শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৫ এম
উত্তর জনপদের অর্থনৈতিক সূচকে অনগ্রসর জেলা হিসেবে তকমা পেয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ ১৬টি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত এ জেলায় প্রায় ২৬ লক্ষ লোকের বাস। ০৯টি উপজেলায় প্রায় ৪ শতাধিক চর রয়েছে। কুড়িগ্রাম শহরেই নানা পেশার প্রায় ৫ লক্ষ লোক বাস করে। শিশুদের সুস্থ বিনোদন ও মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করেই পার্কবিহীন এ শহরে জেলা পরিষদ তার নিজস্ব ৭৩ শতাংশ জমির উপর ডায়াবেটিস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় শিশু পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্থানীয় অধিবাসীরা জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
সূত্রমতে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ পার্কটি ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। শিশু পার্কটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সুন্দর ও নান্দনিক ডিজাইনের শিশু পার্কটিতে রয়েছে সুইং চেয়ার, মিনি ইলেকট্রিক ট্রেন, অ্যাডভান্সার কার, মেরি-গো-রাউন্ড, জেড কোস্টার, ওয়ান্ডার হুইল, বাউন্সিং রাইড, হাতে চালিত রকার, শিশুদের খেলার মাঠ,চারিদিকে সোলার স্টিট লাইট, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, সুন্দর ও আধুনিক গোইট, দেয়ালে শিশুদের ছবিসহ বাচ্চাদের উপযোগী নানা শ্লোগান যা ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর নজর কেড়েছে।
জেলা পরিষদ অফিস সূত্রে জানা যায় যে, পার্কটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে আগামী ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ সালে।
শিশুপার্কটির নির্মাণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, শিশু পার্কটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। হস্তান্তরের আবেদন এখনও করি নাই। আশা করছি ৩০ অক্টোবরের আগেই হস্তান্তর করতে পারবো।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন যে, পার্কটি হস্তান্তরের আবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলদের নিয়ে জেলা প্রশাসন একটি শক্তিশালী পরিদর্শন টীম গঠন করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট টীমকে সার্বিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে পত্র প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে এবং পার্কের সকল কাজ সমাপ্ত হলে স্থানীয়দের চাহিদার কথা মাথায় রেখে খুব শ্রীঘ্রই পার্কটি উদ্বোধন করা হবে। পার্কটি চালু হলে শিশুদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।
পাশাপাশি রৌমারী ৪তলা ডাকবাংলো হস্তান্তরের আবেদন পাওয়া মাত্রই একইভাবে পরিদর্শন টীম গঠন করে দেয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক এ বিষয়ে জানান, কুড়িগ্রামে অন্য কোন পার্ক না থাকায় এ শিশু পার্কটি দ্রুত খুলে দেয়ার জন্য চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলছি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের আবেদন করলে, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের পরিদর্শন প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শ্রীঘ্রই কুড়িগ্রাম জেলাবাসীর জন্য এ পার্কটি উন্মুক্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী ভিসায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে পেতে বিদেশি কর্মীদের জন্য যে ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে। খবর রয়টার্সের
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি এবং আরও কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীদের চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। এতে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়তে পারে।
চাকরি হারানো দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু রয়েছে। কোনো বিদেশি কর্মীর চাকরি চলে গেলে এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে তিনি নতুন চাকরি বা নতুন স্পনসর খুঁজতে পারেন।
এছাড়া, এই নিয়মে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে বাড়ি বিক্রি করা, সন্তানদের স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়া কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও পান তারা।
তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে সেই সময়সীমা আর থাকবে না। চাকরি শেষ হওয়ার পর দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে কর্মীকে।
অবশ্য, কিছু ক্ষেত্রে কর্মী যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলে যাওয়ার পর তার নতুন নিয়োগকর্তা আবেদন করলে তিনি আবার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসার গুরুত্ব অনেক। ১৯৯০ সালে এই এইচ-১বি ভিসা চালু করে মার্কিন কংগ্রেস। বিশেষ দক্ষতার কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ভিসা ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ডেলয়েট, পিডব্লিউসি ও আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বড় এইচ-১বি স্পনসর। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানও উল্লেখযোগ্য স্পনসর।
ডিএইচএস বলেছে, নতুন নিয়মে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী ব্যবস্থাপনায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব পদে সমান যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে ব্যবসায়িক অভিবাসন বিষয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীরা বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদেশি কর্মীদের ছাঁটাই ও চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য মানবসম্পদ বিভাগগুলোর হাতে সময় অনেক কমে যাবে। বিশেষ করে বড় প্রযুক্তি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ চাকরি হারানোর পর কর্মীর নতুন স্পনসর খোঁজার সুযোগ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।
এছাড়া, প্রস্তাবিত পরিবর্তন শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ই-১ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ভিসাধারীদের ওপরও এটি প্রযোজ্য হতে পারে। এর আওতায় থাকবে ই-২ বাণিজ্যিক যানবাহন পরিচালনাকারী ভিসাও।
সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের এল-১ ভিসা এবং বিজ্ঞান, ক্রীড়া বা শিল্পকলায় অসাধারণ দক্ষতার অধিকারীদের ও-১ ভিসাও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় আসবে।
টিএন পেশাজীবী কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি১ ভিসা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ দক্ষতার কর্মীদের জন্য ই-৩ ভিসাতেও এর প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈধ অভিবাসন সীমিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রশাসন। দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসা ফি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন মিশনে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার কর্মসংস্থান শেষ হওয়ার পর বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ কমানোর প্রস্তাব সামনে এল।
প্রস্তাবিত নিয়মটি অবশ্য এখনো কার্যকর হয়নি। এটি আইনে পরিণত হওয়ার আগে দুই মাসের জনমত গ্রহণের সময় রয়েছে। এই সময়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো প্রস্তাবটির ওপর মতামত দিতে পারবে। এরপর প্রশাসন সেই মতামত বিবেচনা করে নিয়মটি চূড়ান্ত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় বুকাভু শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে পালানোর সময় অন্তত ১৪ শিশুর করুণ মৃত্যু ঘটে। এছাড়াও, বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে যে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বুকাভু শহরের বাগিরা এলাকায় ‘উজামা প্রাথমিক স্কুলে’ ক্লাস চলাকালীন এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এএফপি জানায়, ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পুরো স্কুলটি কাঠের তৈরি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় ক্লাসরুমে দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে ছাত্র-ছাত্রীরা ভবনের ওপর তলা থেকে নিচে লাফ দিতে শুরু করে।
স্কুলটির এক শিক্ষক সাইমন কাসামিরা চিকিৎসারত অবস্থায় জানান, ক্লাস চলার সময় হঠাৎ শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনতে পান। কেউ ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দিচ্ছিল, আবার কেউ মূল দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশ থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের খোঁজে ছুটে আসেন। দেখতে দেখতে পুরো কাঠের ভবনটি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের ঘটনা। স্থানীয় নেতা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, আগুনের ভয়াবহতায় শিশুরা হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে একে অপরকে মাড়িয়ে যায়। এতে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ ঘটনার ফলে শুধু স্কুলই নয়, আশপাশের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক হিসাবে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে এবং মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তীতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ (M23) এক বিবৃতিতে জানায়, এ ঘটনায় ১৯ জন মেয়ে ও ৫ জন ছেলেসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে বর্তমানে ২৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিকটস্থ একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, আমাদের এখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই চারজন এবং হাসপাতালে আনার পর ১০ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ১৪ জন শিশুর সবার বয়সই ১০ বছরের নিচে। এছাড়াও, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও ২৭ জনকে শহরের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কঙ্গোর এই পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুকাভু পাহাড়ঘেরা এবং এখানকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি কাঠ দিয়ে তৈরি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে এখানে প্রায়ই মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এর আগে গত অক্টোবরেও এক অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু। শহরটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার তীব্র ঘাটতি থাকায় সহজেই এসব আগুন মারাত্মক আকার ধারণ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল গেজেট আকারে প্রকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। ভেটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জারি হবে প্রজ্ঞাপন।
এদিকে, ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নের জন্য সরকার নতুন একটি ছক তৈরি করছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সাতটি পৃথক এসআরওর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। একইসঙ্গে আইবাস প্লাস প্লাসে চাকরিজীবীদের তথ্য হালনাগাদ করে অনলাইনে নতুন বেতন নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে পদ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতির তথ্য অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে।
প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক সাত এসআরও বা বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ থাকবে। বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ-এ সাত ক্ষেত্রের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে কার্যকর করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে এসব আদেশে।
এছাড়া, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ হবে আইবাসে। এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনলাইনে আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে চাকরি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, "প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।" বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামোর প্রয়োগে যেসব কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য রয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের কাজ আরও স্পষ্ট হবে।
সাতটি পৃথক এসআরও-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো প্রয়োগের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আইবাস প্লাস প্লাস-এ তথ্য হালনাগাদ এবং বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সাতটি পৃথক এসআরও জারি করা হবে। এগুলো হলো— সিভিল বা বেসামরিক প্রশাসনের সাধারণ বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন কাঠামো; পুলিশ বিভাগ-পুলিশ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ; বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এই বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পৃথক বিধান; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ-সরকারি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কাঠামো; স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান-সরকারের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন কাঠামো; সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ—সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য সংশ্লিষ্ট যৌথ বাহিনী নির্দেশনা ও বেতন কাঠামো এবং জুডিশিয়াল বা বিচার বিভাগ-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও বিচারকদের জন্য প্রযোজ্য কাঠামো।
অর্থাৎ একটি সাধারণ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূল কাঠামো কার্যকর হলেও বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত প্রয়োগবিধি পৃথক আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অর্থ বিভাগ সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাস-এর আওতায় আরও পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ে আসতে চায়। বর্তমানে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা।
সরকারি কর্মচারীদের অনলাইন বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থায় জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুযোগও রয়েছে। এর মধ্যে পদ, গ্রেড, মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তথ্য পূরণ ও যাচাই হয়ে গেলে নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা কত হবে, তা সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ হয়ে যাবে।
এতে প্রত্যেক কর্মচারী নিজের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোয় তার আর্থিক অবস্থান জানতে পারবেন। আইবাস প্লাস প্লাস-এর বর্তমান ব্যবস্থায়ও অনলাইন বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়কর-সংক্রান্ত হিসাব তৈরি এবং বেতন-পেনশন ইএফটির মাধ্যমে দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। নবম পে-স্কেলে গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট ও বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা বিধান থাকায় বিদ্যমান সফটওয়্যারকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো— কাগজে-কলমে বেতন নির্ধারণের বদলে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা। এতে একজন কর্মচারীর বেতন নির্ধারণে হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ