ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইয়াসের-তাবিথের ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ কাটল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা


ইয়াসের-তাবিথের ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ কাটল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাঙালির রাত জেগে উন্মাদনা, পাড়ায় পাড়ায় প্রিয় দলের পতাকা ওড়ানো এবং চায়ের কাপে ঝড় তোলা। অথচ বিশ্বমঞ্চের লড়াইয়ের কাছাকাছি সময়েও দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর কপালে দেখা দিয়েছিল চিন্তার ভাঁজ। প্রশ্ন উঠছিল, এবার কি তাহলে টেলিভিশনে দেখা যাবে না ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ?

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর এসেছে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দেখতে পাবে, বিষয়টি এখন পুরোপুরি নিশ্চিত। আর এই ‘ব্ল্যাকআউট’ বা খেলা দেখতে না পাওয়ার শঙ্কা দূর করার পেছনে সবচেয়ে বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ খেলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত এবং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সহায়তায় খাদের কিনারা থেকে আলোর মুখ দেখেছে বাংলাদেশের কোটি ফুটবল ভক্ত।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত কয়েক সপ্তাহ আগে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড প্রাথমিকভাবে ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশের মিডিয়া স্বত্ব পেয়েছিল। কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে কেনা এই স্বত্ব তারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ মুহূর্তে এসে চুক্তিটি সমর্পণ করে। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে দেশে কোনো ব্রডকাস্টার বা সম্প্রচারকারী মাধ্যম ছিল না। বিশাল আকাশচুম্বী দাম, সীমিত বাণিজ্যিক সুযোগ এবং ম্যাচের প্রতিকূল সময়ের কারণে স্থানীয় কোনো ব্রডকাস্টারই এই স্বত্ব কিনতে সাহস বা আগ্রহ না দেখাচ্ছিল।

আরও পড়ুন: ফেনী জেনারেল হাসপাতালের সাব-স্টেশন থেকে যন্ত্রাংশ চুরি, বিদ্যুৎ ১৪ ঘণ্টা বন্ধ

কিন্তু কোটি মানুষের এই আবেগ ও প্রত্যাশাকে মাঠে ভেস্তে যেতে দেননি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি মন্ত্রণালয় থেকে এই সংকট সমাধানের পুরো উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন।

মন্ত্রণালয়ের জরুরি তোড়জোড়ের মধ্যেই পাশে এসে দাঁড়ান নবনির্বাচিত বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এই চুক্তি সফল করার পেছনে ফিফার সঙ্গে সরাসরি সেতু বন্ধন তৈরিতে তাবিথ আউয়াল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন।

ফিফার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানকে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘বিষয়টি বাফুফে সংক্রান্ত নয়; বরং বাফুফে সভাপতি হিসেবে ফিফাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। বিটিভিসহ (বাংলাদেশ টেলিভিশন) স্থানীয় অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে যেন একটি ফলপ্রসূ যোগাযোগ অথবা সমন্বয় তৈরি করা যায়, সেই লক্ষ্যেই তারা আমার দ্বারস্থ হয়।’

বাফুফে সভাপতি আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশে যদি বিশ্বকাপ ফুটবল সঠিকভাবে সম্প্রচার করা না হতো, তা দেশের কোটি ফুটবল ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের জন্য চরম হতাশাজনক হতো। একই সঙ্গে এটাও সত্যি, যদি সবচেয়ে যৌক্তিক বাণিজ্যিক শর্ত মেনে এই সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা না যায়, তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য একটি যৌথ ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হবে।’

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ৬ জন আটক

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে মন্ত্রণালয় ও বাফুফে যৌথভাবে কোমর বেঁধে মাঠে নামে। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তাঁরা একসঙ্গে বিভিন্ন স্পোর্টস চ্যানেল, জাতীয় মিডিয়া হাউস, টেলিকম সংস্থা এবং বেশ কয়েকটি ওটিটি (ওটিটি) প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ডিজিটাল ও টেলিকম টাই-ইনের মতো নতুন আয়ের উৎসগুলো চিহ্নিত করেন, যা আগের কোনো বিশ্বকাপ চক্রে কখনো অন্বেষণ করা হয়নি।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান স্পষ্ট জানান, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভিকে কোনো ধরনের লোকসানের মুখে না ফেলেই তাঁরা এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। অতীতের ‘অস্বচ্ছ’ ও চড়া দামের বাজারকে পাশ কাটিয়ে কীভাবে দেশের টাকা বাঁচানো গেছে, তার বিশদ বিবরণ দেন তিনি।

ইয়াসের বলেন, ‘যখন আমরা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে একটি অদ্ভুত গোলকধাঁধা তৈরি ছিল। ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কেনা একটি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল। এটি ছিল করদাতাদের টাকার ওপর একটি বড় ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা। কিন্তু আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম—শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সৈনিকেরা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় জনগণের টাকার অপচয় বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করবে না। ফলস্বরূপ, সেই অযৌক্তিক ক্রয়ের প্রস্তাবটি পাস হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে—যেখানে অন্যায়, দুর্নীতি এবং কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার কোনো স্থান নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই আপসহীন অবস্থান এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ত্যাগের অনুপ্রেরণা আসে আমাদের নেতা, এ দেশের কোটি তরুণের স্পন্দন, যুবসমাজের অহংকার—মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব থেকে। তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে শিখিয়েছেন যে যেকোনো মূল্যে জনগণের আমানত রক্ষা করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনকল্যাণে নিয়োজিত করতে হবে।’

আরও পড়ুন: শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল

প্রতিমন্ত্রী জানান, অতীতের জটিলতা ভেঙে সরাসরি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কথা বলার কারণেই এসেছে এই অভূতপূর্ব সাফল্য। তিনি বলেন, ‘তাঁর নির্দেশনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই ফিফা বিষয়ে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ায় আমরা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে সম্পৃক্ত করি। দিনের পর দিন ম্যারাথন বৈঠক, জটিল আলোচনা এবং কঠোর দরকষাকর্ষির মাধ্যমে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। কর্তৃত্ববাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সততা এবং জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার এটি একটি বড় বিজয়।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিগত সরকারের আমলে হওয়া চুক্তির উদাহরণ টেনে আনেন। তাঁর মতে, আগে যেখানে বিটিভি কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কোনো মুনাফা তুলতে পারেনি, এবার সেখানে এক টাকাও লোকসান গুনতে হবে না রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে।

তীব্র যুক্তি দিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ইয়াসের বলেন, ‘বিটিভি আরও বেশি ব্যবসা করতে পারত বলতে কী বোঝাচ্ছেন? তারা বিটিভি-কে ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব দিচ্ছিল—তার মানে এই নয় যে তারা এটি ২০০ কোটি টাকায় কিনেছিল। বিষয়টি আপনাদের বুঝিয়ে বলি—এটি আসলে খুব ভালো একটি প্রশ্ন, যদিও আমি এটির উত্তর আপনার প্রত্যাশার চেয়ে ভিন্নভাবে দেব। গতবার বিটিভি ৯৬ কোটি টাকায় স্বত্ব কিনেছিল—বিটিভি কত টাকা লাভ করেছিল? জিরো (শূন্য)। বিগ জিরো। ডাবল জিরো। ট্রিপল জিরো। এবার কি বিটিভি-কে শেষ পর্যন্ত কোনো টাকা দিতে হবে? বিটিভি-র কি কোনো খরচ হবে? না। তাহলে পার্থক্যটা নিজেই বুঝতে পারছেন।’

সহজ একটি উদাহরণ দিয়ে দুর্নীতির চক্রটি ব্যাখ্যা করেন ইয়াসের, ‘২০০ কোটি টাকার প্রস্তাবটি বিটিভির উপার্জনের জন্য ছিল না। তারা বলছিল বিটিভি ২০০ কোটি টাকায় কিনবে—কিন্তু আসল ব্যবসাটা করবে অন্য কেউ। তারা লাভ নিয়ে চলে যেত, আর বিটিভির ঝুলিতে থাকত শূন্য। তা হতে পারে না। বিষয়টি এভাবে ভাবুন, এই ফোনের একটি নির্দিষ্ট মূল্য আছে—ধরুন ১ হাজার টাকা। আপনি এটি যার কাছেই বিক্রি করুন না কেন, এর চেয়ে বেশি পাবেন না। আপনি যদি এটি আমার কাছে ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন এবং আমি অন্য কারও কাছে যাই, তারা কি ১ হাজার টাকার বেশি দেবে? সুতরাং, বিটিভিকে দিয়ে ২০০ কোটি টাকায় কিছু কেনানো আর অন্য কেউ ব্যবসা করে লাভ নিয়ে যাওয়া—এতে বিটিভি-র হাত খালিই থাকে। আমরা জনগণের টাকার অপচয় এবং দুর্নীতি বন্ধ করেছি।’

আরও পড়ুন: বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ বিজিএমইএর উপদেষ্টার

এই যৌথ আলোচনার চূড়ান্ত ফল দাঁড়িয়েছে অত্যন্ত ইতিবাচক। ৩টি জাতীয় টেলিভিশনের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এখন নিশ্চিত হয়েছে সম্প্রচার স্বত্ব।

প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে চুক্তির ফাইনাল সংখ্যাটি প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে—অতীতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লুটের গন্ধ থাকা প্রাথমিক ২০০ কোটি টাকার দাবির ফাঁদ এড়িয়ে, আমরা অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও যুক্তিসঙ্গত মূল্যে ফিফার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।’

তিনি টাকার হিসাব দিয়ে বলেন, ‘একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং বাংলাদেশের নীতিমালা অনুযায়ী, এ বছরের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৩৮.৫ লাখ মার্কিন ডলার—যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৪৭ কোটি টাকা।’

সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা হলো, এই ৪৭ কোটি টাকা বিটিভিকে তার নিজের তহবিল থেকে দিতে হচ্ছে না। বিভিন্ন স্পনসরশিপ ও উপ-স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমেই এই টাকা উঠে আসবে।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসক জাহিদ হাসানের সদস্যপদ স্থগিত

জনগণকে আশ্বস্ত করে ইয়াসের বলেন, ‘জনগণের জন্য সুখবর— এবং আমি আবারও বলছি, জনগণের জন্য সুখবর হলো, বিটিভিকে এই টাকা নিজে দিতে হবে না। এর অর্থ হলো, নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন এবং টেলিকম কোম্পানি, স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে স্বত্ব বিক্রি করে আমরা প্রায় পুরো অর্থই তুলে নিতে সক্ষম হয়েছি। বিটিভি নামমাত্র খরচে ফিফা ২০২৬ সম্প্রচার করবে। এই খরচ শুধু আগের সরকারের আমলের চেয়ে কমই নয়—এটি প্রমাণ করে যে উদ্দেশ্য যদি সৎ হয়, তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যে সততা দেখিয়েছি, তা দিয়ে দেশের টাকা বাঁচানো এবং জনগণকে বিশ্বের সেরা সেবা দেওয়া সম্ভব।’

যেকোনো করপোরেট ও পলিসি মেকিংয়ের মাপকাঠিতে এই সমঝোতা ছিল একটি অবিশ্বাস্য ‘মাস্টারস্ট্রোক’। যার হাত ধরে কোনো লোকসান ছাড়াই, সম্পূর্ণ সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশের ড্রয়িংরুম ও ডিজিটাল স্ক্রিনে পৌঁছাতে যাচ্ছে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চ। আর এই পুরো দৃশ্যপটের নেপথ্য কারিগর হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১ জুন উঠে যাচ্ছে নিষেধাজ্ঞা: সাগরে মাছ শিকারে যেতে প্রস্তুত জেলেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


১১ জুন উঠে যাচ্ছে নিষেধাজ্ঞা: সাগরে মাছ শিকারে যেতে প্রস্তুত জেলেরা

১১ জুন বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে যাচ্ছে। ৫৮ দিন বিরত থাকার পর জেলেরা আবারো সাগরে মাছ ধরতে নামার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ঘাটে পড়ে থাকা বোটগুলো মেরামতের কাজ চলছে পুরোদমে।

জেলেপল্লী ঘুরে দেখা যায়, জেলে হাছানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১১ জুন সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সবাই। কেউ ডকইয়ার্ডে ট্রলারের মেরামতের কাজ শেষ করছেন, আবার কেউ মাছ ধরার জালগুলো ঠিকঠাক করে নিচ্ছেন।

ফিশিং বোটের কালু মাঝির সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষের আর বেশি দিন নেই। এজন্য তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমনকি তারা জেলেদের অগ্রিম টাকা ও প্রধান করতে শুরু করেছেন।

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও বৈরি আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাগরে ট্রলার নামানোর প্রস্তুতি নিলেও জেলেদের দুশ্চিন্তা কাটছেনা।

কক্সবাজার ফিসারীঘাটে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলার পর ব্যবসায়ী রাব্বি জানান, যদি আবহাওয়া ঠিক থাকে ১১ জুন তারা তাদের ট্রলার সাগরে পাঠাবেন। কিন্তু আবহাওয়া নিয়ে বরাবরই সংসয়ে রয়েছেন। এ ছাড়াও বর্ষা মৌসুমের আগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোট মালিকরা।

নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরের ফেরার অপেক্ষায় মৎস্যজীবীরা। সেই লক্ষ্যে সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে। কক্সবাজার সদরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারি নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার চেষ্টা করা হয়েছে। ১১ জুন থেকে ট্রলারগুলো যেন নির্বিঘ্নে সাগরে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার ৫৮ দিন শেষ হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের সামনে আসছে আয় রোজগারের নতুন স্বপ্নের দিন। হাসি ফেরার অপেক্ষায় মৎস্য ব্যবসায়ীদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ পি.এম


রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ঘটে যাওয়া মারাত্মক একটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে, সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুজন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারিক আদালত থেকে এই নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

গত রবিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হবে। একইসঙ্গে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

এছাড়া, আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা রামিসার আইনি উত্তরাধিকারকে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জরিমানার জন্য যদি অনাদায় ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কালেক্টরেট অফিসকে ওই আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির আদেশ দেওয়া হয়েছে, এবং ওই অর্থ রামিসার আইনি উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে সক্ষম হবেন।

হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায়, এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে, ২৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন এবং একই দিন মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন, এবং একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয়, এবং ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয়, এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলার দায়ের করেন, এবং ২১ মে আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ভিকটিম রামিসার বাবা জানান, তিনি পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন এবং বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। রামিসা ছিল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈদগাঁওতে আটক ৪, চোরাই মাল উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ পি.এম


ঈদগাঁওতে আটক ৪, চোরাই মাল উদ্ধার

কক্সবাজারের ঈদগাঁও গরুর বাজারে চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আরো একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক যুবকের নাম ছৈয়দ হোছন (৩২)। তাকে ৮ জুন গভীর রাতে ইউনিয়নের উত্তর মাইজ পাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। ছৈয়দ এলাকার মোক্তার আহমদের পুত্র। এ সংক্রান্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই আজিমুল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন। গ্রেপ্তার যুবক হলেন ঈদগাঁও থানায় দায়েরকৃত মামলা নম্বর- ৩ এর এজাহারভূক্ত ৪ নম্বর আসামী। এই মামলার মোট আসামীর সংখ্যা ৬ জন। মামলাটির এজাহার ৭ জুন দাখিল করা হয়। যার ধারা ৩৭৯, ৪১১/৩৪। মামলার বাদী হলেন খালেদ হোছাইন (৪২), যিনি চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি গরুর বাজার (জাগির পাড়া) এলাকায় অবস্থান করছেন। একই এলাকার এনামুল হকের নির্মানাধীন ভবনে ২ জুন গভীর রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। ৬ জুন বিকেলে প্রথমে আটককৃত দু'জনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাঙারী মালামালের দোকান থেকে চোরাই মালগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, ছৈয়দকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে আটককৃতরা হলেন ঈদগাঁও চান্দের ঘোনার মোঃ জাহেদুল ইসলাম সিফাত (১৯) এবং ইসলামাবাদ ইউনিয়নের রাবারড্যাম এলাকার মোঃ আরাফাত (২৪)। অভিযানে বাঙারী দোকানদার মোঃ ফারুক (৪৫) কেও আটক করা হয়। ফারুকের বাড়ি চকরিয়া পৌরসভার নিজপানখালী এলাকায়। বর্তমানে তিনি গরুর বাজার (জাগির পাড়া) এলাকায় অবস্থান করছেন। ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম শিফাতুল মাজদার জানান, চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটিতে প্রথমে তিন'জন এবং পরে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি দু'জন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, গরুর বাজার এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি, মাদক ও ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করা এবং বাজারের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন ভারতের, দাবি রিপোর্টে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ পি.এম


প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন ভারতের, দাবি রিপোর্টে

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের নিশানা প্রকাশ করেছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)।

আমরা জানতে পারছি, সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা বলছে, এতদিন ভারত পারমাণবিক ওয়ারহেড ও তাদের বহনকারী ব্যবস্থা আলাদা আলাদা সংরক্ষণ করত। অর্থাৎ, শান্তিকালীন সময়ে যুদ্ধাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র একসাথে রাখা হতো না। তবে নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের কিছু পারমাণবিক অস্ত্র এভাবে অপারেশনাল মোতায়েন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা পূর্বের ‘শুধু মজুত’ অবস্থান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যদি প্রস্তুত-ব্যবহারযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্র ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো বা নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে স্থাপন করা হয়, তবে তা উচ্চতর সামরিক প্রস্তুতির নির্দেশ বহন করে। সিপ্রির তথ্যানুসারে, এই ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড প্রথমবারের মতো ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র বা নৌভিত্তিক বাহনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে, অথবা অপারেশনাল বাহিনীর ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে।

এছাড়াও, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক বছরে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে সামান্য বৃদ্ধি ঘটেছে। একইসাথে কিছু ওয়ারহেড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে (এসএসবিএন) মোতায়েন করা হয়েছে এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল চালানো হয়েছে।

সিপ্রি জানাচ্ছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছাবে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বাড়ছে। এই অস্ত্রগুলো ভারতের ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশপথে বহনযোগ্য বোমা ও পারমাণবিক সাবমেরিনে বিতরণ করা হয়েছে।

আরো বলা হয়েছে, এতদিন ধরে ধারণা করা হতো যে, ভারত শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো তাদের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার থেকে আলাদা রাখে। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপ- যেমন ক্যানিস্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও সমুদ্রভিত্তিক টহল- ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত কিছু ওয়ারহেডকে শান্তিকালেও তাদের লঞ্চারগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

অথচ, ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি অনুসরণ করছে। এই নীতি বলে, ভারত কখনো প্রথমে পারমাণবিক হামলা ব্যবহার করবে না এবং কেবলমাত্র নিজেদের ভূখণ্ড বা বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে সে ক্ষেত্রে প্রতিশোধমূলক ব্যবহার করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিপ্রির এই পর্যবেক্ষণ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। যদিও ভারত দাবি করে যে তার পারমাণবিক সক্ষমতা কেবল প্রতিরোধমূলক, তবে নতুন মোতায়েনের ইঙ্গিত সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা বাড়ানোর দিকে ইঙ্গিত করছে। সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%