০৪:২৩ এম
দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ জুতা পরে থাকার ফলে পায়ে দুর্গন্ধ হওয়া একটি পরিচিত সমস্যা। এমনকি পরিষ্কার পা থেকেও এই ধরনের গন্ধ তৈরি হতে পারে। এর মূল কারণ হলো ঘাম, ত্বকে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া এবং জুতা-মোজার ভেতরে জমে থাকা আর্দ্রতা। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অথবা প্রতিদিন একই জুতা পরার অভ্যাস থাকলে এই সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাধারণত পায়ে দুর্গন্ধের জন্য শুধু ঘাম দায়ী নয়। বরং জুতার ভেতরে উষ্ণ ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হলে ব্যাকটেরিয়া ঘামের উপাদান ভেঙে দুর্গন্ধযুক্ত যৌগ তৈরি করে। তবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরেও যদি গন্ধ কমে না যায় অথবা ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে সংক্রমণের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
জুতার ভেতরে পায়ে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ার কারণ কি? মানুষের পায়ের ত্বকে প্রচুর ঘর্মগ্রন্থি রয়েছে। ঘাম সাধারণত গন্ধহীন। কিন্তু দীর্ঘ সময় মোজা ও বন্ধ জুতার মধ্যে ঘাম আটকে থাকলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব ব্যাকটেরিয়া ঘামের উপাদান ভেঙে দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ তৈরি করে।
আরও পড়ুন: ‘ভালোবাসি’ বললেই কি যথেষ্ট? সম্পর্কে ৫টি বিষয়ও জরুরি
বন্ধ জুতার ভেতরে বাতাস চলাচল কম হওয়ায় তাপ ও আর্দ্রতা জমে থাকে। এই পরিবেশ ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল। ফলে কয়েক ঘণ্টা জুতা পরে থাকার পর পায়ের দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পা ও জুতা শুকনো রাখা, বাতাস চলাচল করে এমন জুতা ব্যবহার করা এবং ভেজা মোজা দ্রুত পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু মানুষের পায়ে দুর্গন্ধ বেশি হয় কেন? সকলের ঘামার পরিমাণ সমান নয়। কিছু মানুষের পায়ের ঘাম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়। এই অবস্থাকে প্ল্যান্টার হাইপারহাইড্রোসিস বলা হয়। অতিরিক্ত ঘামের কারণে মোজা ও জুতা দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে দুর্গন্ধের তীব্রতাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার পেছনে আরও কিছু কারণ থাকতে পারে। তাই পায়ে দুর্গন্ধ হলেই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে, এমনটা মনে করার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত ঘাম এবং জুতার ধরনও এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।
আরও পড়ুন: প্রতিদিন কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ?
দুর্গন্ধ কি ছত্রাক সংক্রমণের লক্ষণ?
পায়ে দুর্গন্ধ হলেই যে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়েছে, তা নয়। তবে গন্ধের পাশাপাশি ত্বকে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অ্যাথলেটস ফুট বা টিনিয়া পেডিস নামের ছত্রাকজনিত সংক্রমণে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাকের বৃদ্ধি সহজ হয়। তাই ঘামে ভেজা পা এবং দীর্ঘ সময় বন্ধ জুতা পরে থাকার অভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত দুর্গন্ধের আরেকটি কারণ হলো পিটেড কেরাটোলাইসিস। নিয়মিত পা ধোয়া এবং মোজা পরিবর্তনের পরও যদি তীব্র দুর্গন্ধ থেকে যায়, তবে এর পেছনে পিটেড কেরাটোলাইসিস নামের একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত ত্বকের সমস্যা থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: ফেলে দেয়া ৬ হাজার প্লাস্টিক বোতলে নির্মিত পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়
এ অবস্থায় পায়ের তলায়, বিশেষ করে চাপ পড়ে এমন জায়গায়, ছোট ছোট গর্ত বা খাঁজ তৈরি হতে পারে। আক্রান্ত স্থানে তীব্র দুর্গন্ধও দেখা দিতে পারে। পা দীর্ঘ সময় ঘামে ভেজা থাকলে এ ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
তাহলে পায়ের তলায় ছোট গর্ত, ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা বারবার ফিরে আসা দুর্গন্ধ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক অ্যান্টিফাঙ্গাল বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ ব্যবহার না করাই ভালো।
প্রতিদিন একই জুতা পরলে কি দুর্গন্ধ বাড়ে? হ্যাঁ, একই জুতা প্রতিদিন পরলে পায়ের দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। কারণ জুতার ভেতরে জমে থাকা ঘাম ও আর্দ্রতা পুরোপুরি শুকানোর জন্য সময় প্রয়োজন। জুতা শুকানোর আগেই আবার ব্যবহার করলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের টিকে থাকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে যাদের পায়ে অতিরিক্ত ঘাম হয় বা যাদের দীর্ঘ সময় বন্ধ জুতা পরে থাকতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে একাধিক জোড়া জুতা পালা করে ব্যবহার করা এবং প্রতিবার ব্যবহারের পর জুতা ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: লম্বা ছুটিতে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যাবে ৩৫টি দেশে
পায়ের দুর্গন্ধ কমানোর সহজ উপায়
কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে পায়ের দুর্গন্ধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন— পায়ে অতিরিক্ত ঘাম হলে অ্যালুমিনিয়াম সল্টযুক্ত অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ত্বকে জ্বালাপোড়া, ক্ষত বা সংবেদনশীলতা থাকলে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সবশেষে, পায়ের দুর্গন্ধ কমাতে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পা ও জুতা শুকনো রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এসব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও দুর্গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা চুলকানি, ত্বকে গর্ত বা ফাটল দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রির অভিযোগ, চিনবেন যেভাবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন