মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:১৬ পি.এম
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অটোরিকশার গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ৪৪ পিস ইয়াবা, একটি দেশীয় ওয়ান শ্যুটার পাইপগান ও একটি কার্তুজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), এসআরবি-১১ ও পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের মামুন উর রশিদের গ্যারেজে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের মৃত ইউছুপ মিয়ার ছেলে মামুন উর রশিদ (৩৭), করমুল্যা বাজার এলাকার আব্দুল হানিফের ছেলে আব্দুল মন্নান (২৭) ও দাদপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের বারাইপুর গ্রামের খলিফা বাড়ির মফিজুর রহমানের ছেলে মানজুর রহমান সাকিল (৩৮)।
ডিএনসির জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির উপপরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান, র্যাব-১১-এর সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইন এবং সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন বণিকের নেতৃত্বে তিন বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান। এ সময় গ্যারেজের ভেতরে হার্ডবোর্ডের পার্টিশন দিয়ে তৈরি বিশ্রামকক্ষের খাটের ওপর থেকে ইয়াবা, পাইপগান, একটি সীসার কার্তুজ, তিনটি মুঠোফোন ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া কক্ষটিতে স্থাপিত তিনটি সিসি ক্যামেরাও পাওয়া যায়।
ডিএনসির আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্যারেজের বিশ্রামকক্ষটি ইয়াবা সেবনের জন্য ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সেখানে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এ ছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে পাইপগান ও কার্তুজ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ডিএনসির নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীরা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ইসরাইল এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তাদের সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইত এলাকায় কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করেছে তারা।
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো কীভাবে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা এড়িয়ে রাজধানী পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এই পরিস্থিতি নতুন করে সামনে এনেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কারা হুথি, কেন সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং কীভাবে সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা সৌদি আরবের জন্যও এই গোষ্ঠীকে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠেছে?
হুথিদের উত্থান যেভাবে
হুথিরা একটি সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আন্দোলন। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে ১৯৯০-এর দশকে জায়েদি শিয়া সম্প্রদায়ের পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে গোষ্ঠীটির উত্থান ঘটে। একসময় ইয়েমেনের শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ উত্তরাঞ্চলে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত বোধ করতেন। সেই অসন্তোষ থেকেই ধীরে ধীরে সংগঠিত হয় হুথি আন্দোলন।
গোষ্ঠীটি নিজেদের ‘আনসারুল্লাহ’ বলে পরিচয় দেয়। ‘হুথি’ নামটি এসেছে আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত নেতা হুসেইন বদরুদ্দিন আল-হুথির নাম থেকে। বর্তমানে সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন তার ভাই আবদুল মালিক আল-হুথি।
ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের আরব বসন্তের গণবিক্ষোভের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। এই অস্থিরতার সুযোগে হুথিরা উত্তরাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকে। উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে নেওয়া রাজনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার বিরোধিতা করে তারা।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে হুথিরা। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার দক্ষিণাঞ্চলের এডেনের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সময়ে গোষ্ঠীটি দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের অন্যতম প্রধান পক্ষ হয়ে ওঠে।
সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতের শুরু
ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা এবং নিজেদের দক্ষিণ সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল সৌদি আরব। এই প্রেক্ষাপটে ২০১৫ সালের শুরুর দিকে হুথিদের হটিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে রিয়াদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশও এই জোটে অংশ নেয়।
এরপর ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা ও হুথিদের পাল্টা আক্রমণে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। দেশটিতে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট।
তবে দীর্ঘ সামরিক অভিযানেও হুথিদের সম্পূর্ণ পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তাদের শক্ত অবস্থান গোষ্ঠীটিকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বাড়িয়ে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে তারা।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়। এতে দীর্ঘদিনের সংঘাত কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে।
লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ কেন হুমকিতে
২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হুথিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরু করে। একই সময়ে ইসরাইল লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে তারা। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করে গোষ্ঠীটি।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে হুথিদের হামলা আবারও জোরালো হয়। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে। তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করায় সৌদি আরবকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির দিক দিয়ে তেল রপ্তানির ওপর আরো বেশি নির্ভর করতে হয়।
এতে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়ে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ ও মোখা বন্দরনগরী দখলের দাবি করে। বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে তাদের এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালি এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যকার বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। এ পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয়, পণ্য সরবরাহে বিলম্ব এবং জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
সৌদি আরবের জন্য হুথিদের হুমকি কতটা বড়
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সৌদি আরবের অর্থনীতি জ্বালানি খাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক এবং রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তেল ও গ্যাস খাত থেকে। ফলে তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও রপ্তানি অবকাঠামোয় হামলা সৌদি আরবের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
হুথিরা ইয়েমেনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে, যেখানে দেশটির অধিকাংশ মানুষের বসবাস। ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে গোষ্ঠীটির সশস্ত্র সদস্যসংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ বলে অনুমান করা হয়েছিল। তাদের অস্ত্রভান্ডারে ট্যাংক, সামরিক যান, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরাইল পর্যন্ত হামলা চালানোর সক্ষমতাও দেখিয়েছে গোষ্ঠীটি। ইয়েমেন থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার এই সক্ষমতা তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়িয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ
ইরান হুথিদের মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আঞ্চলিক মিত্রদের বৃহত্তর বলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। এই বলয়ে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের কয়েকটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান হুথিদের অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে; এ ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহও ভূমিকা রাখে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
তবে হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক হিজবুল্লাহ বা ইরাকের কিছু গোষ্ঠীর সম্পর্কের মতো একরকম নয়। ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রশ্নেও তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হুথিরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিজেদের চূড়ান্ত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকার করে না।
গোষ্ঠীটির নিজস্ব রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যও রয়েছে। হুথিরা ইরানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিনিধি বা প্রক্সি হিসেবে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে। তাদের দাবি, নিজেদের অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা তারা নিজেরাই তৈরি করে।
কেন হুথিদের পরাস্ত করা কঠিন
হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবের মতো সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশেরও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়, বিস্তীর্ণ মরুভূমি এবং গোষ্ঠীটির স্থানীয় অবস্থান তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে কঠিন করে তুলেছে। বিমান হামলায় তাদের ঘাঁটি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হলেও সংগঠনটিকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সমন্বিতভাবে ব্যবহার করার কৌশল তাদের আক্রমণ প্রতিহত করাকে জটিল করে তোলে। ভিন্ন গতি ও উড্ডয়নপথের অস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে তারা।
হুথিদের অস্ত্রভান্ডারে স্বল্পপাল্লার বুরকান ও বদর সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। প্যালেস্টাইন-২ ও তুফান ক্ষেপণাস্ত্র তাদের অপেক্ষাকৃত উন্নত অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে। এসব অস্ত্রের কয়েকটির সঙ্গে ইরানি প্রযুক্তি বা নকশার যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
হুথিরা এখন শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের একটি পক্ষ নয়। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত বাড়লে এর প্রভাব ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও সুসজ্জিত। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এত বিশাল সামরিক বিনিয়োগের পরও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না রিয়াদ। সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
সপ্তাহান্তে ইরান-সমর্থিত হুথিদের একাধিক লক্ষ্যভিত্তিক হামলার খবর সৌদি আরবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবারের হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক মিশন তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দরটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
ইয়েমেনে হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। বছরের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত কিছু এলাকা হুথিদের দখলে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে রিয়াদ। জবাবে হুথিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও পর্যটন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
বারবার এসব হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটি অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, ব্যবসা ও পর্যটনের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও চলছে।
সামরিক শক্তিতে এগিয়ে সৌদি আরব
সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিচারে সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ। সম্প্রতি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিও করেছে রিয়াদ।
তবে দেশটির নিজস্ব সামরিক অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে আধুনিক অস্ত্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয় সৌদি আরবকে। তাদের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ইউরোফাইটার টাইফুন, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থা।
সাম্প্রতিক সময়ে এসব আধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। উদ্দেশ্য, সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গোষ্ঠীটির অগ্রযাত্রা থামানো।
অন্যদিকে, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে নিজেদের অস্ত্রভান্ডার ও হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে হুথিরা। তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইয়েমেন থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের ইসরাইল পর্যন্ত পৌঁছেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাকে নির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতাও দেখিয়েছে তারা।
হুথিরা বিভিন্ন গতি ও ধরনের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে। তাদের উন্নত অস্ত্রের মধ্যে প্যালেস্টাইন-২ নামের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেটিতে হাইপারসনিক সক্ষমতা আছে বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া তুফান ক্ষেপণাস্ত্রকে ইরানের ঘদর ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তিত সংস্করণ বলে মনে করা হয়। বুরকান ও বদর সিরিজের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও তাদের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে।
কেন সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পারছে হুথিরা
প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সৌদি আরবের পক্ষে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সব সময় সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির বিশাল আয়তন এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।
অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক থমাস জুনো বলেন, "সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হুথিদের অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে দেশটির আয়তন এত বড় যে প্রতিটি এলাকায় সব সময় কার্যকর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব।"
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দরগুলোর একটি। শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিমানবন্দরটির আয়তন প্রায় ২২৫ বর্গকিলোমিটার।
লন্ডনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মেনা অ্যানালিটিকার আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান এবং বিভিন্ন সেন্সর একত্রে ব্যবহার করলেও সৌদি আরবের মতো প্রায় ২২ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়।
তার মতে, রাজধানী রিয়াদ, বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, পবিত্র নগরী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে একই সঙ্গে সুরক্ষা দিতে হয় সৌদি বাহিনীকে। এত বিস্তৃত এলাকায় প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন।
এ ছাড়া ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের মজুতও কমে আসতে পারে। বিশ্বজুড়েই এসব প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ সীমিত থাকার খবর রয়েছে।
সৌদি বাহিনী অনেক হামলা প্রতিহত করতে পারলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে তেল স্থাপনা ও রিয়াদের বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলো বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কেন হামলা বাড়াচ্ছে হুথিরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের প্রতিটি হামলা সফল হওয়া জরুরি নয়। মাঝেমধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারলেও তা বড় ধরনের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্দ্রেয়াস ক্রিগের ভাষ্য, "রিয়াদের বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে বারবার হামলার দাবি থেকে বোঝা যায়, দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে হুথিরা। সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অনেক হামলা ঠেকাতে পারলেও গোষ্ঠীটি আবারও হামলা চালানোর সামর্থ্য রাখে।"
থমাস জুনোর মতে, হুথিরা সংঘাতের প্রচলিত হিসাব বদলে দিতে চাইছে। সৌদি যুদ্ধবিমান যখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সানা বিমানবন্দরে হামলা চালাচ্ছে, তখন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে একই ধরনের চাপ তৈরি করতে চাইছে গোষ্ঠীটি।
‘আনসারুল্লাহ’ নামেও পরিচিত হুথি আন্দোলনের রয়েছে কয়েক হাজার নয়, বরং কয়েক দশ হাজার যোদ্ধা। ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের লড়াই তাদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও সহনশীলতা বাড়িয়েছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বহু বছর ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে।
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার মাধ্যমে হুথিরা সংঘাতের মূল্য বাড়িয়ে দিতে চাইছে বলেও মনে করেন জুনো। তার মতে, এতে ইয়েমেন যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের আশা আরো কঠিন হয়ে উঠছে। কয়েক বছর ধরে এই যুদ্ধ থেকে নিজেদের সম্পৃক্ততা কমানোর চেষ্টা করছে সৌদি আরব; নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সেই প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রিয়াদ বিমানবন্দর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো রিয়াদকে পর্যটন, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বড় বৈশ্বিক আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা। এ ক্ষেত্রে রাজধানীর বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, বিমানবন্দরে হামলার তাৎপর্য শুধু সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বারবার হামলার কারণে বিনিয়োগকারী, পর্যটক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। অর্থনৈতিক ও মানসিক প্রভাব তাই সরাসরি অবকাঠামোগত ক্ষতির চেয়েও বড় হয়ে উঠতে পারে।
শনিবারের বিমানবন্দর হামলাটি ২০১৫ সালের একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার পর সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা ছিল। ঘটনাটি এমন সময় ঘটে, যখন রিয়াদে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনুষ্ঠান ও বিনোদন আয়োজনের মৌসুম শুরু হচ্ছে। রোববার শহরটিতে ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের জ্বালানি সম্মেলনও শুরু হওয়ার কথা ছিল।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানোর প্রচলন সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবারের হামলার আগে কয়েকটি দূতাবাসও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য না পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানায় এবং নিজেদের নাগরিকদের বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।
সৌদি আরবের বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয় ও আধুনিক অস্ত্রভান্ডার হুথিদের হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। দেশটির বিশাল ভূখণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিস্তৃতি, প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ এবং হুথিদের সমন্বিত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কৌশল পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনাও চাপের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: এএফপি ও এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন যে, এটি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির একটি প্রকাশ।
নাহিদ ইসলাম মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) একটি বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সহিংস ও অমানবিক চরিত্রের উন্মোচন করেছে। তিনি এ ধরনের অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য দলটির মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
নাহিদ ইসলাম দেশে-বিদেশে সক্রিয় কথিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক প্রতিহত করার আহ্বান জানান। তিনি জুলাই গণহত্যা ও ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িতদের বিচার সম্পন্ন করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান। এ ছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার অবিলম্বে শুরু করার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।
বিবৃতিতে, নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সরকারের সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে তাঁরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জরুরি জ্বালানি তেলের মজুত কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতির বৃদ্ধি নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবিলায় বিশ্ব ক্রমশ কম প্রস্তুত হয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির আশঙ্কা, ভবিষ্যতে নতুন কোনো ধাক্কা এলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও বড় চাপের মুখে পড়তে পারে।
আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব আশঙ্কার তুলনায় ভালোভাবে সামাল দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। তবে সংকট মোকাবিলায় জরুরি মজুত ও সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ ক্রমশ কমে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল পরিবহন এবং কৌশলগত মজুত থেকে তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত মার্চে ইতিহাসের বৃহত্তম জরুরি তেল মজুত ছাড়ার ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকের পর সেই উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত সম্প্রতি ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার ডিজেল আমদানিতে মার্কিন বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে যুক্তরাষ্ট্রে পাম্পে জ্বালানির দামে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না।
মঙ্গলবার ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক চলাকালে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জুলাইয়ের ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছর ২ দশমিক ৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। ২০২৭ সালের জন্যও একই হারে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা আগের ২ দশমিক ২ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা জুলাইয়ের পূর্বাভাসের চেয়ে ০ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। তবে ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে।
আইএমএফের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সিলভানা তেনরেইরো মন্তব্য করেছেন, বিশ্ব অর্থনীতির সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও সরকারগুলোকে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নিতে আর দেরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকারি ঋণ বাড়তে থাকলে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আবার বেড়ে গেলে ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে অনেক সরকারের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নাও থাকতে পারে।
জ্বালানি তেলের মজুত কমে আসা, সরকারি ঋণের চাপ এবং বাজেট ঘাটতির প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ