মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
০১:১৬ এম
শেরপুরে বেলা ২টা বাজতেই শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কের ঈদগাহ মাঠে জড়ো হন একদল মানুষ। কেউ বয়স্ক, কেউ শিশু, কেউবা দিনমজুর কিংবা ভাসমান মানুষ। তাঁদের কারও হাতে নেই পর্যাপ্ত টাকা, কারও আবার দুপুরের খাবার জোগাড় করাটাই কঠিন। তাই বেলা ১টা থেকেই একবেলা খাবারের আশায় অপেক্ষা করেন তাঁরা। এরপর একটি ভ্যান এসে থামলেই শুরু হয় খাবার পরিবেশন। থালায় তুলে দেওয়া হয় গরম ভাত, ডাল, সবজি, ডিম, মাছ কিংবা মাংস। এভাবেই প্রতিদিন অন্তত একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নৃ ফাউন্ডেশন।
শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কে প্রতিদিনের এই মানবিক উদ্যোগের নাম ‘অনাহারীর আহার’। সংগঠনটির দাবি, গত ছয় বছর ধরে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে অসহায় মানুষের জন্য খাবার বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
খাবার খেতে আসা এসব মানুষের মধ্যে রয়েছেন ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষ, ভিক্ষুক, দরিদ্র রিকশাচালক, হকার ও দিনমজুর। তাঁদের অনেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ শেষে এখানে এসে দুপুরের খাবার খান। কেউ কেউ জানান, সামান্য আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে প্রতিদিন দুপুরে পেট ভরে খাবার খাওয়ার সামর্থ্য তাঁদের থাকে না। নৃ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ তাঁদের সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করছে।
খাবার খেতে আসা কয়েকজন বলেন, প্রতিদিন ভালো খাবার জোটে না। এখানে এসে নিয়মিত দুপুরের খাবার খেতে পারি। এমন উদ্যোগ যেন বন্ধ না হয়, সেটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
২০২০ সালে করোনা মহামারির দুঃসময়ে মানুষের অসহায়ত্ব দেখে এই কার্যক্রম শুরু করে নৃ ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আওরঙ্গজেব আকন্দ জানান, করোনা পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্তত একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেই ‘অনাহারীর আহার’ কর্মসূচি চালু করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ১০০ জন অসহায় মানুষের জন্য একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। মাসের ১৫ থেকে ২০ দিন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, বিয়ে কিংবা অন্যান্য উপলক্ষে খাবার বিতরণের দায়িত্ব নেন। বাকি দিনগুলোতে নৃ ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থায়নে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
শুধু খাবার বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয় সংগঠনটির কার্যক্রম। রমজান মাসে ইফতার বিতরণ, মৌসুমি ফল বিতরণ এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানেও কাজ করছে তারা। ‘অসহায়ের সহায়’ নামে আরেকটি কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংগঠনটির ২১ সদস্যের এই তরুণ দল দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সহায়তা সংগ্রহ করা হয়।
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা এই উদ্যোগে প্রতিদিন খাবার পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে অসহায় মানুষের জীবনে। তবে সমাজের দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়া শুধু মানবিক সহায়তা নয়, তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষারও একটি প্রয়াস। নৃ ফাউন্ডেশনের তরুণেরা সেই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলেছেন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে আরও বেশি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বিভিন্ন স্থানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-২) পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৪ কেজি ৮৫০ গ্রাম ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ বস্তু এবং সাত বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সব ঘটনায় ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ডিবি-২ পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে জামালপুরের বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলার সভাচর এলাকায় রফিকুলের মনোহারি দোকানের সামনে থেকে ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন মো. বাহাদুর আকন্দ (৪৬) ও মো. এশরাদ আলী (৩৯)। তাদের দুজনের বাড়ি ইসলামপুর উপজেলায়।
অপরদিকে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া বাজারে ফরহাদ হোসেনের ইলেকট্রিক দোকানের পেছনের একটি কক্ষ থেকে কষ্টিপাথর সদৃশ ৪ কেজি ৮৫০ গ্রাম ওজনের বস্তুসহ আটজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন সাইদুল ইসলাম (৪১), ফরহাদ হোসেন (৩৫), বাবু মিয়া (৪২), ফেলু মিয়া (৩১), আমজাদ হোসেন (৭০), জোয়াহের (৫৩), সবুজ মিয়া (৪৪) ও কামরুজ্জামান ওরফে রিপন (৬০)। তাদের মধ্যে প্রথম চারজনের বাড়ি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এবং অপর চারজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী ও গোপালপুর উপজেলায়। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা কষ্টিপাথর চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য।
এ ছাড়া বকশীগঞ্জ উপজেলার নতুন বাট্টাজোড় বাজারে সাত বোতল ভারতীয় মদসহ হারান বণিক (৫৫) নামের একজনকে আটক করা হয়। তিনি বকশীগঞ্জ পৌরসভার সীমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
ডিবি-২-এর ইনচার্জ সজীব রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক যুবককে সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম মো. মিঠু মিয়া (১৯) বলে জানা গেছে।
মোহাম্মদপুর থানার সূত্র অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর রাতের শেষভাগে মোহাম্মদপুর থানার ১ নম্বর বুদ্ধিজীবী রোডের মিনা হাউজ গলিতে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সামনে অভিযান চালিয়ে মিঠু মিয়াকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি সামুরাই (ধারালো অস্ত্র) উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর রায়েরবাজার কমিউনিটি সেন্টারের সামনে সংঘটিত আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গেও গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া মিঠু মিয়াকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার গাড়াজান গ্রামে এক কৃষি শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। নিহত কৃষি শ্রমিকের নাম আশরাফ আলী (৪০) এবং তিনি ওই গ্রামের লোকমান হোসেনের পুত্র।
শুক্রবার দুপুরে বেগুনক্ষেতে পানি সেচ দেওয়ার সময় সেচ পাম্পের লিকেজ তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি।
স্থানীয় লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শিবগঞ্জ বাজারে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নমাজ আলী এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত আশরাফ আলী একজন কৃষি শ্রমিক ছিলেন। তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ফুলবাড়ীয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, বিষয়টি এখনও কেউ জানায়নি। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে আরও একটি পদক্ষেপ এগিয়ে গেলেন। আল নাসরের হয়ে আল ফয়সালির বিরুদ্ধে ম্যাচে একটি গোল করে, পর্তুগিজ এই তারকা তার অফিসিয়াল ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যা ৯৮২-তে নিয়ে গেছেন।
এখনও ৪১ বছর বয়সে গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অনন্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী এই ফুটবলার।
আল ফয়সালির মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আল নাসর ৩-১ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে। জোয়াও ফেলিক্সের পাস থেকে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। আল নাসরের পক্ষে বাকি দুটি গোল করেন আল হামদান ও অ্যাঞ্জেলো। অন্যদিকে, আল ফয়সালির হয়ে ব্যবধান কমানোর একমাত্র গোলটি আসে বংগোন্ডার পা থেকে।
মোট মিলিয়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে রোনালদোর গোলসংখ্যা এখন ৯৮২। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে তিনি ১,১০৯টি ম্যাচে ৮৩৬টি গোল করেছেন। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৪৬।
ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সর্বাধিক ৪৫০টি গোল করেছেন রোনালদো। এছাড়া, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ১৪৫টি, আল নাসরের হয়ে ১৩৪টি, জুভেন্টাসের জার্সিতে ১০১টি এবং শৈশবের ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে ৫টি গোল করেছেন।
চলতি মৌসুমে আল নাসরের হয়ে ইতোমধ্যে ৬টি গোল পূর্ণ করেছেন এই ফরোয়ার্ড—যার মধ্যে ৫টি এসেছে সৌদি প্রো লিগে এবং একটি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগে। পেশাদার ফুটবলে এক হাজার গোলের অবিস্মরণীয় মাইলফলক স্পর্শ করতে রোনালদোর প্রয়োজন আর মাত্র ১৮টি গোল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ