর্ষীয়ান শিল্পী আপত্তি জানাননি।" প্রথমে লিখিত আকারে অভিযোগ জানিয়ে ঋদ্ধি বলেছে, "আমি অভিযোগগুলি জানানোর পরদিনেই আমাকে তৎপরতার সঙ্গে ডাকা হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব মুখ্যমন্ত্রী বুঝেছেন। সঙ্গে সঙ্গে ডেকেছেন। এটি আমার জন্য খুব ভালো লেগেছে।"
আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা
জনতার দরবারে গিয়ে ঋদ্ধি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী সবকিছু মন দিয়ে শুনেছেন। তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, এমন কিছু আগামী দিনে হবে না। আমি ১২ বছর নিষিদ্ধ ছিলাম। কেউ ১০ বছর ছিলেন। যারা দোষী, তারা শাস্তি পাক, আমরা এটা চাই। মুখ্যমন্ত্রীও এই আশ্বাস দিয়েছেন। কোনও শিল্পীকে নিষিদ্ধ করার অধিকার কারও নেই। আমরা সকলেই গান শিখে এখানে এসেছি।"
ঋদ্ধির মতো সেই দিন শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’-এ সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সেখানে এসেছিলেন। গায়িকার কথায়, "রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ যোগাযোগ করছেন। গ্রামে,গঞ্জে, মফস্সল থেকে মানুষ নথিপত্র নিয়ে আসছেন। নিজেদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। সকলের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"
‘জনতার দরবার’-এর কর্মীদের আচরণ সম্পর্কে ঋদ্ধির অভিজ্ঞতাও উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, "আমি সত্যি বলতে অবাক হয়ে গিয়েছি। এত ভদ্র ব্যবহার প্রত্যেকের। অল্প বয়সিদেরও সম্মান দিয়ে কথা বলা হচ্ছে। দু’জন প্রবীণ ব্যক্তি এসেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও লকেট ও শশীদি ছিলেন। তাঁরা প্রবীণদের সঙ্গে বিনয়ীভাবে কথা বলছিলেন।"
ঋদ্ধি জানান, জমিবাড়ি সংক্রান্ত দুর্নীতির শিকার ওই দুই প্রবীণ ব্যক্তির অভিযোগ নিয়ে তাঁরা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। "তৃণমূল আমলে দুর্নীতি ছাড়া কিছু হয়নি। বিশ্বের ইতিহাসে এমন নেই, একটি দলের প্রত্যেকে চোর। এই দুই প্রবীণও দুর্নীতির শিকার। তাঁদের কথা সবাই মন দিয়ে শুনছেন এবং সমাধানের জন্য পদক্ষেপ করছেন।" এইসব কথাবার্তা শুনে ঋদ্ধি অভিভূত হয়েছেন। সবশেষে তাঁর প্রত্যাশা, "যাঁরা আগে কাজ পেতেন, তাঁরা আর পাবেন না, এমন আমি চাই না। তাঁরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ তো অবশ্যই পাবে। কিন্তু সব কাজ নির্দিষ্ট কিছু মানুষই করবে, এমন যেন আর না হয়। প্রত্যেকে যেন সমানভাবে কাজের সুযোগ পান।"
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন