প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজনৈতিক, নিরাপত্তাজনিত এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটার কারণে পূর্বঘোষিত ২৮ নভেম্বরের আইনসভা (সংসদীয়) নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নির্বাচন ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠির সূত্রে এই তথ্য জানায়।
ফিলিস্তিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ ৮ অক্টোবরের চিঠিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোটকে জানান, ২০২৬ সালের ২৮ নভেম্বর নির্বাচনের জন্য যে রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিবেশের আশা করা হয়েছিল, তা বাস্তবে তৈরি হয়নি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য অংশগ্রহণ, প্রবেশাধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠুতা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ফিলিস্তিনি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে দলগুলোর মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে একটি আদেশ জারি করে নির্বাচনের নতুন তারিখ ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমার্ধে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০০৫-২০০৬ সালের পর ফিলিস্তিনে আর কোনো সাধারণ বা সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০০৭ সালে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ফিলিস্তিনের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের বিভাজন সৃষ্টি হয়। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও ইসরায়েলি বিধিনিষেধ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে আসছিলেন।
নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়ে ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গাজাভিত্তিক ইসলামিক জিহাদের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোট পেছানোর বিষয়ে তাদের মধ্যে নীতিগত সমঝোতা হয়েছে। অন্যদিকে, হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম মন্তব্য করেন, "একটি সমন্বিত ফিলিস্তিনি রূপরেখা তৈরি না করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন আয়োজন করা যুক্তিযুক্ত ছিল না।"
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আশা ছিল, মার্কিন উদ্যোগ ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাজা ও পশ্চিম তীরের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো সুফলা দেখা যায়নি; বরং ভূখণ্ডজুড়ে নিরাপত্তা সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
গত বছর (২০২৫ সাল) ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই দেশটিতে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দিয়ে আসছিল ফ্রান্স। তবে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের এই নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সূত্র: টাইমস্ অব ইসরায়েল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন