শাহানুর আলম, বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ)
১০:৩২ পি.এম
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাত্র ৩৩ মিনিটের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বেশ কিছু দোকানপাট ও বসতবাড়ি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই তীব্র বেগে ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রতায় বিশ্বম্ভরপুর থানা সংলগ্ন এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানের টিনের চাল উড়ে যায়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এবং বসতবাড়ির টিনের চালা উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হঠাৎ নেমে আসা এই আকস্মিক দুর্যোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো সঠিক তথ্য বা পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, সারের ডিলার নিয়োগের তালিকার ক্রম উপেক্ষা করে পছন্দের ব্যক্তিকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। মাজেদ বাবু ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, সারের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেনের চেষ্টা চলছে এবং আওয়ামী লীগের লোকজনকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি দাবি করেন, সারের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার জন্য অনেকে টাকা দিতে চাইলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সরিষা ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা অর্থের বিনিময়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিরা লাইসেন্স পেলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, কে কোথা থেকে কত শতাংশ টাকা নেন, তা তিনি জানেন। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত ঈশ্বরগঞ্জে মনোনীত কাউকে সারের লাইসেন্স নিতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য আরও বলেন, তাঁর দলের নেতাকর্মীরা মামলা ও হামলার শিকার হবেন, অথচ অর্থের বিনিময়ে অন্যদের সারের লাইসেন্স দেওয়া হবে—এটি মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের আগে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলার ১৪টি উপজেলার ১৪৫টি ইউনিয়নে ১৫৬ জন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। জেলায় এ নিয়োগের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০টি আবেদন জমা পড়ে।
যাচাই-বাছাই শেষে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ এবং সারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে জিয়া এন্টারপ্রাইজ। জেলা কমিটির সুপারিশে প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল প্রথম স্থানে।
সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু দাবি করেন, উপজেলা থেকে জেলায় পাঠানো তালিকায় সরিষা ইউনিয়নের জন্য দুজনের নাম ছিল। প্রথম স্থানে ছিলেন জিওস্ট্রাক্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের মালিক তাকলিমা আক্তার এবং দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন জিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক জিয়াউর রহমান ভূঁইয়া।
তাঁর দাবি, অন্য জায়গায় তালিকার প্রথম স্থানে থাকা ব্যক্তিরাই ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু সরিষা ইউনিয়নে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তি নিয়োগ পাওয়ায় সিদ্ধান্তটির পেছনে কোনো স্বার্থ রয়েছে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক তালিকা পরিবর্তন করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভূমিকা রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেন সংসদ সদস্য।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়োগ পাওয়া ডিলার জিয়াউর রহমান বলেন, তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। আবেদন করার পর সংসদ সদস্যের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে কাউকে ঘুষ দেননি এবং জেলা প্রশাসনের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, প্রথম স্থানে থাকা আবেদনকারীর আয়কর রিটার্ন নেই বলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবেদনকারী তাঁর কাছে অভিযোগ করেছিলেন। ডিলার নিয়োগে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছিল।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, যিনি নিয়োগ পাননি, তাঁর আবেদনে নিশ্চয়ই কোনো ঘাটতি ছিল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবেদনকারীর বিষয়ে খোঁজ নিলে তাঁর ঘাটতির বিষয়টি জানা যাবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালার বাইরে কিছু করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে সংসদ সদস্যের অভিযোগ এবং প্রশাসনের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজনৈতিক, নিরাপত্তাজনিত এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটার কারণে পূর্বঘোষিত ২৮ নভেম্বরের আইনসভা (সংসদীয়) নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নির্বাচন ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠির সূত্রে এই তথ্য জানায়।
ফিলিস্তিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ ৮ অক্টোবরের চিঠিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোটকে জানান, ২০২৬ সালের ২৮ নভেম্বর নির্বাচনের জন্য যে রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিবেশের আশা করা হয়েছিল, তা বাস্তবে তৈরি হয়নি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য অংশগ্রহণ, প্রবেশাধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠুতা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ফিলিস্তিনি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে দলগুলোর মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে একটি আদেশ জারি করে নির্বাচনের নতুন তারিখ ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমার্ধে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০০৫-২০০৬ সালের পর ফিলিস্তিনে আর কোনো সাধারণ বা সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০০৭ সালে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ফিলিস্তিনের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের বিভাজন সৃষ্টি হয়। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও ইসরায়েলি বিধিনিষেধ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে আসছিলেন।
নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়ে ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গাজাভিত্তিক ইসলামিক জিহাদের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোট পেছানোর বিষয়ে তাদের মধ্যে নীতিগত সমঝোতা হয়েছে। অন্যদিকে, হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম মন্তব্য করেন, "একটি সমন্বিত ফিলিস্তিনি রূপরেখা তৈরি না করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন আয়োজন করা যুক্তিযুক্ত ছিল না।"
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আশা ছিল, মার্কিন উদ্যোগ ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাজা ও পশ্চিম তীরের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো সুফলা দেখা যায়নি; বরং ভূখণ্ডজুড়ে নিরাপত্তা সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
গত বছর (২০২৫ সাল) ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই দেশটিতে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দিয়ে আসছিল ফ্রান্স। তবে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের এই নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সূত্র: টাইমস্ অব ইসরায়েল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে দুইজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাঝে মোটরচালিত ভ্যান বিতরণ করা হয়েছে, যা অপরাধমূলক পথ ত্যাগ করে তাদের স্বাভাবিক ও সম্মানিত জীবনে ফিরিয়ে আনার সামাজিক অঙ্গীকারের অংশ। এই আত্মকর্মসংস্থানমূলক সহায়তা চাঁদপুর জেলা প্রবেশন কার্যালয়ের আওতাধীন 'চাঁদপুর অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি' কর্তৃক প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভ্যান বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান অপরাধীদের হাতে ভ্যানের চাবি তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা, সমাজসেবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপকারভোগীরা হলেন মো. ফারুক গাজী, পিতা. আশ্বাদ খান, গ্রাম. খুরুমখালী, পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউপি, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর এবং মো. রুবেল খান, পিতা: কাসিম খান, গ্রাম: শিলন্দীয়া, ১৪নং ওয়ার্ড, চাঁদপুর পৌরসভা, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ মন্তব্য করেন, "অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে অপরাধীকে কেবল শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তাকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনাই মুখ্য বিষয়।" ভ্যান পাওয়ার পর, উপকারভোগী দুজনই অপরাধমূলক পথ ত্যাগ করে সৎ উপার্জনের মাধ্যমে সুন্দর জীবন গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, মো: নজরুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আশিকুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলা প্রবেশন অফিসার অ্যাড. আলম খান মঞ্জুর এবং অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির আব্দুস সামাদ খান উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ