ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিরসরাইয়ে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পরিষ্কার করল কৃষক দল


মিরসরাইয়ে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পরিষ্কার করল কৃষক দল

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের নির্দেশনায় মিরসরাই উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পরিষ্কার ও সংস্কার করা হয়েছে।
শনিবার উপজেলার ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের একটি কৃষিপ্রধান এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফারুক সরাসরি অংশ নিয়ে খাল পরিষ্কার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন। তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মিশু ভূঁইয়াসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কৃষক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
দীর্ঘদিন ধরে খালটি পলি, আগাছা ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছিল। কৃষকদের এই দুর্ভোগ লাঘব এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল পরিষ্কার ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সেচব্যবস্থা সহজ করা এবং ফসলের উৎপাদন বাড়াতে খাল, নালা ও জলাধার সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্য থেকেই কৃষক দল জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।
তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
খাল পরিষ্কার কার্যক্রমের খবর পেয়ে নেতাকর্মীদের উৎসাহ দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। তারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, কৃষি ও জনস্বার্থে এমন কার্যক্রম সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলিত খালটি পরিষ্কার হওয়ায় পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।
কৃষক দলের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খাল পরিষ্কার ও সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিমন্ত্রীর সই-সিল জাল করে তদবির বাণিজ্য, মূলহোতা আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


প্রতিমন্ত্রীর সই-সিল জাল করে তদবির বাণিজ্য, মূলহোতা আটক

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের সই এবং সিল জাল করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে পুলিশ মোংলায় এক সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা টুকু শেখ (৩৫)কে আটক করেছে।

রোববার (২ আগস্ট) তাকে পুলিশ আটক করে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

আটক টুকু হলদিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা, যা উপজেলার চিলা ইউনিয়নে অবস্থিত।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, বাগেরহাট-০৩ আসনের (মোংলা-রামপাল) সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র অবৈধ তদবির বাণিজ্য করে আসছিল। এরকম অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার দিনভর পুলিশ প্রযুক্তিগত কৌশলের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান সনাক্ত করে। এর পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে এ চক্রের মূলহোতা টুকু শেখ (৩৫)কে আটক করা হয়।

জানা গেছে, টুকু আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে জামায়াত, এরপর এনসিপি’র দলীয় পরিচয় বহন করে এসেছে। সর্বশেষ টুকু শ্রমিক দলের পরিচয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন।

আটক টুকুর কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম-পদবি সম্বলিত সিল ও স্টাম্পেট জব্দ করা হয়। আটককৃতের বিরুদ্ধে রোববার দিবাগত রাতে জাল জলিয়াতি এবং প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার অপর আসামীদের আটকে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে নতুন সুখবর দিল ওমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে নতুন সুখবর দিল ওমান

ওমান স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ সহজ করার পাশাপাশি পর্যটন খাতকে গতিশীল করতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে ১৪ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে। বিদেশি নাগরিকদের বাসস্থান আইনের নির্বাহী বিধিমালায় নতুন সংশোধনী এনে এই সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর গালফ নিউজের।

সম্প্রতি দেশটির সরকারি গেজেটে রয়্যাল ওমান পুলিশের জারি করা ১০৯/২০২৬ নম্বর সিদ্ধান্তটি প্রকাশিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরদিন থেকেই নতুন নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই আদেশে স্বাক্ষর করেন পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের পরিদর্শক জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসান বিন মহসিন আল শুরাইকি।

নতুন এই নিয়মের আওতায়, ওমানের পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যোগ্য বিবেচিত দেশের নাগরিকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অর্থাৎ শূন্য ওমানি রিয়াল ফি-তে এই ভিসা প্রদান করবে। তবে প্রাথমিক দফায় কোন কোন দেশের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন, সেই তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, নির্ধারিত যোগ্য দেশের তালিকাটি পরে প্রকাশ করা হবে।

ভ্রমণকারীদের জন্য এই নিয়মে নতুন একটি সুবিধাও রাখা হয়েছে। ১৪ দিনের এই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পর্যটকরা চাইলে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সেটিকে অন্য যেকোনো ক্যাটাগরির ট্যুরিস্ট ভিসায় রূপান্তর করে নিতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এফপিইউ ও সোয়াট প্লাটুন পাঠাতে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এফপিইউ ও সোয়াট প্লাটুন পাঠাতে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আগামী দুই মাসের মধ্যে ১২৫ সদস্যের একটি ‘ফর্মড পুলিশ ইউনিট’ (এফপিইউ) এবং একটি সোয়াট প্লাটুন পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় যানবাহন, সরঞ্জাম ও মালামাল প্রস্তুত এবং যাচাইয়ের জন্য ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ইন্টারনাল অপারেশনস শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী ‘পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেম’-এর আওতায় বাংলাদেশ পুলিশকে এই বাহিনী পাঠাতে হবে। সেজন্য একটি এফপিইউ ও সোয়াট প্লাটুনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের মালামাল এবং প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম তৈরি আছে কি না, তা পরীক্ষা করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতেই এই কমিটি কাজ করবে।

কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি (ফিন্যান্স) মো. আতিকুর রহমানকে। সদস্য হিসেবে আছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি নাছিমা আক্তার, আশরাফুজ্জামান, ও মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কেপিএইচের পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি এ.এইচ.এম. ইয়াহদুল ইসলাম ও ড. মাসুরা বেগম, পুলিশ টেলিকমের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার বিন সালেহ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী।

আদেশ অনুযায়ী, এই কমিটি যানবাহন, প্রধান প্রধান সরঞ্জাম এবং মিশনে টিকে থাকার মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেপে এবং পরীক্ষা করে দেখবে। পাশাপাশি আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় নতুন সরঞ্জাম কেনা ও সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করবে।

এছাড়া জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের পরিদর্শনের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া, মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা (কার্গো লোড লিস্ট) তৈরি করা এবং পুলিশ সদস্যদের বিশেষ সোয়াট প্রশিক্ষণ দিয়ে মেধার ভিত্তিতে মূল বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার দায়িত্বও থাকবে এই কমিটির ওপর।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলি হোসেন ফকিরের অনুমোদনে জারি করা এই আদেশে স্বাক্ষর করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানবাধিকার ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ এম


মানবাধিকার ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট

পাকিস্তান প্রতি বছর ৫ আগস্ট ‘ইউম-ই-ইস্তাহসাল’ বা ’শোষণ দিবস’ পালন করে। ২০১৯ সালের এই দিনে, ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে এবং কাশ্মিরের জনগণের প্রতি সংহতি জানাতে পাকিস্তান দিনটি পালন করছে। এটি সংগঠিত করা হয় ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের জনগণের দুর্দশা উল্লেখ করে, বরং মানবাধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে তাদের প্রতি আবেগঘন আবেদন জানাতে। ‘শোষণ দিবস’ পালন শুধু একটি প্রতীক নয়, বরং কাশ্মিরের জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যম।

কিন্তু পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের সাম্প্রতিক সহিংসতা বাস্তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার একটি নতুন চিত্র প্রদর্শন করে, যা পাকিস্তানের রাষ্ট্র হিসেবে নির্ভরযোগ্যতার এক বড় পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং আইনসভার সংরক্ষিত আসনের বিতর্কিত বরাদ্দের বিরুদ্ধে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে বিক্ষোভ দমন করা হচ্ছে নিষ্ঠুরভাবে। আসলে গত ২৭ জুলাই থেকে নির্বাচনের জন্য শুরু হওয়া বিক্ষোভ ৫ জুন থেকে চলছে, যখন কাশ্মিরের বিভিন্ন স্তরের জনগণ তাদের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের ৩৮ দফা তদবিরের মধ্যে প্রধান দাবি হলো বিধানসভায় কাশ্মিরের বাইরের কাশ্মিরী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা। আসলে, ইসলামাবাদ এটি ব্যবহার করে কাশ্মিরকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিক্ষোভের সময় আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। অপরদিকে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এবং বিক্ষোভে শত্রুভাবাপন্ন উপাদান অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে দাবি করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের বক্তব্যগুলোকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়েছে এবং একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে রেখেছে। তারা জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া, অ্যামনেস্টি কাশ্মিরে যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনর্বহাল এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতির জন্য আহ্বান জানায়।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রাকৃতিক উষ্ণতা। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরের বিক্ষোভকারীদের ‘ভারতের মতো শত্রু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ধরনের ভাষা কেবল উত্তেজনা বাড়ায় না, বরং এটি নাগরিকদের গণতান্ত্রিক বৈধতা কেড়ে নিয়ে শাসক সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভিন্নমতকেও দেশদ্রোহিতা হিসেবে উপস্থাপন করে। একটি সরকার যখন নিজেদের প্রতিবাদী নাগরিকদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রাণঘাতী দমনের মধ্যে বিভেদ যথেষ্ট দ্রুত হারিয়ে যায়।

অন্যদিকে, যখন ইসলামাবাদ বিশ্ববাসীকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সমালোচনা করতে আহ্বান করে, তখন এই মুহূর্তেই নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের পক্ষে সাফাই গায়। এই বৈপরীত্যকে অতিক্রম করা সম্ভব নয়। আসলে মানবাধিকারের সংজ্ঞা আলাদা আলাদা করে বিচার করা সম্ভব নয়, তা হওয়া উচিতও নয়। কূটনৈতিক সুবিধার জন্য একদিকে নির্বাচনে শক্তি ব্যবহার করা এবং অন্যদিকে নিজের দেশে অস্বীকার করা মোটেই চলতে পারে না।

স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানে মানবাধিকারের চিত্রের দোষ রয়েছে গুম, নির্বিচার আটক, বাকস্বাধীনতায় নিষেধাজ্ঞা এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নানা অভিযোগের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনগুলোতে বিভিন্ন অবস্থানে প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে। রাজনৈতিক কর্মীরা এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগ থেকেই ভিন্নমতকে দমনের অভিযোগ করা হয়েছে। এই প্যাটার্নটি অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে বেলুচিস্তানে সবচেয়ে প্রকাশ্য। বছরের পর বছর ধরে, বেলুচ পরিবারের সদস্যরা তাদের অনলাইন নিখোঁজ আত্মীয়ের ছবি নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে জবাব চাইছে। কিন্তু রাষ্ট্রের ভর্তি জবাব নেই, কখনো গুলি চালায়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার জোরপূর্বক গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার পক্ষে অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছে। কিন্তু পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বারবার এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য প্রমাণিত হয়। তারা বলছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার জন্য সামরিক অভিযানগুলো প্রয়োজনীয়। তবে একই ঘটনা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তির ওপর গভীর ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে।

একটি সরকারের সামরিক শক্তি দিয়ে বৈধ রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা দমন করা হলে কী ধরনের ফলাফল হতে পারে তা বোঝার জন্য অন্য স্থানে যাওয়ার দরকার নেই। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল পাকিস্তানের এই ধরনের দমন-পীড়ণের প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলন পাকিস্তানের স্বাধীনতার পরেও একই ঘটনা দারুনভাবে ঘটেছে। ইতিহাস সময়ের সাথে বদলায়, তবে ইতিহাসের শিক্ষা স্থায়ী। রাষ্ট্রগুলি নিপীড়নের মাধ্যমে স্থায়ী একতা অর্জন করতে পারে না; এভাবে হয়তো সাময়িকভাবে দমন করা সম্ভব, কিন্তু মর্যাদা, প্রতিনিধিত্ব ও ন্যায়ের দাবির মুখে একেবারেই নিষ্ক্রিয় করা যায় না।

এখন উল্লেখযোগ্য এই যে, মানবাধিকার প্রশ্নে পাকিস্তানের দ্বিচারিতা এবং বৈপরীত্যের বিরুদ্ধে যে তীব্র সমালোচনা আসছে, তা পাকিস্তানের ভেতর থেকেই আসছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি ইউরোপের দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং কাশ্মিরের ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নীরবতার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। পাকিস্তানি ভাষ্যকার এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সরকারের অগ্রাধিকার কীভাবে দেশবাসীর দুর্ভোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সে প্রশ্ন তুলেছেন। এই ধরনের সমালোচনাকে বিদেশি প্রচারণা বলে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বরং এটি সাংবিধানিক আদর্শ এবং সরকারের আচরণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ফারাকের প্রতিফলন।

পাকিস্তান নিঃসন্দেহে জঙ্গিবাদ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বুঝতে পারা উচিত, তাদের নিরাপত্তার হুমকি রয়েছে কিনা, তা বিচার্য নয়, বরং তারা কীভাবে সেগুলোর মোকাবিলা করছে সেটাই এর মূল বিষয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন দাবি করে যে, বলপ্রয়োগ হওয়া উচিত প্রয়োজনীয়, আনুপাতিক এবং জবাবদিহিমূলক।

যতদিন না পাকিস্তান পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর, বেলুচিস্তান, সিন্ধু এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় নাগরিক স্বাধীনতার প্রতি সেই একই প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করছে, যা তারা অন্য পরীক্ষায় দাবি করে; ততদিন তাদের মানবাধিকারের পক্ষে ওকালতি দেশের ভেতরের অস্বস্তিকর বাস্তবতার কারণে ম্লান হতে থাকবে। মানবাধিকারের সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষা একটি দেশের নিজস্ব সীমার ভেতরে শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%