০৯:০৫ এম
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে নারীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদের জন্য আয়োজিত এক বিক্ষোভে তালেবান বাহিনী গুলি চালিয়ে দুই নারীকে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। চিকিৎসাকর্মীরা দুই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে, হেরাত পুলিশ মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হিজাব সঠিকভাবে না পরার অভিযোগে নারীদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি, স্থানীয় তালেবান প্রশাসন 'অনুপযুক্তভাবে হিজাব পরা' নারীদের আটক করা শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, নিরাপত্তা বাহিনী লাঠি, চাবুক এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেছে। একজন বিক্ষোভকারী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি, চাবুক ও অস্ত্র ব্যবহার করছে, এমনকি আকাশের দিকে গুলি ছোড়া হচ্ছে। তিনি দেখতে পান যে, বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এএফপির উদ্ধৃত এক আলোকচিত্রী দাবি করেছেন, তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের মারধর করতে এবং জনতার দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি চালাতে দেখেছেন। তিনি বলেন, "আমি যা দেখেছি, তাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা যায়। কিছু নারীকে চিৎকার করে "ওদের মারবেন না" বলতে শোনা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের "শিক্ষা, কাজ, স্বাধীনতা" স্লোগান দিতে দেখা যায়। হেরাত পুলিশ কমান্ডের মুখপাত্র সাইয়েদ মাসউদ হোসেইনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছে। তিনি দাবি করেন, তারা হিজাব-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এবারে আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি হেরাতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়ে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগানিস্তানে, বিশেষ করে নারীদের নেতৃত্বে, বিক্ষোভ খুবই বিরল হয়ে পড়েছে। নারীদের পোশাক, শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রথমদিকে কিছু প্রতিবাদ হলেও পরে তা কমে যায়। অনেক নারী অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে তারা মারধর, নির্যাতন, কারাবন্দি এবং এমনকি পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ডের হুমকিতে রয়েছেন। তালেবান ২০২২ সালে মে মাসে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করেছে। তবে হেরাতে সাম্প্রতিক এই কঠোর অভিযান গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গত শনিবার থেকে তারা নিজের চোখে হিজাব না পরার অভিযোগে নারীদের গ্রেপ্তার হতে দেখেছেন। একজন নারী জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর শহরের বাজারগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। একজন বলেন, তথাকথিত 'নীতিগত পুলিশ' হিসেবে পরিচিত 'গুণাবলি প্রচার ও অসৎকর্ম প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়'-এর কর্মকর্তা নারীদের হিজাব পরিধান পরীক্ষা করতে গাড়ি ও রিকশা তল্লাশি করছেন। তবে নারীদের আটক করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের যথাযথ কোনো বক্তব্য উপলব্ধ হয়নি। হেরাত প্রাদেশিক তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ বহু নারীর গ্রেপ্তারের খবরকে 'ভুল ও গুজব' বলে দাবি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন