ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির


জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা জর্ডানস্থ একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে।

বুধবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, তারা আল আজরাক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

জর্ডানে কোনো বিমান হামলার সাইরেন বাজার খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

এদিকে, আল জাজিরা জানায়, আইআরজিসি এবং খাতাম আল-আনবিয়ার সদর দপ্তর উভয়ই নিশ্চিত করেছে যে, কিছু মার্কিন ঘাঁটির ওপর হামলা পরিচালিত হয়েছে; বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিটিতে হামলার কথা বলা হয়েছে।

ওই ঘাঁটিতে কতগুলো ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, কিংবা সেই হামলায় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে ওই বিবৃতিগুলো অত্যন্ত জোরালো এবং উল্লেখযোগ্য।

খাতাম আল-আনবিয়ার সদর দপ্তরের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, নিজেদের হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অজুহাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনের জবাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী এবং ইসলামী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী একটি শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে, যাতে ওই অঞ্চলের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের জানা উচিত যে, যদি তারা ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি করে, তবে এই অঞ্চলের বিভিন্ন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে আরও তীব্র ও ব্যাপক হামলা চালানো হবে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে যে, শত্রুর বিদ্বেষপূর্ণ পদক্ষেপের জবাবে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বাহরাইন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অসাধারণ মানুষের গুণাবলি ও জীবনদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ এম


অসাধারণ মানুষের গুণাবলি ও জীবনদর্শন

 

মানুষের সমাজে কেউ ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতির কারণে সম্মানিত হয়, আবার কেউ নীরবে ও অপ্রকাশ্যে জীবন যাপন করেও মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হন। আল্লাহর এমন কিছু বিশেষ বান্দা আছেন, যাঁরা ফরজ ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করেন এবং নিজেদের জীবনকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করেন।

বাহ্যিকভাবে তাঁরা সাধারণ মানুষ হলেও তাঁদের আন্তরিকতা, আত্মত্যাগ, দানশীলতা, বিনয় ও আল্লাহর প্রতি অগাধ নির্ভরতার কারণে তাঁরা আল্লাহর বিশেষ ভালোবাসা ও অনুগ্রহ লাভ করে অসাধারণ মানুষে পরিণত হয়ে থাকেন।

অসাধারণ মানুষের পরিচয় : আল্লাহর বিশেষ কিছু বান্দা এমন রয়েছেন, যাঁরা সমাজের সাধারণ মানুষ হলেও আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা, নির্ভরতা ও আনুগত্যের কারণে মহান আল্লাহ তাঁদের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন। ফলে তাঁরা কোনো বিষয়ে আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন। এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা স্বাধীনভাবে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী; বরং তাঁদের ঈমান, ইখলাস এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার কারণে আল্লাহ তাঁদের দোয়া, আশা বা শপথ কবুল করেন।

এটি তাঁদের মর্যাদা এবং আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। আসলে মানুষের প্রকৃত সম্মান ধন-সম্পদ, পদমর্যাদা বা সামাজিক প্রতিপত্তিতে নয়; বরং খাঁটি ঈমান, তাকওয়া, ইখলাস ও আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসে। যাঁরা নিজেদের জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করেন, তাঁরাই প্রকৃত অর্থে অসাধারণ মানুষ এবং আল্লাহর বিশেষ বান্দা। হাদিসে এসেছে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন বান্দাও রয়েছে, যে আল্লাহর নামে কোনো কসম করলে তা পূরণ করে।

(বুখারি, হাদিস : ২৭০৩)

অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসার কারণে এমন কিছু খাঁটি বান্দা রয়েছেন, যাঁরা কোনো বিষয়ে আল্লাহর নামে কসম বা শপথ করলে মহান আল্লাহ তাঁদের সম্মান রক্ষার্থে এবং তাঁদের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে সেই কসম কবুল করেন এবং পূর্ণ করে দেন। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মাথায় উষ্কখুষ্ক চুল এবং দেহে ধূলিমলিন দুইখানা পুরাতন কাপড় পরিহিত এরূপ অনেক ব্যক্তি রয়েছে, যার প্রতি লোকেরা দৃষ্টিপাত করে না। অথচ সে আল্লাহর নামে শপথ করে ওয়াদা করলে তিনি তা সত্যে পরিণত করেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৫৪)

একজন অসাধারণ মানুষের গল্প : একটি হাদিসে এক অসাধারণ মানুষের গল্প বর্ণিত হয়েছে। তাতে তাঁর মর্যাদা ও কর্মের বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, একবার এক ব্যক্তি কোনো এক জঙ্গলে ভ্রমণ করছিলেন। এমতাবস্থায় হঠাৎ মেঘখণ্ড থেকে তিনি এই আওয়াজ শুনতে পেলেন যে অমুকের বাগানে পানি দাও। সঙ্গে সঙ্গে ওই মেঘখণ্ডটি একদিকে যেতে লাগল। অতঃপর এক প্রস্তরপূর্ণ ভূমিতে বারিপাত করল। ওই স্থানের নালাসমূহের একটি নালা ওই পানিতে সম্পূর্ণরূপে ভরে গেল। তখন সেই লোকটি পানির অনুসরণ করে চলল। যেতে যেতে সে এক ব্যক্তিকে তার বাগানে দণ্ডায়মান অবস্থায় কোদাল দিয়ে পানি ফেরাচ্ছে দেখতে পেল।

এটা দেখে সে তাকে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার নাম কী? সে বলল, আমার নাম অমুক, যা সে মেঘখণ্ডের মাঝে শুনতে পেয়েছে। অতঃপর বাগানের মালিক তাকে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার নাম জিজ্ঞেস করলে কেন? জবাবে সে বলল, যে মেঘের এই পানি, এর মাঝে আমি এ আওয়াজ শুনতে পেয়েছি, তোমার নাম নিয়ে বলছে যে অমুকের বাগানে পানি দাও। অতঃপর বলল, তুমি এই (বাগানের ব্যাপারে) কী আমল করো? মালিক বলল, যেহেতু তুমি জিজ্ঞেস করছ, (তাই বলছি) আমি এই বাগানের উৎপাদিত ফসলের প্রতি লক্ষ করি। অতঃপর এর এক-তৃতীয়াংশ সদকা করি, এক-তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার-পরিজন আহার করি এবং এক-তৃতীয়াংশ এতে ফিরিয়ে দিই (চাষাবাদ ও বাগানের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করি)।(মুসলিম, হাদিস : ৭২০৩)

যেভাবে অসাধারণ মানুষ হওয়া যায় : আল্লাহর অসাধারণ বান্দারা সর্বপ্রথম ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালন করেন। নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পিতা-মাতার হক, মানুষের অধিকার—এসব বিষয়ে তাঁরা অত্যন্ত সচেতন থাকেন। ফরজ অবহেলা করে শুধু নফল ইবাদতের মাধ্যমে কেউ আল্লাহর প্রিয়পাত্র হতে পারে না। ফরজ পালনের পর তাঁরা নফল আদায়ে সচেষ্ট হয়ে থাকেন। প্রতিটি ইবাদতের নফল আছে; যেমন—নফল নামাজ, নফল রোজা, নফল দান-সদকা, নফল হজ, নফল কোরবানি ইত্যাদিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। এভাবেই তাঁদের হৃদয় আল্লাহর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তাঁরা আল্লাহর ভালোবাসার পাত্রে পরিণত হন। এটি একজন মুমিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা।

আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাঁর জীবন, চিন্তা ও কর্ম আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত হয়। এমন বান্দার ইন্দ্রিয় ও কর্ম আল্লাহর নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। ফলে তিনি হারাম শোনা, দেখা, ধরা ও চলাফেরা থেকে বিরত থাকেন। তাঁর সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। অর্থাৎ তিনি সত্য কথা শোনেন এবং গ্রহণ করেন। তিনি কল্যাণকর বিষয় দেখেন। তাঁর হাত অন্যায় ও জুলুম থেকে বিরত থাকে। তাঁর পদক্ষেপ সৎকর্মের পথে পরিচালিত হয়। তাঁদের দোয়া কবুল হয়। কারণ তাঁদের অন্তর পবিত্র, উপার্জন হালাল এবং জীবন আল্লাহমুখী। তাঁরা আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধানে থাকেন। বিপদ-আপদে আল্লাহ তাঁদের সাহায্য করেন এবং ঈমানের ওপর অটল রাখেন। তাঁরা মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর স্নেহ ও অনুগ্রহ লাভ করতে থাকেন। এটি আল্লাহর প্রিয় বান্দার প্রতি তাঁর বিশেষ দয়া ও ভালোবাসার পরিচায়ক। যেমন হাদিসে সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমার বান্দা যেসব ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য হাসিল করে থাকে, তার মধ্যে ওই ইবাদতের চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো ইবাদত নেই, যা আমি তার ওপর ফরজ করেছি। আর বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নিই যে আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোনো কিছু চায়, আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দিই। আমি কোনো কাজ করতে চাইলে তা করতে কোনো দ্বিধা করি না, যতটা দ্বিধা করি মুমিন বান্দার প্রাণ নিতে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তাকে কষ্ট দেওয়াকে অপছন্দ করি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)

পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহর অসাধারণ বান্দারা কোনো অলৌকিক ক্ষমতা বা পার্থিব প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে মহান নন; বরং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের মূল ভিত্তি হলো খাঁটি ঈমান, তাকওয়া, ফরজ ইবাদতের প্রতি নিষ্ঠা, নফল আমলে অগ্রগামিতা, দানশীলতা, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা। তাঁরা মানুষের কল্যাণে নিজেদের সম্পদ ও সামর্থ্য ব্যয় করেন, হারাম থেকে দূরে থাকেন এবং সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সচেষ্ট থাকেন। ফলে আল্লাহ তাঁদের ভালোবাসেন, তাঁদের দোয়া কবুল করেন, বিপদে সাহায্য করেন এবং তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করেন।

লেখক : অধ্যাপক, আরবি বিভাগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন ঘাঁটিতে এবার ইরানের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ এম


মার্কিন ঘাঁটিতে এবার ইরানের হামলা

মার্কিন হামলার জবাবে এবার মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার বাহরাইনের যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)।

গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধে পাল্টা ড্রোন হামলা চালায় ইরান।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত আড়াইটায় শাহেদ-১৩৬ (একমুখী আক্রমণকারী) ড্রোন বাহরাইনের মানামায় পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালীর কাশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্র ও বাসিন্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, নিকটবর্তী বন্দর আব্বাসে এবং পরে প্রণালীর প্রবেশপথের কাছে জাস্ক কাউন্টির আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ এম


বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে দল

আসন্ন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছে নরওয়ে। ঢাকাস্থ নরওয়ের দূতাবাস এই সমর্থন চেয়ে একাধিক কারণ উল্লেখ করেছে।

মঙ্গলবার (০৯ জনু) দুপুরে ররেল নরওয়েজিয়ান এম্ব্যাসি ঢাকা নিজেদের ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেছে। ১০ ঘণ্টায় সেখানে বাংলাদেশিদের লাভ রিয়েক্টের বন্যা বয়েছে।

বন্ধুত্বপূর্ণ আবহ দিয়ে লেখা ওই পোস্টে ফুটবল, বিশ্বকাপ, সাগর, মাছ ও লাভ রিয়েক্টের ইমোজি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে এটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

ইংরেজিতে লেখা দূতাবাসের পোস্টটি নিচে বাংলায় হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘বাংলাদেশের উচিত ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়েকে সমর্থন করা!

কেন, জানেন?

কারণ ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি আমাদের দুই দেশের মধ্যে রয়েছে আরও অনেক মিল!

নরওয়ে ছিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি, মধ্যস্থতা এবং জলবায়ু বিষয়ক উদ্যোগেও দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে পারস্পরিক সম্মান, ইতিহাস এবং বন্ধুত্বের ভিত্তিতে।

বাংলাদেশ যেহেতু এই বিশ্বকাপে খেলছে না, তাই ২৮ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরে আসা নরওয়ে হতে পারে বাংলাদেশিদের জন্য সমর্থনের আদর্শ দল।

শুনুন তাহলে আরও কিছু কারণ, আমরা দুজনেই নদী ও সাগরঘেরা উপকূলীয় দেশ, আর মাছের প্রতি ভালোবাসাও আমাদের একটি করে!

ন্যায়বিচার ও সমতার মূল্যবোধে আমরা বিশ্বাস করি হোক তা আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় কিংবা ফুটবল মাঠে।

আমরা দুজনেই নিজ নিজ দিক থেকে “ছোট” বাংলাদেশ আয়তনে তুলনামূলক ছোট, আর নরওয়ে জনসংখ্যার দিক থেকে ছোট। কিন্তু বৈশ্বিক মঞ্চে আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়!

আর যারা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, তাদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ নরওয়ের দলে আছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল তারকা আর্লিং ব্রাউট হালান্ড।

তাহলে কী বলো, বাংলাদেশ?

আন্ডারডগদের পাশে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। একসঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখার সময় এসেছে!’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগানিস্তানে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দুই নারী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ এম


আফগানিস্তানে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দুই নারী নিহত

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে নারীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদের জন্য আয়োজিত এক বিক্ষোভে তালেবান বাহিনী গুলি চালিয়ে দুই নারীকে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। চিকিৎসাকর্মীরা দুই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে, হেরাত পুলিশ মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হিজাব সঠিকভাবে না পরার অভিযোগে নারীদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি, স্থানীয় তালেবান প্রশাসন 'অনুপযুক্তভাবে হিজাব পরা' নারীদের আটক করা শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, নিরাপত্তা বাহিনী লাঠি, চাবুক এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেছে। একজন বিক্ষোভকারী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি, চাবুক ও অস্ত্র ব্যবহার করছে, এমনকি আকাশের দিকে গুলি ছোড়া হচ্ছে। তিনি দেখতে পান যে, বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এএফপির উদ্ধৃত এক আলোকচিত্রী দাবি করেছেন, তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের মারধর করতে এবং জনতার দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি চালাতে দেখেছেন। তিনি বলেন, "আমি যা দেখেছি, তাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা যায়। কিছু নারীকে চিৎকার করে "ওদের মারবেন না" বলতে শোনা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের "শিক্ষা, কাজ, স্বাধীনতা" স্লোগান দিতে দেখা যায়। হেরাত পুলিশ কমান্ডের মুখপাত্র সাইয়েদ মাসউদ হোসেইনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছে। তিনি দাবি করেন, তারা হিজাব-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এবারে আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি হেরাতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়ে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগানিস্তানে, বিশেষ করে নারীদের নেতৃত্বে, বিক্ষোভ খুবই বিরল হয়ে পড়েছে। নারীদের পোশাক, শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রথমদিকে কিছু প্রতিবাদ হলেও পরে তা কমে যায়। অনেক নারী অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে তারা মারধর, নির্যাতন, কারাবন্দি এবং এমনকি পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ডের হুমকিতে রয়েছেন। তালেবান ২০২২ সালে মে মাসে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করেছে। তবে হেরাতে সাম্প্রতিক এই কঠোর অভিযান গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গত শনিবার থেকে তারা নিজের চোখে হিজাব না পরার অভিযোগে নারীদের গ্রেপ্তার হতে দেখেছেন। একজন নারী জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর শহরের বাজারগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। একজন বলেন, তথাকথিত 'নীতিগত পুলিশ' হিসেবে পরিচিত 'গুণাবলি প্রচার ও অসৎকর্ম প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়'-এর কর্মকর্তা নারীদের হিজাব পরিধান পরীক্ষা করতে গাড়ি ও রিকশা তল্লাশি করছেন। তবে নারীদের আটক করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের যথাযথ কোনো বক্তব্য উপলব্ধ হয়নি। হেরাত প্রাদেশিক তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ বহু নারীর গ্রেপ্তারের খবরকে 'ভুল ও গুজব' বলে দাবি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%