প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের নিশানা প্রকাশ করেছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)।
আমরা জানতে পারছি, সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করার পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা বলছে, এতদিন ভারত পারমাণবিক ওয়ারহেড ও তাদের বহনকারী ব্যবস্থা আলাদা আলাদা সংরক্ষণ করত। অর্থাৎ, শান্তিকালীন সময়ে যুদ্ধাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র একসাথে রাখা হতো না। তবে নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের কিছু পারমাণবিক অস্ত্র এভাবে অপারেশনাল মোতায়েন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা পূর্বের ‘শুধু মজুত’ অবস্থান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যদি প্রস্তুত-ব্যবহারযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্র ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো বা নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে স্থাপন করা হয়, তবে তা উচ্চতর সামরিক প্রস্তুতির নির্দেশ বহন করে। সিপ্রির তথ্যানুসারে, এই ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড প্রথমবারের মতো ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র বা নৌভিত্তিক বাহনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে, অথবা অপারেশনাল বাহিনীর ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক বছরে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে সামান্য বৃদ্ধি ঘটেছে। একইসাথে কিছু ওয়ারহেড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে (এসএসবিএন) মোতায়েন করা হয়েছে এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল চালানো হয়েছে।
সিপ্রি জানাচ্ছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছাবে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বাড়ছে। এই অস্ত্রগুলো ভারতের ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশপথে বহনযোগ্য বোমা ও পারমাণবিক সাবমেরিনে বিতরণ করা হয়েছে।
আরো বলা হয়েছে, এতদিন ধরে ধারণা করা হতো যে, ভারত শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো তাদের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার থেকে আলাদা রাখে। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপ- যেমন ক্যানিস্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও সমুদ্রভিত্তিক টহল- ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত কিছু ওয়ারহেডকে শান্তিকালেও তাদের লঞ্চারগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
অথচ, ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি অনুসরণ করছে। এই নীতি বলে, ভারত কখনো প্রথমে পারমাণবিক হামলা ব্যবহার করবে না এবং কেবলমাত্র নিজেদের ভূখণ্ড বা বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে সে ক্ষেত্রে প্রতিশোধমূলক ব্যবহার করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিপ্রির এই পর্যবেক্ষণ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। যদিও ভারত দাবি করে যে তার পারমাণবিক সক্ষমতা কেবল প্রতিরোধমূলক, তবে নতুন মোতায়েনের ইঙ্গিত সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা বাড়ানোর দিকে ইঙ্গিত করছে। সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন