১১:০৭ এম
দেশের বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষাবর্ষ শেষ হতে প্রায় এক মাস বাকি থাকলেও, নীতিমালা জারির পূর্বেই অনেক স্কুলে অভিভাবকদের পুনঃভর্তি ফি প্রদান করতে চাপ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন খাতের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জানায়, যদি অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষাবর্ষ শেষ না হলেও, চলতি মাসেই বেসরকারি স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের ভর্তি নীতিমালা ইতিমধ্যেই জারি করা হলেও, বেসরকারি স্কুলের নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল যে, স্কুলে পুনঃভর্তি ফি আদায় করা যাবে না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর অনেক স্কুলে শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই অভিভাবকদের পুনঃভর্তি ফি দিতে চাপ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন খাতের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফিও আদায় করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জাবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগে ইতিহাস পরিবহনের ১২ বাস আটক
এক অভিভাবক মন্তব্য করেন, "ভর্তি ফি তদারকি করা দরকার। সরকারকে মনিটরিং করতে হবে যাতে অতিরিক্ত টাকা নেয়া না হয়। এভাবে বাড়তি টাকা নেয়া হলে অভিভাবকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।"
সরকারি স্কুলের ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। তবে বেসরকারি স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। অভিভাবকরা দ্রুত নীতিমালা জারির দাবি জানিয়েছেন।
এক অভিভাবক বলেন, "এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ নীতিমালাই আসেনি। নীতিমালা না থাকলে একজন অভিভাবক কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন তার সন্তানকে কোথায় ভর্তি করাবেন?"
প্রতিবছর ভর্তি ও অন্যান্য ফি নির্ধারণ করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বেশিরভাগ নামী স্কুলই এসব নির্দেশনা মানে না।
আরও পড়ুন: যবিপ্রবি ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি সামিউল, সাধারণ সম্পাদক শ্রেয়া
শিক্ষা গবেষকরা বেসরকারি স্কুলগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার পরামর্শ দিয়ে জানান, প্রতিবছর অতিরিক্ত ফি আদায়ের কারণে অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ফি আদায়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, "ফি আদায়ের ক্ষেত্রে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা দেখা যায়। একেক স্কুল একেকভাবে ফি আদায় করে। এতে অভিভাবকদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এই চাপ অভিভাবকদেরই মোকাবিলা করতে হয়। এমন পরিস্থিতি এড়াতে ফি আদায়ের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন নীতিমালা থাকা উচিত।"
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিগগিরই বেসরকারি স্কুলের ভর্তি নীতিমালা জারি করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল সময় সংবাদকে জানান, "এ বিষয়ে এরইমধ্যে কয়েক দফা সভা হয়েছে। আশা করছি, অতি দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করবে। এবার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত নজরদারিতে রাখব। কোথাও কোনো অভিযোগ পেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।"
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত জবিকে মূল্যায়ন করা হয়নি: উপাচার্য
নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, রাজধানীর বেসরকারি স্কুলে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ভর্তি ফি নেয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন