০৯:২১ পি.এম
অভিবাসী কর্মীদের জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে আরো কার্যকর ও টেকসই করতে কক্সবাজারে সিমস্ প্রকল্পের উদ্যোগে জিএমসি কেস্ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯ জুন মঙ্গলবার ঈদগাঁও উপজেলার জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ের অস্থায়ী সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভাটির আয়োজন সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে, হেলভেটাস বাংলাদেশ এর কারিগারি সহযোগিতা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা "প্রত্যাশী"র মাধ্যমে করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাশী জানায় যে, তারা অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ ও অভিযোগের দ্রুত, সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রদানে কাজ করছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলার সিনিয়র সিভিল জজ এবং লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোছাইন।
এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন রশিদা খাতুন, জেলা সমন্বয়কারী, সিমস্ প্রকল্প, প্রত্যাশী, এবং একই সংস্থা ও প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, প্রজেক্ট অফিসার তৌহিদা জান্নাত শিমু, ঈদগাঁও উপজেলা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আজগরসহ জিএমসির চেয়ারপার্সন, সদস্য সচিব, নারী সদস্যবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, র্যালি ও সমাবেশ
অভিযোগ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া, মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়, চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ, রেফারেল ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, 'মধ্যস্থতার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত, সহজ ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করা।'
তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রিভ্যান্স ম্যানেজমেন্ট কমিটি (জিএমসি)-র মাধ্যমে অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণা ও বিরোধের অনেক ঘটনাই স্থানীয় পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
যদি কোনো অভিযোগ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হয়ে থাকে, তবে ইউনিয়ন পরিষদের অফিসিয়াল প্যাডে সুপারিশসহ তা লিগ্যাল এইড অফিসে প্রেরণ করে বিষয়টি অধিক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে পারে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি থাকলেও, তা একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রাচীন রামাগাড়ী কাচারীঘরের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ, বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্য
তিনি আরও বলেন, 'বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩' সম্পর্কে প্রাপ্য জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
তিনি সম্প্রতি সিমস্ (ঝওগঝ) প্রকল্পের অ্যাডভোকেসি উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসী কর্মীদের লিগ্যাল এইড সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান যে, এর ফলে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অভিবাসন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ও প্রতারণা প্রতিরোধে আরো কার্যকর ভূমিকায় থাকবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠ পর্যায়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির নানা অভিজ্ঞতা, সফলতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে, জটিল ও আদালত-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা, মানসম্মত ডকুমেন্টেশন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জিএমসির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, অভিযোগ ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, স্থানীয় প্রশাসনের সম্প জড়িত বৃদ্ধি এবং অভিবাসী কর্মীদের জন্য আরো কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: ত্রিশালে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে র্যালি ও দোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন