ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, গিয়ে জানলেন প্রেমিকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা


স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, গিয়ে জানলেন প্রেমিকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ব্রাজিলের এক ব্যক্তি ১ হাজার ২০০ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে তার প্রেমিকাকে বিয়ে করার আশায় নিজের সব সম্পদ বিক্রি করেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, তার স্বপ্নের নারী বাস্তবের কেউ নন। বরং, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী এডিমার মার্টিন্স পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তিনি টিভি মিরান্তেকে জানান, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। দীর্ঘ সময় ধরে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগের ফলে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, জেসিকাই তার কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী।

গত ৯ অক্টোবর, মার্টিন্স উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের মারানহাও রাজ্যে নিজের সব ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে বাসভাড়ার টাকা জোগাড় করেন। এরপর প্রেমিকাকে খুঁজতে তিনি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে পৌঁছে ১১ অক্টোবর থেকে প্রেমিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ওয়াশিংটনে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে সাগ্নিক সেনের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান

কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মার্টিন্স জেসিকার দেখা পাননি। একপর্যায়ে স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে গেলে তাকে জানানো হয়, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। পরে অর্থ ফুরিয়ে গেলে তিনি বেলো হরিজন্তে সিটি হলে গিয়ে এক সমাজকর্মীর কাছে নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার জন্য সহায়তা পান তিনি।

মার্টিন্স জানান, একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে এবং জীবনে একটি সম্পর্ক গড়ে তোলার আশায় তিনি এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেসিকা অলিভেইরা নামের অ্যাকাউন্টটির অনুসারী ছিল প্রায় তিন লাখ। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এআই-নির্মিত নারী চরিত্রটিকে বলতে শোনা যায়, তিনি এমন একজন পুরুষ খুঁজছেন, যাকে নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে দেখাশোনা করবেন।

তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে অ্যাকাউন্টটির পরিচালনাকারী স্বীকার করেন, জেসিকা আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। মার্টিন্সের সঙ্গে তার কোনো সরাসরি যোগাযোগও হয়নি। পরিচালনাকারীর দাবি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো এবং মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য অ্যাকাউন্টটি তৈরি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: রাতে কোন ৩ খাবার গ্যাস্ট্রিক বাড়াতে পারে?

এদিকে, এমন অভিজ্ঞতার পরও হাল ছাড়তে রাজি নন মার্টিন্স। বর্তমানে এক আত্মীয়ের সঙ্গে থাকা এই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি আবারও বেলো হরিজন্তে যাবেন। তবে এবার এআই-নির্মিত কোনো চরিত্রের নয়, বাস্তব জীবনে একজন সঙ্গীর খোঁজেই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাদ্যপণ্যে মেশানো হচ্ছে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ও হাইড্রোজ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


খাদ্যপণ্যে মেশানো হচ্ছে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ও হাইড্রোজ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ও হাইড্রোজের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, জিলাপি, মিষ্টি, বেকারি পণ্য, চানাচুর ও আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাবারকে আকর্ষণীয় করার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এসব রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। খাদ্যে ভেজাল রোধে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে অনিয়ম শনাক্ত করছে।

কাপড়ে ব্যবহারের জন্য তৈরি রঙে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভারী ধাতু যেমন সিসা ও ক্যাডমিয়াম থাকতে পারে। এসব উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে লিভার ও কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। কিছু রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে, হাইড্রোজ বা সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট একটি ব্লিচিং এজেন্ট, যা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়। খাদ্যে অনুপযুক্তভাবে এটি ব্যবহার করলে ভোক্তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। রাসায়নিকটির মাত্রা ও সংস্পর্শের ধরন অনুযায়ী শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর খাদ্যে ভেজাল ও নিষিদ্ধ রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করছে। অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ভোক্তাদের অতিরিক্ত উজ্জ্বল রঙের খাবার কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যে ভেজাল বা নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহারের তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খরায় নদী শুকিয়ে পরিবহন বন্ধ, পাম ফল নষ্ট হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ এম


খরায় নদী শুকিয়ে পরিবহন বন্ধ, পাম ফল নষ্ট হচ্ছে

আবহাওয়াভিত্তিক তীব্র সংকট ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পামচাষিরা চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। কৃষকরা রপ্তানি ও পরিবহনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার কারণে শত শত টন তাজা পাম বিক্রি করতে না পেরে পচিয়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।

চলতি মাসের শুরুতে ৩৩ বছর বয়সী পামচাষি সুপেন্দি সাত মেট্রিক টন তাজা পাম ফল নিয়ে সাঙ্গাউ শহরের একটি পাম তেলের মিলে যান। চার দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তাকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের তেল রাখার সব ট্যাংক এখন কানায় কানায় পূর্ণ, নতুন করে ফল কেনার মতো কোনো জায়গা নেই। সুপেন্দি একা নন, ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের হাজার হাজার ক্ষুদ্র কৃষক আজ একই সংকটের মুখোমুখি। সময়মতো ফল বিক্রি করতে না পারার কারণে তাদের কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হচ্ছে, ফলে জীবিকার প্রধান পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদক দেশ এবং এই কালিমান্তান প্রদেশ থেকেই দেশটির মোট উৎপাদনের প্রায় ১১ শতাংশ আসে। তবে ‘সুপার এল নিনো’র ফলে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে এলাকার প্রধান পরিবহন পথ কাপুয়াস নদী শুকিয়ে গেছে। নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিশাল বিশাল বালুচর ভেসে উঠেছে। এর ফলে পাম তেলবাহী নৌযানগুলো চরে আটকে পড়েছে। নদীপথ বন্ধ থাকায় ট্রাকে করে তেল পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তা অত্যন্ত ধীরগতির এবং খরচ প্রায় তিন গুণ বেশি। নদীর মাধ্যমে যেখানে হাজার হাজার টন পরিবাহিত হতো, সেখানে ট্রাকে করে দিনে মাত্র সামান্য পরিমাণ তেল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

পরিবহনসংকটে রপ্তানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় পাম তেলের মিলগুলোর ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে এসেছে। পশ্চিম কালিমান্তানের ৫০টি পাম তেল মিলের মধ্যে অন্তত ১৩টি বড় মিল উৎপাদনে বাধ্য হয়ে কাটছাঁট করেছে। মিলগুলোর মজুদ ট্যাংক পূর্ণ থাকায় তারা তাজা পাম ফল কেনা কমিয়ে বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে চতুর্থ প্রান্তিকে পাম তেল উৎপাদন ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ফসল বিক্রি করতে না পারায় কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক অনটনে পড়েছেন। আয় না থাকায় কৃষকরা পামগাছের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারছেন না। অনেকেই সার প্রয়োগের পরিমাণ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন, যা ভবিষ্যতের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ দ্বিগুণ দূরত্ব অতিক্রম করে অর্ধেকেরও কম দামে ফল বিক্রি করছেন। আবার অনেক চাষি সংসার চালাতে পিঠা, কেক ও ডোনাট বানিয়ে রাস্তায় বিক্রি করছেন।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সাধারণত অক্টোবরে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও এ বছর তা পিছিয়ে নভেম্বরে যেতে পারে। ফলে নদীর পানি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে। শুধু পাম তেলশিল্পই নয়, এই শুষ্ক আবহাওয়া অঞ্চলজুড়ে গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল এবং ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে, যা প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাইওয়ানের দাবি: চীনের ১৬ নৌযানকে প্রতিহত করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ এম


তাইওয়ানের দাবি: চীনের ১৬ নৌযানকে প্রতিহত করেছে

চীন তাইওয়ানের আশপাশে নৌযানের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। তাইপে অভিযোগ করেছে যে, এর মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালিতে বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বেইজিং।

তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, তারা চীনের ১৬টি উপকূলরক্ষী, গবেষণা ও মাছ ধরার নৌযানকে বাধা দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে। হিরু নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের অভিযোগ, এসব নৌযান একসঙ্গে সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করছিল।

রবিবার এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, চীনের অস্বাভাবিকসংখ্যক নৌযান তাইওয়ানের প্রধান দ্বীপ এবং এর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রাতাস দ্বীপের আশপাশে একসঙ্গে অভিযান চালাচ্ছিল। উল্লেখ্য, প্রাতাস দ্বীপটি দংশা নামেও পরিচিত এবং এটি নিয়ে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

চীনের ১৬টি নৌযানের মধ্যে চারটি মাছ ধরার নৌকা ছিল। তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী এ ধরনের সমন্বিত অভিযানকে ‘বহুমুখী যুদ্ধকৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, চীনের নৌযানগুলোর তৎপরতা মোকাবেলায় তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেয় তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। তাদের অভিযোগ, বেইজিং তাইওয়ান প্রণালিতে একতরফাভাবে বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে এবং ওই এলাকায় চীনের কর্তৃত্ব রয়েছে এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের কয়েকটি নৌযান তাইওয়ানের নির্ধারিত সীমিত প্রবেশাধিকারের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। চীন তাইওয়ান ও প্রাতাস দ্বীপকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। বেইজিং এসব এলাকার আশপাশের জলসীমার ওপরও নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করে। তবে তাইপে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছে।

গত ১ অক্টোবর, প্রাতাস দ্বীপের কাছে চীনের একটি বিনোদনমূলক মাছ ধরার নৌযান লক্ষ্য করে পানির কামান ছোড়ে তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। দ্বীপটি তাইওয়ান ও চীনের মূল ভূখণ্ডের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত এবং বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে।

গত কয়েক মাসে তাইওয়ানের আশপাশে সমুদ্রপথে চীনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাইওয়ানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশটির প্রধান দ্বীপের আশপাশে চীনের ২৪৪টি উপকূলরক্ষী, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অন্যান্য নৌযানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়, যা ছিল রেকর্ডসংখ্যক। গত বছরের একই মাসে এ সংখ্যা ছিল ৫৮টি।

চলতি বছরের আগস্টের প্রথম ২১ দিনে তাইওয়ানের আশপাশে ১৫২টি নৌযানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এসব নৌযানের বেশিরভাগই ছিল চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর। এর পাশাপাশি মাছ ধরার নৌকা ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত নৌযানও ছিল।

প্রতিদিনই তাইওয়ানের আশপাশে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে চীন। তবে এসব যুদ্ধজাহাজের হিসাব অন্যান্য নৌযান থেকে আলাদাভাবে রাখা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোমা হামলার হুমকিতে ইসরাইল থেকে আসা বিমান বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


বোমা হামলার হুমকিতে ইসরাইল থেকে আসা বিমান বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

তেল আবিব, ইসরাইল থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে, যখন বিমানে বোমা হামলার হুমকি পাওয়া যায়।

বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় রোববার এই ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছে।

এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের বিমানটি অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ওএস৮২ ফ্লাইট হিসেবে পরিচিত। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রোমানিয়ার সীমান্তের নিকটবর্তী অবস্থায় বিমানের ক্রুরা বোমা হামলার হুমকি পান এবং তারা সোফিয়ায় অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।

বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান যাত্রীবাহী বিমানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সোফিয়া বিমানবন্দরে নিয়ে আসে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে মোট ছয়জন ক্রু এবং ৫১ জন যাত্রী ছিলেন। সকলেই বিমান থেকে নিরাপদে নেমে গেছেন।

অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস এএফপিকে জানায়, বিমানটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয়েছে। তল্লাশি শেষে যাত্রীদের দ্রুত বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ ঘটনার পর একটি জরুরি সাড়াদান দল গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

বিমান চলাচল ও ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ বিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ওএস৮২ ফ্লাইটটি রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী, বিমানটি সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে অবতরণ করে।

অন্য একটি ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে, পরে দক্ষিণ দিকে ঘুরে আবার বুলগেরিয়ার দিকে ফিরে আসে।

এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের তথ্য জানায়, একই সময় বিমানটি জরুরি পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত ‘স্কোয়াক কোড ৭৭০০’ সংকেত পাঠাচ্ছিল।

গত মাসে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার অভিযোগের ঘটনা ঘটে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে মূল পাইলটকে কুড়াল দিয়ে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল, যখন বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন।

ঘটনার সময় বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট বা ৫ হাজার ১৮০ মিটার নিচে নেমে যায়। পরে যাত্রী ও অন্য ক্রুরা অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এরপর ফ্লাইদুবাইয়ের অন্যান্য পাইলটরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান।

পরে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সহকারী পাইলটের উদ্দেশ্য ছিল ‘আত্মঘাতী’ মিশনের মাধ্যমে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করা। পরে ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়।

ওই ঘটনার পর ইসরাইল সরকার দেশটিতে আসা সব বিমানের পাইলটদের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%