প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে উপকূলীয় পাঁচটি স্থানে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে ইরান। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ’র বরাতে আনাদোলু জানায়, সংসদের জ্বালানি ও নির্মাণবিষয়ক কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইসলামী বলেছেন, ২০২২ সালে উন্মোচিত পারমাণবিক শিল্পের সমন্বিত কৌশলগত নথির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তার ভাষ্যমতে, ওই নথির ভিত্তিক জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থায় পারমাণবিক বিদ্যুতের অংশ বৃদ্ধি করতে উপকূলের পাঁচটি স্থানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মোহাম্মদ ইসলামি আরও বলেন, ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহর সম্প্রতি ৮০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। তার দাবি, এর ফলে ১৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল অথবা ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমপরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হয়েছে।
তিনি জানান, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্পকে তিনি দেশের বৃহত্তম অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেন। দক্ষিণ উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত বুশেহর কেন্দ্রটি বর্তমানে ইরানের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
এদিকে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের চলাকালে বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তবে এসব হামলায় কেন্দ্রটির কার্যক্রম বা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
রোববার চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একসাথে, ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিমান হামলা চালায়।
সোমবার ভোরে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত করছে। তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তারা।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি গণমাধ্যম অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলও সম্মত হয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন