ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কারিগরি শিক্ষায় চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী


কারিগরি শিক্ষায় চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে শিল্পের চাহিদাভিত্তিক করতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, কারিগরি শিক্ষার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কারিকুলাম, ল্যাব, শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ পুরো ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। চীনের শিল্প-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংযোগের মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কীভাবে মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায়, সেটিই এখন বড় বিষয়। এ লক্ষ্যেই সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এবার শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেজন্য, বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাকে আরও মানসম্মত ও কার্যকর করতে চীনের সঙ্গে কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনের শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে সংযোগ রয়েছে, সেটি বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। চীনের বিভিন্ন কোম্পানি বিশ্বজুড়ে কাজ করছে এবং তাদের বিপুল দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ কীভাবে সেই চাহিদা পূরণ করতে পারে, তা নিয়েও চীনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম ও শিল্পের চাহিদাকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। চীনে গিয়ে আমরা দেখেছি, দেশটির কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা শিল্পের চাহিদাভিত্তিক। সেখানে কারিকুলাম থেকে শুরু করে ল্যাব ও শিক্ষকসহ সবকিছু একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশেও একই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষার দুর্বলতাগুলো সরকার চিহ্নিত করেছে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অবকাঠামো তৈরি করার পাশাপাশি কারিকুলাম পরিবর্তন, ল্যাব শক্তিশালী করা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যকর করতে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ইকোসিস্টেম’ প্রয়োজন। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী কারিকুলাম তৈরি, আধুনিক ল্যাব স্থাপন, প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। চীনের অভিজ্ঞতা থেকে এ বিষয়গুলোই আমরা দেখেছি এবং বাংলাদেশে তা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়

চীনা ভাষাকে কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় একই ভাষা চালু করার পরিকল্পনা নেই। যে দেশে যে ভাষার প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। যেখানে জাপানি কোম্পানি বেশি, সেখানে জাপানি ভাষা এবং যেখানে দক্ষিণ কোরীয় বা আরব দেশের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বেশি, সেখানে সংশ্লিষ্ট ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। চীনের ক্ষেত্রে চীনা ভাষায় জোর দেওয়া হবে। কারণ চীনা কোম্পানিগুলো তাদের ভাষায় প্রশিক্ষণ নেওয়া ও কাজ করতে সক্ষম জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের চীনা কোম্পানিতে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি করা গেলে তাদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে। এ বিষয়ে সরকার কাজ করতে পারে এবং চীনের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দেশে অনেক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ভোকেশনাল সেন্টার এবং টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ তৈরি করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে কারিকুলাম সময়োপযোগী করা, ল্যাব শক্তিশালী করা এবং শিক্ষক প্রস্তুত করার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো পর্যালোচনা করে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষায় নতুন বিষয় যুক্ত করা এবং ল্যাবরেটরি উন্নয়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষা হচ্ছে জীবনব্যাপী শিক্ষা। এর মাধ্যমে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: ৩৬ জেলায় ১০১ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আছিয়া হত্যা মামলার আসামি হিটু শেখ নিজেই দায় স্বীকার করেছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


আছিয়া হত্যা মামলার আসামি হিটু শেখ নিজেই দায় স্বীকার করেছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল

নির্মম আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সোমবার হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আছিয়া তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুর কর্তৃক ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার শিকার হন। পরবর্তীতে সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত বছরের ১৩ মার্চ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। এই মামলার আসামি হিটু শেখ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন এবং দায় স্বীকার করে নেন। বিচারিক আদালতের রায়ে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।

এরপর মামলাটি হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে আজকের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলো। কিছু অবজারভেশন দিয়েছেন আদালত। আদালত উল্লেখ করেছেন যে, নিম্ন আদালতে আসামিপক্ষে যিনি আইনজীবী ছিলেন, তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেননি। আদালত মন্তব্য করেছেন, সাক্ষীদের জেরা করার ক্ষেত্রেও একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভালো আইনজীবী হলে হয়তো সাক্ষীদের সঠিকভাবে জেরা করে আসামিপক্ষ কিছু বেনিফিট পেতে পারতো। তবে সে কারণে এই মামলার বিচার এবং বিচারিক আদালত যে কারণ উল্লেখ করেছেন, তার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটা আদালতের একটি পার্শ্ব মন্তব্য। আদালত এ ক্ষেত্রে মামলার রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে হিটু শেখের জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়েছেন।

১৬৪ ধারা মতে জবানবন্দিতে সে কিন্তু একটি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। সুতরাং, তা থেকে বোঝা যায় যে তিনি স্বেচ্ছায় এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিটি দিয়েছেন এবং যেটি গ্রহণ করে আদালত সাজা দিয়েছেন।

শুধুমাত্র এটি নয়, পাশাপাশি অন্যান্য সাক্ষীও রয়েছেন। যেমন, প্রথম যে জোহরা প্রতিবেশী, তিনি যখন এসে দেখেছেন, মেয়েটাকে আটকে রাখা হয়েছে, তার বোনকে আটকে রাখা হয়েছে, তার বোনের সাক্ষী। সুতরা, এসব কিছু বিবেচনা করে আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকের সঙ্গে যেই যুক্ত থাকবে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে: রেল প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


মাদকের সঙ্গে যেই যুক্ত থাকবে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে: রেল প্রতিমন্ত্রী

সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিকভাবে সরকারের কেউ মাদকবিরোধী এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ পাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি কেউ এর বিরুদ্ধে দুঃসাহস দেখায়, তাহলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এটি সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন। সভাটি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সরকার কোনোভাবেই ছাড় দেবে না। বরং, আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদক নির্মূলের জন্য সর্বোচ্চ অবস্থান নিতে হবে। এটি শুধুমাত্র রুটিনমাফিক কাজ নয়; আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মাদককে সমূলে নির্মূল করতে হবে।

তিনি বলেন, টাস্কফোর্স গঠন করে কিছু কিছু এলাকায় বারবার অভিযান পরিচালনা করা হলে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত করা যাবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অতীতে নারায়ণগঞ্জে খুনের সংস্কৃতি ছিল। এসব ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করছেন। আমাদেরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। অনেকেই সরকার ও প্রশাসনকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনোভাবেই ছাড় দেবে না।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুনত্ব আনতে বাজেট বাড়াচ্ছে জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুনত্ব আনতে বাজেট বাড়াচ্ছে জাপান

বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা কৌশলকে এগিয়ে নিতে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং যুদ্ধের নতুন পদ্ধতি ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাপান। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য টোকিও আগামী অর্থবছরের জন্য ৮.৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৫৫.৬ বিলিয়ন ডলার) বাজেটের প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাবনা প্রকাশ করে। এই প্রাথমিক বাজেটের প্রস্তাবটি চলতি অর্থবছরের ৮.৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৫৫ বিলিয়ন ডলার) প্রতিরক্ষা বাজেটের তুলনায় সামান্য বেশি। চূড়ান্ত বাজেট অবশ্য এর চেয়ে অনেক বেশি হবে। তবে জাপানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কৌশল প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারের অনুমোদনের পর এ বছরের শেষের দিকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হবে।

২০২২ সালে গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদী প্রতিরক্ষা কৌশলের আওতায় চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব মোকাবিলায় নিজেদের আত্মরক্ষা বাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাপান কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্বিগুণ করে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশে উন্নীত করেছে। বেইজিং জাপানের এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে ‘নতুন সামরিকবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সমালোচনা করেছে।

বাজেট প্রস্তাবনা বিষয়ক একটি প্রচারপত্রে মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহারের মতো যুদ্ধের নতুন পদ্ধতির সাথে খাপ খাইয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে জোরদার করাই বর্তমানে জাপানের লক্ষ্য।

টোকিও আক্রমণকারী ড্রোন, দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল এবং ইন্টারসেপ্টর (শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থা) ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধের নতুন পদ্ধতির জন্য কম খরচে ও কম প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে এবং সাশ্রয়ী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বল্পমূল্যের চালকবিহীন অস্ত্র দেশীয়ভাবে তৈরি ও ব্যাপকভাবে উৎপাদন করা প্রয়োজন।

সাশ্রয়ী উপায়ে পাল্টা আঘাত হানার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে সমন্বয় করে আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। ২০২৭ সালের এপ্রিলে শুরু হতে যাওয়া অর্থবছরের জন্য, তারা পানি বা পানির নিচ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য চালকবিহীন আক্রমণকারী ড্রোন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করছে।

কর্মকর্তাদের মতে, জাপানের জনসংখ্যা হ্রাস ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে সামরিক জনবলের যে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, চালকবিহীন অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তা পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানের বাণিজ্যিক বাজারে চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের আধিপত্য রয়েছে, তাই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর মোতায়েন করে তার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাকে শক্তিশালী করেছে। পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা আরও জোরদার করতে মন্ত্রণালয় সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। জাপানের প্রতিরক্ষা কমান্ড ব্যবস্থা উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রণালয়টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় একটি সমন্বিত এআই প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা করছে, যার লক্ষ্য হলো যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসহ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও নির্ভুলতা বৃদ্ধি করা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপান এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের বিদ্যমান এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তিতে এআই উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণ কিংবা উভয় পদ্ধতির সমন্বয় করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। মন্ত্রণালয় ‘এআই অর্কেস্ট্রেটর’ নামে একটি অত্যাধুনিক বা পরবর্তী প্রজন্মের প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এটি একাধিক এআই সিস্টেমকে সমন্বিত ও ব্যবহার করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত করবে।

এছাড়া জরুরি অবস্থা বা দুর্যোগের সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান এবং স্থিতিশীল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়টি একটি ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্লাউড’ তৈরির পরিকল্পনাও করছে। তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশুগঞ্জ সার কারখানা দ্রুত চালুর দাবিতে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


আশুগঞ্জ সার কারখানা দ্রুত চালুর দাবিতে মানববন্ধন

১৮ মাস ধরে বন্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা দ্রুত সচল করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানাটির নাম পরিবর্তন করে ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ করার পাশাপাশি আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন চালুর দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (এএফসিসিএল) প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রায় ১৮ মাস ধরে কারখানাটি উৎপাদনহীন অবস্থায় রয়েছে।

সকাল ৯টার দিকে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা টোলপ্লাজা এলাকায় জড়ো হন। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচারপত্র ছিল। পরে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, শ্রমিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যসহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।

শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী মো. তানভীর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গুণগত মান ভালো হওয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়ার চাহিদা বেশি। কারখানাটি চালু রাখা গেলে সরকার লাভবান হবে। তাঁদের অভিযোগ, ২০১০ সালের পর থেকে একটি মহল বিদেশ থেকে সার আমদানির মাধ্যমে কমিশন-বাণিজ্যের স্বার্থে বছরের অধিকাংশ সময় কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখে। এতে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে অলাভজনক হয়ে পড়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সার কারখানার যন্ত্রপাতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ১ মার্চ থেকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে ইউরিয়া উৎপাদন চালুর দাবি জানান তারা।

তারা বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানাকে গ্যাস সাশ্রয়ী করতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সচল করতে হবে। প্রয়োজনে পুরোনো কারখানার পরিবর্তে নতুন একটি সার কারখানা স্থাপনেরও দাবি জানান তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%