০৫:৩৩ পি.এম
পাকিস্তানের করাচির নিকটবর্তী একটি দ্বীপে পর্যটকের ছদ্মবেশে সামুদ্রিক অভিযানের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) সদস্যরা। তাদেরকে স্কুবা ডাইভিং, যুদ্ধকালীন সাঁতার এবং পানির নিচে বিভিন্ন অভিযানের কৌশল শেখানো হচ্ছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির কাছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র এই তথ্য প্রদান করেছে। সূত্রগুলোর দাবি, করাচি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চারনা দ্বীপে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। দ্বীপটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ডাইভিংয়ের জন্য জনপ্রিয় হওয়ায়, সেখানে প্রশিক্ষণরত জঙ্গিদের পর্যটক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হচ্ছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো লস্করের এই সামুদ্রিক শাখাকে ‘দাওয়াহ মেরিন উইং’ অথবা ‘সাদা-ই-হুররিয়ত’ নামে চিহ্নিত করেছে। প্রশিক্ষকদের মধ্যে পাকিস্তানভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন মার্কাজি মুসলিম লীগের (পিএমএমএল) সদস্যরাও রয়েছেন। এই সংগঠনটিকে লস্করের একটি ছদ্মবেশী সহযোগী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: রাহুলের ভোট বাঁচাও আন্দোলনকে অনুপ্রবেশকারী রক্ষার কৌশল বললেন শাহ
পূর্বে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মংলা বাঁধ এবং লস্করের বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তৈরি সুইমিংপুলে লস্করের সদস্যদের সামুদ্রিক অভিযানের প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে। ভারতের সাম্প্রতিক বছরগুলোর কিছু সামরিক অভিযানে এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কিছু স্থাপনা নির্ভুল বোমা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, ২০০৮ সাল থেকে লস্করের একটি ছোট সামুদ্রিক ইউনিট সক্রিয় রয়েছে। তবে বর্তমানে তারা সমুদ্রপথে বড় আকারে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো লস্করের সদস্যরাও সমুদ্রপথে শহরটিতে প্রবেশ করেছিল।
ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই বিষয়ে অবগত রয়েছে এবং সমুদ্রপথে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় কাজ করছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুরে’ পাকিস্তানের মুরিদকে এলাকায় লস্করের সদর দপ্তরসহ নয়টি বড় জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) কাছের কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটিতেও হামলা পরিচালনা করা হয়।
আরও পড়ুন: ম্যাকাওয়ের প্রথম জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় সাবেক আইনপ্রণেতা আউ কাম সানকে ১২ বছরের কারাদণ্ড
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করা ও জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে লস্করের একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীরের ছয়টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (সিআইকে)।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বুদগাম, শ্রীনগর, বিজবেহারা ও অনন্তনাগের মাত্তান এবং পুলওয়ামার একটি গ্রামে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তল্লাশির সময় সন্দেহজনক নথিপত্র ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন