ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাহুল অরুণোদয়ের স্মরণে বিশেষ উদ্যোগ, প্রয়াত অভিনেতার জন্য মাঠে নামবেন অ্যালভিটোরা


রাহুল অরুণোদয়ের স্মরণে বিশেষ উদ্যোগ, প্রয়াত অভিনেতার জন্য মাঠে নামবেন অ্যালভিটোরা

রাহুলের অন্যতম শেষ অভিনীত কাজ ‘ছবিওয়ালা’ ছিল। পরিচালক বাপ্পার উদ্যোগে, আগামী ১৫ জুন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মাঠে আয়োজিত হতে চলেছে একটি বিশেষ ‘ট্রিবিউট এগ্‌জ়িবিশন ম্যাচ’ এর।

কট্টর লাল-হলুদপ্রেমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রয়াত অভিনেতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ইস্টবেঙ্গল মাঠে আয়োজন করা হয়েছে এই বিশেষ ম্যাচ। যে দলের দ্বাদশ খেলোয়াড় রাহুল। কিছুদিনের মধ্যে মুক্তি পাবে রাহুলের ছবি ‘ছবিওয়ালা’। এজন্যই করা হয়েছে এই বিশেষ উদ্যোগ।

রাহুলের অন্যতম শেষ অভিনীত কাজটি হলো ‘ছবিওয়ালা’। পরিচালক বাপ্পার উদ্যোগে আগামী ১৫ জুন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব মাঠে হতে চলেছে একটি বিশেষ ‘ট্রিবিউট এগ্‌জ়িবিশন ম্যাচ’। বাঙালির ফুটবলের আবেগে গ্যালারি ও সিনেমার মেলবন্ধন ঘটাতে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে, “লাল-হলুদ গ্যালারির ছবিওয়ালা।”

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

গ্যালারিতে রাহুলের পরিচিত মশাল, জয়ধ্বনি এবং ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা দেখা যাবে। এবার সেই উন্মাদনায় শামিল হবে টলিউডও। প্রিয় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মাঠ থেকেই পরম শ্রদ্ধা জানাতে, এ বার বুট পায়ে সবুজ گালিচায় নামছেন একঝাঁক প্রাক্তন তারকা লাল-হলুদ ফুটবলাররা। এই বিশেষ ম্যাচে খেলতে দেখা যাবে অ্যালভিটো ডি’কুনহা, মেহতাব হোসেন, দীপঙ্কর রায়, রহিম নবী, অসীম বিশ্বাস, অর্ণব মণ্ডল, সৌমিক দে, মহম্মদ রফিক-সহ ইস্টবেঙ্গলের বহু প্রাক্তনীকে।

এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে সফল করতে এবং মাঠের অনুমতি দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শীর্ষকর্তা নীতু সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। ‘ছবিওয়ালা’ টিমের পক্ষ থেকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। পরিচালক বাপ্পা বলেন, “মানুষটা হয়তো সশরীরে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু ওঁর রেখে যাওয়া অন্যতম শেষ ছবি ‘ছবিওয়ালা’ আর এই মাঠের আবেগের মধ্যে দিয়েই রাহুলদা আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন চিরকাল।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক গ্লাস ঠান্ডা লিচুর শরবতে মুহূর্তেই মিলবে গরম থেকে স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৫ এম


এক গ্লাস ঠান্ডা লিচুর শরবতে মুহূর্তেই মিলবে গরম থেকে স্বস্তি

গরমের দিনে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় যেন অতি সহজে এনে দেয় স্বস্তি। আর যেহেতু এখন লিচুর মৌসুম, তাই এই সুস্বাদু ফল ব্যবহার করে খুব সহজেই তৈরি করা যায় ঘরোয়া লিচুর শরবত। স্বাদে মিষ্টি ও সতেজ এই পানীয় যেন গরমে ক্লান্তি দূরে করতে পারে দারুণ একটি পছন্দ।

লিচু এমনিতেই রসালো ও সুস্বাদু একটি ফল। এর সঙ্গে সামান্য চিনি, লবণ এবং বরফ মিশিয়ে তৈরি করা যায় ঠান্ডা এবং মজাদার শরবত। খুব কম সময়ের মধ্যে সহজেই এই পানীয়টি তৈরি করা সম্ভব।

যা যা লাগবে:

- খোসা ও বিচি ছাড়ানো লিচু ১২টি

- পানি ২ গ্লাস

- চিনি পরিমাণমতো

- সামান্য লবণ

- কয়েক টুকরা বরফ

প্রস্তুত প্রণালি:

প্রথমে একটি মিশ্রণ যন্ত্রে লিচু, চিনি এবং সামান্য লবণ দিন। এরপর সব উপকরণ খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া উচিত। তারপর এর মধ্যে পানি যোগ করতে হবে এবং আবার মিশিয়ে নিতে হবে।

সব উপকরণ যত ভালোভাবে মিশে যাবে, তখন গ্লাসে ঢেলে নিতে হবে। শেষে বরফ যোগ করে পরিবেশন করুন ঠান্ডা লিচুর শরবত।

এই গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা লিচুর শরবত যেন শরীরে এনে দিতে পারে প্রশান্তির ছোঁয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করায় দুই ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৯ এম


পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করায় দুই ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বাজারে পণ্যে বাধ্যতামূলক পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করার কারণে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকালে আড়াইহাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ইমনের নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে এ জরিমানা করা হয়।

জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো— মেসার্স মদিনা রাইস ও মেসার্স এ রহমান ট্রেডার্স। এ দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার টাকা করে মোট ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ইমন জানান, নির্ধারিত পণ্যের মোড়ক হিসেবে পাটজাত বস্তা অথবা মোড়ক ব্যবহার না করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল, যা আইন লঙ্ঘন। এ কারণে, তারা কার্যকরীভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরিবেশবান্ধব পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য এবং সরকারি আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ এম


জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা জর্ডানস্থ একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে।

বুধবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, তারা আল আজরাক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

জর্ডানে কোনো বিমান হামলার সাইরেন বাজার খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, আল জাজিরা জানায়, আইআরজিসি এবং খাতাম আল-আনবিয়ার সদর দপ্তর উভয়ই নিশ্চিত করেছে যে, কিছু মার্কিন ঘাঁটির ওপর হামলা পরিচালিত হয়েছে; বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিটিতে হামলার কথা বলা হয়েছে।

ওই ঘাঁটিতে কতগুলো ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, কিংবা সেই হামলায় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে ওই বিবৃতিগুলো অত্যন্ত জোরালো এবং উল্লেখযোগ্য।

খাতাম আল-আনবিয়ার সদর দপ্তরের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অজুহাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনের জবাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী এবং ইসলামী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী একটি শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে, যাতে ওই অঞ্চলের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের জানা উচিত যে, যদি তারা ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি করে, তবে এই অঞ্চলের বিভিন্ন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে আরও তীব্র ও ব্যাপক হামলা চালানো হবে।

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে যে, শত্রুর বিদ্বেষপূর্ণ পদক্ষেপের জবাবে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বাহরাইন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অসাধারণ মানুষের গুণাবলি ও জীবনদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ এম


অসাধারণ মানুষের গুণাবলি ও জীবনদর্শন

 

মানুষের সমাজে কেউ ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতির কারণে সম্মানিত হয়, আবার কেউ নীরবে ও অপ্রকাশ্যে জীবন যাপন করেও মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হন। আল্লাহর এমন কিছু বিশেষ বান্দা আছেন, যাঁরা ফরজ ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করেন এবং নিজেদের জীবনকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করেন।

বাহ্যিকভাবে তাঁরা সাধারণ মানুষ হলেও তাঁদের আন্তরিকতা, আত্মত্যাগ, দানশীলতা, বিনয় ও আল্লাহর প্রতি অগাধ নির্ভরতার কারণে তাঁরা আল্লাহর বিশেষ ভালোবাসা ও অনুগ্রহ লাভ করে অসাধারণ মানুষে পরিণত হয়ে থাকেন।

অসাধারণ মানুষের পরিচয় : আল্লাহর বিশেষ কিছু বান্দা এমন রয়েছেন, যাঁরা সমাজের সাধারণ মানুষ হলেও আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা, নির্ভরতা ও আনুগত্যের কারণে মহান আল্লাহ তাঁদের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন। ফলে তাঁরা কোনো বিষয়ে আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন। এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা স্বাধীনভাবে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী; বরং তাঁদের ঈমান, ইখলাস এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার কারণে আল্লাহ তাঁদের দোয়া, আশা বা শপথ কবুল করেন।

এটি তাঁদের মর্যাদা এবং আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। আসলে মানুষের প্রকৃত সম্মান ধন-সম্পদ, পদমর্যাদা বা সামাজিক প্রতিপত্তিতে নয়; বরং খাঁটি ঈমান, তাকওয়া, ইখলাস ও আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসে। যাঁরা নিজেদের জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করেন, তাঁরাই প্রকৃত অর্থে অসাধারণ মানুষ এবং আল্লাহর বিশেষ বান্দা। হাদিসে এসেছে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন বান্দাও রয়েছে, যে আল্লাহর নামে কোনো কসম করলে তা পূরণ করে।

(বুখারি, হাদিস : ২৭০৩)

অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসার কারণে এমন কিছু খাঁটি বান্দা রয়েছেন, যাঁরা কোনো বিষয়ে আল্লাহর নামে কসম বা শপথ করলে মহান আল্লাহ তাঁদের সম্মান রক্ষার্থে এবং তাঁদের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে সেই কসম কবুল করেন এবং পূর্ণ করে দেন। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মাথায় উষ্কখুষ্ক চুল এবং দেহে ধূলিমলিন দুইখানা পুরাতন কাপড় পরিহিত এরূপ অনেক ব্যক্তি রয়েছে, যার প্রতি লোকেরা দৃষ্টিপাত করে না। অথচ সে আল্লাহর নামে শপথ করে ওয়াদা করলে তিনি তা সত্যে পরিণত করেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৫৪)

একজন অসাধারণ মানুষের গল্প : একটি হাদিসে এক অসাধারণ মানুষের গল্প বর্ণিত হয়েছে। তাতে তাঁর মর্যাদা ও কর্মের বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, একবার এক ব্যক্তি কোনো এক জঙ্গলে ভ্রমণ করছিলেন। এমতাবস্থায় হঠাৎ মেঘখণ্ড থেকে তিনি এই আওয়াজ শুনতে পেলেন যে অমুকের বাগানে পানি দাও। সঙ্গে সঙ্গে ওই মেঘখণ্ডটি একদিকে যেতে লাগল। অতঃপর এক প্রস্তরপূর্ণ ভূমিতে বারিপাত করল। ওই স্থানের নালাসমূহের একটি নালা ওই পানিতে সম্পূর্ণরূপে ভরে গেল। তখন সেই লোকটি পানির অনুসরণ করে চলল। যেতে যেতে সে এক ব্যক্তিকে তার বাগানে দণ্ডায়মান অবস্থায় কোদাল দিয়ে পানি ফেরাচ্ছে দেখতে পেল।

এটা দেখে সে তাকে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার নাম কী? সে বলল, আমার নাম অমুক, যা সে মেঘখণ্ডের মাঝে শুনতে পেয়েছে। অতঃপর বাগানের মালিক তাকে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার নাম জিজ্ঞেস করলে কেন? জবাবে সে বলল, যে মেঘের এই পানি, এর মাঝে আমি এ আওয়াজ শুনতে পেয়েছি, তোমার নাম নিয়ে বলছে যে অমুকের বাগানে পানি দাও। অতঃপর বলল, তুমি এই (বাগানের ব্যাপারে) কী আমল করো? মালিক বলল, যেহেতু তুমি জিজ্ঞেস করছ, (তাই বলছি) আমি এই বাগানের উৎপাদিত ফসলের প্রতি লক্ষ করি। অতঃপর এর এক-তৃতীয়াংশ সদকা করি, এক-তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার-পরিজন আহার করি এবং এক-তৃতীয়াংশ এতে ফিরিয়ে দিই (চাষাবাদ ও বাগানের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করি)।(মুসলিম, হাদিস : ৭২০৩)

যেভাবে অসাধারণ মানুষ হওয়া যায় : আল্লাহর অসাধারণ বান্দারা সর্বপ্রথম ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালন করেন। নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পিতা-মাতার হক, মানুষের অধিকার—এসব বিষয়ে তাঁরা অত্যন্ত সচেতন থাকেন। ফরজ অবহেলা করে শুধু নফল ইবাদতের মাধ্যমে কেউ আল্লাহর প্রিয়পাত্র হতে পারে না। ফরজ পালনের পর তাঁরা নফল আদায়ে সচেষ্ট হয়ে থাকেন। প্রতিটি ইবাদতের নফল আছে; যেমন—নফল নামাজ, নফল রোজা, নফল দান-সদকা, নফল হজ, নফল কোরবানি ইত্যাদিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। এভাবেই তাঁদের হৃদয় আল্লাহর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তাঁরা আল্লাহর ভালোবাসার পাত্রে পরিণত হন। এটি একজন মুমিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা।

আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাঁর জীবন, চিন্তা ও কর্ম আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত হয়। এমন বান্দার ইন্দ্রিয় ও কর্ম আল্লাহর নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। ফলে তিনি হারাম শোনা, দেখা, ধরা ও চলাফেরা থেকে বিরত থাকেন। তাঁর সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। অর্থাৎ তিনি সত্য কথা শোনেন এবং গ্রহণ করেন। তিনি কল্যাণকর বিষয় দেখেন। তাঁর হাত অন্যায় ও জুলুম থেকে বিরত থাকে। তাঁর পদক্ষেপ সৎকর্মের পথে পরিচালিত হয়। তাঁদের দোয়া কবুল হয়। কারণ তাঁদের অন্তর পবিত্র, উপার্জন হালাল এবং জীবন আল্লাহমুখী। তাঁরা আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধানে থাকেন। বিপদ-আপদে আল্লাহ তাঁদের সাহায্য করেন এবং ঈমানের ওপর অটল রাখেন। তাঁরা মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর স্নেহ ও অনুগ্রহ লাভ করতে থাকেন। এটি আল্লাহর প্রিয় বান্দার প্রতি তাঁর বিশেষ দয়া ও ভালোবাসার পরিচায়ক। যেমন হাদিসে সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমার বান্দা যেসব ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য হাসিল করে থাকে, তার মধ্যে ওই ইবাদতের চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো ইবাদত নেই, যা আমি তার ওপর ফরজ করেছি। আর বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নিই যে আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোনো কিছু চায়, আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দিই। আমি কোনো কাজ করতে চাইলে তা করতে কোনো দ্বিধা করি না, যতটা দ্বিধা করি মুমিন বান্দার প্রাণ নিতে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তাকে কষ্ট দেওয়াকে অপছন্দ করি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)

পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহর অসাধারণ বান্দারা কোনো অলৌকিক ক্ষমতা বা পার্থিব প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে মহান নন; বরং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের মূল ভিত্তি হলো খাঁটি ঈমান, তাকওয়া, ফরজ ইবাদতের প্রতি নিষ্ঠা, নফল আমলে অগ্রগামিতা, দানশীলতা, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা। তাঁরা মানুষের কল্যাণে নিজেদের সম্পদ ও সামর্থ্য ব্যয় করেন, হারাম থেকে দূরে থাকেন এবং সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সচেষ্ট থাকেন। ফলে আল্লাহ তাঁদের ভালোবাসেন, তাঁদের দোয়া কবুল করেন, বিপদে সাহায্য করেন এবং তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করেন।

লেখক : অধ্যাপক, আরবি বিভাগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%