মোহাম্মদ নূর, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
০১:৩৮ এম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সুনামগঞ্জ মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ট্রাফিক পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নুরুল আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মো. শামস উদ্দিন।
তিনি বলেন, “শহিদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে অতীতের মতো আর যেন কেউ ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।”
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আব্দুল্লাহ, নায়েবে আমির মমতাজুল হাসান আবেদ, জেলা অফিস সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম এবং পৌর জামায়াতের আমির আব্দুস সাত্তার মামুন। এছাড়া জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অবিলম্বে জুলাই সনদ কার্যকর করা জরুরি। তারা দ্রুত এ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় পুরোদমে কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ সম্পন্ন হলে যমুনার ভাঙন থেকে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগামী সেপ্টেম্বরেই দেশে ফিরে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আশ্চর্য ইনোভেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব ওয়ারেস খান। তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে পারে।
রোববার (২৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার পরিবর্তে আইনের শাসন, সহনশীলতা এবং জাতীয় ঐক্যের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির সাংবিধানিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্ণব ওয়ারেস খান বলেন, সেপ্টেম্বর মাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ২৮ সেপ্টেম্বরকে একটি প্রতীকী দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ওই দিনে তাঁর বড় চাচা কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খান, শেখ হাসিনা এবং কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের জন্মদিন হওয়ায় দিনটি তাঁর কাছে বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
তিনি তাঁর দাদি বদরুন্নেসা খানমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান ও ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের কথাও স্মরণ করেন।
বর্তমান সামাজিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারিবারিক বন্ধন, ছোটদের প্রতি স্নেহ, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং এশীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একটি মানবিক, সুস্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে এসব মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব সমমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হওয়া উচিত। দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে তিনি একটি ‘আমরণ মৈত্রী চুক্তি’র ধারণাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এ সম্পর্কের ভিত্তি হবে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংকটকালে সহযোগিতা এবং যৌথ উন্নয়নের অঙ্গীকার।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে অর্ণব ওয়ারেস খান বিভাজন, বিদ্বেষ ও সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “রাজনীতি হোক খেলাধুলার মতো সৌহার্দ্যপূর্ণ। রাজনীতি হোক ঈদ, পূজা, বড়দিনসহ সব ধর্মীয় উৎসবের মতো সম্প্রীতির। রাজনীতি হোক ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন ও মানবিকতার প্রতীক। যেভাবে আমরা নিজেদের ঘর-আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখি, ঠিক সেভাবেই দেশ ও রাজনীতিকেও পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। দেশটা আমাদের সবার। রাজনীতি হোক বাঙালির উদার, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয় ঐক্য এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের ভবিষ্যৎ দেশটির জনগণই নির্ধারণ করবেন। একইসাথে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের সময়ে ধৈর্য ও দৃঢ়তার পরিচয় দেওয়ার জন্য ইরানের জনগণকে ‘বীর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি বার্তায় পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ, চাপ এবং ধারাবাহিক বৈরিতার মাঝেও ইরানের জনগণ দৃঢ়ভাবে দেশকে সমর্থন করে গেছেন।
তিনি সংঘাতের সূচনা হিসেবে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করেছেন। ওই সময়, হানিয়া নিজের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে অবস্থান করছিলেন।
পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সেই ঘটনার পর থেকে ইরান নানা ধরনের যুদ্ধ, চাপ ও অবিরাম শত্রুতার সম্মুখীন হয়েছে। তবে, সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণ দেশের পাশে দেখতে পাওয়া গেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ইরানের ভবিষ্যৎ ইরানের জনগণই গড়ে তুলবেন।’
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বিনামূল্যে জাপানি ভাষা শেখাবেন তানভীর আহমেদ
ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর আহমেদ।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমে ক্লাস করার সুযোগ পাবেন। এ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ধরনের ভর্তি ফি বা আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন হবে না।
মো. তানভীর আহমেদ বলেন, তিনি নিজেও বর্তমানে একটি জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষার্থী। নিজের শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সেই জ্ঞান অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতেই তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করাই একজন ছাত্র প্রতিনিধির মূল দায়িত্ব।”
আয়োজক পক্ষ জানায়, অনলাইন ক্লাস সপ্তাহে তিন দিন রাত ৯টা থেকে জুম অ্যাপ বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে তিন দিন সকাল ৯টা থেকে নির্ধারিত কক্ষে সরাসরি অফলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন।
উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের একটি ভাষাগত দক্ষতার সঙ্গে পরিচিত করা, যাতে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি (স্কলারশিপ) কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তারা বাড়তি সুবিধা অর্জন করতে পারেন।
ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মোন্নয়নের একটি সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের সেবামূলক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভাষা শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ