ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিরাপত্তা হুমকিতে বাতিল হলো মার্কিন গায়িকা এলা ল্যাংলির কনসার্ট


নিরাপত্তা হুমকিতে বাতিল হলো মার্কিন গায়িকা এলা ল্যাংলির কনসার্ট

নিরাপত্তা হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতশিল্পী এলা ল্যাংলির কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের তুলসা শহরে এ কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।

বিবিসি জানায়, ১৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার বিওকে সেন্টারে কনসার্ট শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৭ বছর বয়সী এ গায়িকা এ সিদ্ধান্তকে ‘অবিশ্বাস্য রকম কঠিন’ বলে বর্ণনা করেছেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে এলা ল্যাংলি জানান, হুমকিটি তার ভক্ত, অনুষ্ঠানস্থলের কর্মী এবং নিজের দলের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল। তাই কনসার্ট বাতিল করতে হয়েছে।

তুলসা পুলিশ বিভাগের ক্যাপ্টেন রিচার্ড মিউলেনবার্গ বলেন, এক ব্যক্তি ফোন করে ওই অনুষ্ঠানে গুলি চালানোর এবং বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেন। তিনি সতর্ক করেন যে এতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। উলেনবার্গ জানান, অনুষ্ঠান শুরুর আগে এলা ল্যাংলির দলের সদস্যরা বিওকে সেন্টার কয়েকবার পরীক্ষা করে দেখেন। তবে তখন কোনো হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

তিনি আরো জানান, ফোনে হুমকি পাওয়ার পর প্রশিক্ষিত কুকুরসহ পুলিশ সদস্যরা আবারও অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকা তল্লাশি করেন। তবে কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, হুমকির কারণে হাজারো ভক্তের জন্য পুরো অনুষ্ঠানটি বাতিল হয়ে গেছে।

কনসার্ট বাতিলের বিষয়ে এর বেশি কোনো তথ্য দেননি এলা ল্যাংলি। ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানান, টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যত দ্রুত সম্ভব জানানো হবে। অনুষ্ঠানস্থল বিওকে সেন্টারও এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতা তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সব দিক বিবেচনা করেই অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এ ঘটনায় ভক্তরা হতাশ হবেন, তা কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারছে। যারা কনসার্ট দেখতে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের গানের সাফল্যের কারণে আলোচনায় এসেছেন এলা ল্যাংলি। গত সেপ্টেম্বরে তার জনপ্রিয় কান্ট্রি গান ‘চুজিন টেক্সাস’ যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত তালিকায় নতুন রেকর্ড গড়ে। গানটি মারিয়া ক্যারির ‘অল আই ওয়ান্ট ফর ক্রিসমাস ইজ ইউ’ গানকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত তালিকার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এক নম্বরে থাকা গান হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

এরপর মে মাসে একাডেমি অব কান্ট্রি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে একাধিক পুরস্কার জিতে আবারও আলোচনায় আসেন আলাবামায় জন্ম নেওয়া এই গায়িকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশি শক্তির ইন্ধনে দেশ অস্থিতিশীল করছে বিরোধীরা: বিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ এম


বিদেশি শক্তির ইন্ধনে দেশ অস্থিতিশীল করছে বিরোধীরা: বিজেপি

ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশ অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যা ক্ষমতাসীন দল। দলের জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এই দাবি করেছেন যে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ‘বিদেশি শক্তির ইন্ধনে’ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বক্তব্যে নিতিন নবীন বলেন, ভারতে প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন। দেশের উন্নয়নে সবাই সম্মিলিতভাবে অবদান রাখছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই একটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও গুরুতর পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজেপির জাতীয় সভাপতি বলেন, ‘আজ দেশে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও গুরুতর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। ১৪০ কোটি মানুষ যেখানে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন এবং দেশের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে অবদান রাখছেন, সেখানে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন হলো- এটা করছে কারা?’

এরপর বিরোধীদের দুটি গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেন নিতিন নবীন। তার দাবি, একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও ‘ইন্ডি অ্যালায়েন্স’; অন্যটির সঙ্গে তিনি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সহযোগী এবং ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) যুক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘এই দুই গোষ্ঠীকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের মানুষ আপনাদের উদ্দেশ্য খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন।’

বিক্ষোভ ও বিরোধীদের কর্মকাণ্ডকে ‘অরাজকতার প্রতিযোগিতা’ বলে আখ্যা দেন বিজেপি নেতা। তার অভিযোগ, দেশে কে বেশি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে বিরোধীরা যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

নিতিন নবীন বলেন, ‘আপনাদের এই অরাজকতার প্রতিযোগিতাকে দেশের মধ্যে বেশি অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে- কখনো সফল হবে না।’

বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের সেই রায় মেনে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু জনগণের রায় মেনে নেওয়া বা তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই রায় মেনে নেওয়া বা তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে আপনারা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেছেন।’

এরপরই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি তোলেন নিতিন নবীন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তারা বিদেশি শক্তির ইন্ধনে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

এদিকে, ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৮ ইয়াবা-গাঁজা ও বিদেশি মদ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


টাঙ্গাইলে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৮ ইয়াবা-গাঁজা ও বিদেশি মদ উদ্ধার

টাঙ্গাইল পুলিশের গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে প্রিভেন্টিভ, নিয়মিত মামলা, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৭০ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা ও ১৮ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে চারজন মাদক কারবারি রয়েছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার সব থানা ও ইউনিটের ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন শ্রেণির মামলায় ও পরোয়ানার ভিত্তিতে মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ৭০ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা ও ১৮ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করে জানিয়েছে, অপরাধ ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের বার্তা: “অপরাধ ও অপরাধীর তথ্য দিন, টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের সেবা নিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২২ পি.এম


বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন প্রায় তিন কোটি মানুষ। অথচ, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। পারিবারিক সংকট, আর্থিক চাপ, সামাজিক বৈষম্য, মাদকাসক্তি এবং প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষ চিকিৎসক ও সেবাকেন্দ্রের অভাব, সামাজিক কুসংস্কার এবং চিকিৎসা নিতে অনীহা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন যারা, তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণ ও চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জাতিসংঘ এই বছর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর নীতি ও সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মন্তব্য করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষকে বাদ না দিয়ে তাদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আবাসন, শিক্ষা, কাজ ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করে মানুষের নিজস্ব পরিবেশে সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ বাড়াতে হবে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আক্রান্তদের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাননি। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে, এই হিসাব অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি।

উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০১৯ সালের পর থেকে দেশে নতুন কোনো জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ হয়নি। ফলে গত সাত বছরে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, সে বিষয়ে হালনাগাদ ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই। এই সময়ে করোনা মহামারি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর্থিক চাপ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং নানা সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে দেশের মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিস্থিতির প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যে পড়তে পারে। তবে নতুন জরিপ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট চিত্র জানা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রায় অর্ধেকের মধ্যে অন্তত একটি মানসিক রোগ রয়েছে। ৩৪২ জন রোগীর ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশের মধ্যে মানসিক রোগ শনাক্ত হয়। ক্যানসার বিভাগে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। মেডিসিন বিভাগে ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, সার্জারি বিভাগে ৩৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং স্নায়ুরোগ বিভাগে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে মানসিক রোগ পাওয়া যায়। অথচ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়েছিল মাত্র ৭ শতাংশ রোগীকে।

গবেষণাটি পরিচালিত হয় অধ্যাপক ডা. এমএমএ সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লবের নেতৃত্বে। এটি চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত হয়। অধ্যাপক সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বিষণ্ণতা বা অন্য মানসিক সমস্যা দেখা দিলেও অনেক সময় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয় না। বরং ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়, যা মানসিক রোগের মূল চিকিৎসা নয়। মনোরোগবিদ্যা বিভাগ থাকা হাসপাতালেও অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে মানসিক সমস্যাকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থাও নেই। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলা জরুরি।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগজনিত রোগের পাশাপাশি শুচিবায়ু, স্মৃতিভ্রংশ, দ্বিমেরু মেজাজজনিত রোগ, সিজোফ্রেনিয়া ও মাদকাসক্তির মতো সমস্যাও রয়েছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা, উদ্বেগ ও আচরণগত সমস্যাও দেখা যায়। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের মধ্যে মাদক গ্রহণের হার দেড় শতাংশ এবং ৭ থেকে ১১ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা হলো চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ৩৮০ জন, মনোবিজ্ঞানী ৬০০ জন এবং মনোরোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সমাজকর্মী মাত্র ১০ জন। প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা শূন্য দশমিক ১৯ জন এবং মনোবিজ্ঞানীর সংখ্যা শূন্য দশমিক ৩০ জন।

দেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাধারণ চিকিৎসক রয়েছেন ২১ হাজার ২৬৭ জন, স্বাস্থ্যকর্মী ৯ হাজার ৪০০ জন এবং নার্স ২৮ হাজার ১৬৫ জন। তবে, প্রশিক্ষিত জনবল থাকলেও তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং মানুষের নাগালের মধ্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশ এখনো বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বড় শহরকেন্দ্রিক। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৪০০ শয্যা, পাবনা মানসিক হাসপাতালে ৫০০ শয্যা এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে ৪০ শয্যা রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে শয্যা রয়েছে প্রায় ১৫০টি। জনসংখ্যার তুলনায় এ ব্যবস্থাপনা সীমিত।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. তৈয়বুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি কমাতে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। বর্তমানে মূলত রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে এ সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবা সম্প্রসারণ, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মনোরোগবিদ্যা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের পদ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, অন্তত পাঁচ বছর পরপর জাতীয় জরিপ হওয়া উচিত। ২০১৯ সালের পর নতুন জরিপ না হওয়ায় দেশের মানুষের বর্তমান মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, সচেতনতার অভাব, ভুল ধারণা, দক্ষ জনবলের সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা ও অপর্যাপ্ত বাজেট মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা। এসব কারণে অনেক রোগী অপচিকিৎসার শিকার হন। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেল কলেজে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের পদ সৃষ্টির বাধা দূর করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য বলতে শুধু মানসিক রোগকে বোঝায় না। মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক, কাজ, পড়াশোনা ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গেও এটি গভীরভাবে জড়িত। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বেকারত্ব, আর্থিক সংকট, প্রিয়জনের মৃত্যু, বৈষম্য ও মাদকাসক্তি মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ও মুঠোফোনে অতিরিক্ত সময় কাটানো, অনলাইন জুয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

মানসিক কষ্টকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা, চিকিৎসা নেওয়াকে লজ্জার বিষয় মনে করা কিংবা সময়ের সঙ্গে সমস্যা নিজে থেকেই সেরে যাবে বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতায় অনেকেই সহায়তা চান না। অথচ, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও অন্যান্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির যথাসময়ে চিকিৎসা ও পারিবারিক সহযোগিতা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক সংকট আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক গুরুতর পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে তাই শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের কথা শোনার আহ্বান জানানো হচ্ছে না; তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাস্তব পরিবর্তন আনার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষকে শুধু নিজেদের অভিজ্ঞতা বলার সুযোগ দিলেই হবে না। নীতি প্রণয়ন, চিকিৎসাসেবা পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নেও তাঁদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে হাসপাতালের গণ্ডি থেকে বের করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, দক্ষ জনবল বাড়ানো, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং নিয়মিত জাতীয় জরিপের মাধ্যমে পরিস্থিতি মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার ভাষ্য, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমানের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরামর্শসেবা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের আয়োজনের মূল বার্তা—মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চিকিৎসা ও সহায়তাব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ট্রেন বাতিল করে ভারতের যুবসমাজকে আটকানো যাবে না’ চিরাগ পাসোয়ানের মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


‘ট্রেন বাতিল করে ভারতের যুবসমাজকে আটকানো যাবে না’ চিরাগ পাসোয়ানের মন্তব্য

ভারতের যুবসমাজকে আটকে রাখা সম্ভব নয়, এমন মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। তিনি বলেন, "ট্রেন বাতিল করেও যুবসমাজকে আটকানো যাবে না।" নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বিরোধীদের ‘মিথ্যা’ প্রচার চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের সময় চিরাগ এই মন্তব্য করেন। তার মতে, রাজধানীর জনজীবন বারবার স্তব্ধ করা ঠিক নয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, দিল্লিতে ট্রেন বাতিল, মেট্রো পরিষেবায় বিঘ্ন এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল চিরাগ পাসোয়ানের কাছে। তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হন।

চিরাগ পাসোয়ান বলেন, "এরা ভারতের যুবসমাজ। প্রভু, এদের কেউ আটকাতে পারবে না। কিছু মানুষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। কতগুলো ট্রেন আটকে রাখা যাবে? কতটা যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করা যাবে? কতগুলো রাস্তা অবরুদ্ধ করা যাবে?"

তিনি আরও বলেন, "ভারতের যুবসমাজের গোটা বিশ্বকে পথ দেখানোর ক্ষমতা রয়েছে। তাদের কেউ আটকাতে পারবে না।"

বিরোধী দলগুলোর প্রতি কটাক্ষ করে চিরাগ পাসোয়ান অভিযোগ করেন, তারা সমস্যার সমাধান খোঁজার পরিবর্তে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের রাজনীতিতে বেশি আগ্রহী।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, "আপনারা (বিরোধীরা) নির্বাচনে জিততে পারছেন না। আর এখন বিক্ষোভের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করছেন।"

তার বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে বিরোধীদের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে সময় চাওয়া উচিত এবং বৈঠক করা উচিত। বিক্ষোভের মাধ্যমে বৈঠক করা উপযুক্ত পদ্ধতি নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে চিরাগ পাসোয়ান মুখ খুলেছিলেন। গত মাসে তিনি নির্বাচন কমিশন, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে, সংস্থার অভ্যন্তরে অসন্তোষ রয়েছে বলে প্রকাশিত খবরগুলির বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

চিরাগ বলেছিলেন, "নির্বাচন কমিশনকে মানুষের আস্থা বজায় রাখতে হবে। কারণ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েই যদি সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হয়, তা হলে সেটি ঠিক হবে না।"

তিনি আরও বলেন, "এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের উচিত দৃঢ়ভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা, যাতে মানুষের মনে কোনও সন্দেহ না থাকে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%