খায়রুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
০১:২৮ এম
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে একটি ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগের কথা স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছিল। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালানো হয়।
অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই বাসায় অবস্থানকারী ব্যক্তি সাদুল্লাপুর উপজেলার ৭ নম্বর ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ধাপেরহাটের ওই ভাড়া বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
সরেজমিনে বাসাটিতে গিয়ে বিভিন্ন পুতুল, তাবিজ তৈরির সরঞ্জাম এবং মানুষের হাড় ও মাথার খুলির মতো দেখতে কিছু বস্তু দেখা যায়। তবে এসব বস্তুর প্রকৃত পরিচয়, উৎস কিংবা ব্যবহার সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, নানা সমস্যা সমাধান, তাবিজ-কবজ এবং অলৌকিক ক্ষমতার আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং উদ্ধার হওয়া আলামতের প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলা সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জুয়ার আসর থেকে অর্থ আদায়, জব্দ করা ইলিশ বিক্রি এবং চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর উত্তর অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় ‘পান্না প্যালেস’ নামে একটি বহুতল ভবন, কাউনিয়া ও আমতলা মোড় এলাকায় তার ও তার স্ত্রীর নামে একাধিক জমির প্লট এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কাজলাকাঠি গ্রামে একটি ফার্মহাউস রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, তার স্ত্রী শাহনাজ পান্নার কোনো দৃশ্যমান আয়ের উৎস না থাকলেও তার নামে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, প্রায় ১৩০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন স্থানে জমি রয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চরফ্যাশন ও বোরহানউদ্দিন থানায় কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া অতীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সেসব তদন্ত এগোয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ দাবিরও স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে ভোলা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল কার্যালয়ের উপপরিচালক এইচ. এম. আক্তারুজ্জামান জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে মো. মনির হোসেন মিয়া ফোনে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে আর কথা বলেননি। তার স্ত্রী শাহনাজ পান্নার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সুনামগঞ্জ মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ট্রাফিক পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নুরুল আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মো. শামস উদ্দিন।
তিনি বলেন, “শহিদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে অতীতের মতো আর যেন কেউ ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।”
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আব্দুল্লাহ, নায়েবে আমির মমতাজুল হাসান আবেদ, জেলা অফিস সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম এবং পৌর জামায়াতের আমির আব্দুস সাত্তার মামুন। এছাড়া জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অবিলম্বে জুলাই সনদ কার্যকর করা জরুরি। তারা দ্রুত এ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় পুরোদমে কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ সম্পন্ন হলে যমুনার ভাঙন থেকে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগামী সেপ্টেম্বরেই দেশে ফিরে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আশ্চর্য ইনোভেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব ওয়ারেস খান। তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে পারে।
রোববার (২৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার পরিবর্তে আইনের শাসন, সহনশীলতা এবং জাতীয় ঐক্যের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির সাংবিধানিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্ণব ওয়ারেস খান বলেন, সেপ্টেম্বর মাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ২৮ সেপ্টেম্বরকে একটি প্রতীকী দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ওই দিনে তাঁর বড় চাচা কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খান, শেখ হাসিনা এবং কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের জন্মদিন হওয়ায় দিনটি তাঁর কাছে বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
তিনি তাঁর দাদি বদরুন্নেসা খানমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান ও ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের কথাও স্মরণ করেন।
বর্তমান সামাজিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারিবারিক বন্ধন, ছোটদের প্রতি স্নেহ, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং এশীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একটি মানবিক, সুস্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে এসব মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব সমমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হওয়া উচিত। দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে তিনি একটি ‘আমরণ মৈত্রী চুক্তি’র ধারণাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এ সম্পর্কের ভিত্তি হবে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংকটকালে সহযোগিতা এবং যৌথ উন্নয়নের অঙ্গীকার।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে অর্ণব ওয়ারেস খান বিভাজন, বিদ্বেষ ও সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “রাজনীতি হোক খেলাধুলার মতো সৌহার্দ্যপূর্ণ। রাজনীতি হোক ঈদ, পূজা, বড়দিনসহ সব ধর্মীয় উৎসবের মতো সম্প্রীতির। রাজনীতি হোক ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন ও মানবিকতার প্রতীক। যেভাবে আমরা নিজেদের ঘর-আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখি, ঠিক সেভাবেই দেশ ও রাজনীতিকেও পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। দেশটা আমাদের সবার। রাজনীতি হোক বাঙালির উদার, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয় ঐক্য এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ