মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
১২:১৬ পি.এম
টাঙ্গাইল পুলিশের গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে প্রিভেন্টিভ, নিয়মিত মামলা, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৭০ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা ও ১৮ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে চারজন মাদক কারবারি রয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার সব থানা ও ইউনিটের ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন শ্রেণির মামলায় ও পরোয়ানার ভিত্তিতে মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ৭০ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা ও ১৮ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করে জানিয়েছে, অপরাধ ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের বার্তা: “অপরাধ ও অপরাধীর তথ্য দিন, টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের সেবা নিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন প্রায় তিন কোটি মানুষ। অথচ, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। পারিবারিক সংকট, আর্থিক চাপ, সামাজিক বৈষম্য, মাদকাসক্তি এবং প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষ চিকিৎসক ও সেবাকেন্দ্রের অভাব, সামাজিক কুসংস্কার এবং চিকিৎসা নিতে অনীহা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।
আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন যারা, তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণ ও চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
জাতিসংঘ এই বছর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর নীতি ও সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মন্তব্য করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষকে বাদ না দিয়ে তাদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আবাসন, শিক্ষা, কাজ ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করে মানুষের নিজস্ব পরিবেশে সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ বাড়াতে হবে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আক্রান্তদের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাননি। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে, এই হিসাব অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি।
উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০১৯ সালের পর থেকে দেশে নতুন কোনো জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ হয়নি। ফলে গত সাত বছরে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, সে বিষয়ে হালনাগাদ ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই। এই সময়ে করোনা মহামারি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর্থিক চাপ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং নানা সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে দেশের মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিস্থিতির প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যে পড়তে পারে। তবে নতুন জরিপ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট চিত্র জানা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রায় অর্ধেকের মধ্যে অন্তত একটি মানসিক রোগ রয়েছে। ৩৪২ জন রোগীর ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশের মধ্যে মানসিক রোগ শনাক্ত হয়। ক্যানসার বিভাগে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। মেডিসিন বিভাগে ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, সার্জারি বিভাগে ৩৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং স্নায়ুরোগ বিভাগে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে মানসিক রোগ পাওয়া যায়। অথচ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়েছিল মাত্র ৭ শতাংশ রোগীকে।
গবেষণাটি পরিচালিত হয় অধ্যাপক ডা. এমএমএ সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লবের নেতৃত্বে। এটি চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত হয়। অধ্যাপক সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বিষণ্ণতা বা অন্য মানসিক সমস্যা দেখা দিলেও অনেক সময় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয় না। বরং ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়, যা মানসিক রোগের মূল চিকিৎসা নয়। মনোরোগবিদ্যা বিভাগ থাকা হাসপাতালেও অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে মানসিক সমস্যাকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থাও নেই। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলা জরুরি।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগজনিত রোগের পাশাপাশি শুচিবায়ু, স্মৃতিভ্রংশ, দ্বিমেরু মেজাজজনিত রোগ, সিজোফ্রেনিয়া ও মাদকাসক্তির মতো সমস্যাও রয়েছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা, উদ্বেগ ও আচরণগত সমস্যাও দেখা যায়। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের মধ্যে মাদক গ্রহণের হার দেড় শতাংশ এবং ৭ থেকে ১১ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা হলো চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ৩৮০ জন, মনোবিজ্ঞানী ৬০০ জন এবং মনোরোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সমাজকর্মী মাত্র ১০ জন। প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা শূন্য দশমিক ১৯ জন এবং মনোবিজ্ঞানীর সংখ্যা শূন্য দশমিক ৩০ জন।
দেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাধারণ চিকিৎসক রয়েছেন ২১ হাজার ২৬৭ জন, স্বাস্থ্যকর্মী ৯ হাজার ৪০০ জন এবং নার্স ২৮ হাজার ১৬৫ জন। তবে, প্রশিক্ষিত জনবল থাকলেও তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং মানুষের নাগালের মধ্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশ এখনো বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বড় শহরকেন্দ্রিক। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৪০০ শয্যা, পাবনা মানসিক হাসপাতালে ৫০০ শয্যা এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে ৪০ শয্যা রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে শয্যা রয়েছে প্রায় ১৫০টি। জনসংখ্যার তুলনায় এ ব্যবস্থাপনা সীমিত।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. তৈয়বুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি কমাতে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। বর্তমানে মূলত রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে এ সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবা সম্প্রসারণ, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মনোরোগবিদ্যা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের পদ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, অন্তত পাঁচ বছর পরপর জাতীয় জরিপ হওয়া উচিত। ২০১৯ সালের পর নতুন জরিপ না হওয়ায় দেশের মানুষের বর্তমান মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, সচেতনতার অভাব, ভুল ধারণা, দক্ষ জনবলের সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা ও অপর্যাপ্ত বাজেট মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা। এসব কারণে অনেক রোগী অপচিকিৎসার শিকার হন। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেল কলেজে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের পদ সৃষ্টির বাধা দূর করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য বলতে শুধু মানসিক রোগকে বোঝায় না। মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক, কাজ, পড়াশোনা ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গেও এটি গভীরভাবে জড়িত। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বেকারত্ব, আর্থিক সংকট, প্রিয়জনের মৃত্যু, বৈষম্য ও মাদকাসক্তি মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ও মুঠোফোনে অতিরিক্ত সময় কাটানো, অনলাইন জুয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
মানসিক কষ্টকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা, চিকিৎসা নেওয়াকে লজ্জার বিষয় মনে করা কিংবা সময়ের সঙ্গে সমস্যা নিজে থেকেই সেরে যাবে বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতায় অনেকেই সহায়তা চান না। অথচ, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও অন্যান্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির যথাসময়ে চিকিৎসা ও পারিবারিক সহযোগিতা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক সংকট আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক গুরুতর পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে তাই শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের কথা শোনার আহ্বান জানানো হচ্ছে না; তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাস্তব পরিবর্তন আনার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষকে শুধু নিজেদের অভিজ্ঞতা বলার সুযোগ দিলেই হবে না। নীতি প্রণয়ন, চিকিৎসাসেবা পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নেও তাঁদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে হাসপাতালের গণ্ডি থেকে বের করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, দক্ষ জনবল বাড়ানো, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং নিয়মিত জাতীয় জরিপের মাধ্যমে পরিস্থিতি মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার ভাষ্য, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমানের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরামর্শসেবা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের আয়োজনের মূল বার্তা—মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চিকিৎসা ও সহায়তাব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের যুবসমাজকে আটকে রাখা সম্ভব নয়, এমন মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। তিনি বলেন, "ট্রেন বাতিল করেও যুবসমাজকে আটকানো যাবে না।" নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বিরোধীদের ‘মিথ্যা’ প্রচার চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের সময় চিরাগ এই মন্তব্য করেন। তার মতে, রাজধানীর জনজীবন বারবার স্তব্ধ করা ঠিক নয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, দিল্লিতে ট্রেন বাতিল, মেট্রো পরিষেবায় বিঘ্ন এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল চিরাগ পাসোয়ানের কাছে। তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হন।
চিরাগ পাসোয়ান বলেন, "এরা ভারতের যুবসমাজ। প্রভু, এদের কেউ আটকাতে পারবে না। কিছু মানুষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। কতগুলো ট্রেন আটকে রাখা যাবে? কতটা যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করা যাবে? কতগুলো রাস্তা অবরুদ্ধ করা যাবে?"
তিনি আরও বলেন, "ভারতের যুবসমাজের গোটা বিশ্বকে পথ দেখানোর ক্ষমতা রয়েছে। তাদের কেউ আটকাতে পারবে না।"
বিরোধী দলগুলোর প্রতি কটাক্ষ করে চিরাগ পাসোয়ান অভিযোগ করেন, তারা সমস্যার সমাধান খোঁজার পরিবর্তে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের রাজনীতিতে বেশি আগ্রহী।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, "আপনারা (বিরোধীরা) নির্বাচনে জিততে পারছেন না। আর এখন বিক্ষোভের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করছেন।"
তার বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে বিরোধীদের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে সময় চাওয়া উচিত এবং বৈঠক করা উচিত। বিক্ষোভের মাধ্যমে বৈঠক করা উপযুক্ত পদ্ধতি নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে চিরাগ পাসোয়ান মুখ খুলেছিলেন। গত মাসে তিনি নির্বাচন কমিশন, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে, সংস্থার অভ্যন্তরে অসন্তোষ রয়েছে বলে প্রকাশিত খবরগুলির বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
চিরাগ বলেছিলেন, "নির্বাচন কমিশনকে মানুষের আস্থা বজায় রাখতে হবে। কারণ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েই যদি সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হয়, তা হলে সেটি ঠিক হবে না।"
তিনি আরও বলেন, "এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের উচিত দৃঢ়ভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা, যাতে মানুষের মনে কোনও সন্দেহ না থাকে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলাদেশে দিবসটি পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দেশের সকল নাগরিকের সার্বিক মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি।
এ বছরের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নীতিনির্ধারণ ও সেবা পরিকল্পনায় তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া উচিত।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সার্বিক সুস্থতা, কর্মক্ষমতা ও জীবনমানের একটি অপরিহার্য অংশ। পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক অস্থিরতা, একাকিত্ব, মাদকাসক্তি, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রতিকূলতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সুতরাং, শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘মানসিক সুস্থতাসম্পন্ন ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে- এ প্রত্যাশা করি।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সমন্বিত করার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ সেবা পৌঁছে দিতে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এছাড়া, ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তে যথাযথ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বকেয়া পাওনা ও ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই ফার্স্টকমের কার্যক্রম চালুর সুযোগ, বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ
বকেয়া পাওনা, ব্যাংক গ্যারান্টি এবং অতীতের বিধিনিষেধ—সবকিছু নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এস আলমের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ফার্স্টকমের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত এবং সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনাকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে দেখা দিয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, প্রচলিত শর্ত ও আর্থিক দায়ের বিষয়গুলো নিষ্পত্তি না করেই প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবসা পরিচালনায় বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কমিশন কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করে না; প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই আইজিডব্লিউ অপারেটরদের বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির মহাপরিচালক শফিউল আজম পারভেজের স্বাক্ষরে জারি করা নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটরদের কমন ইন্টারন্যাশনাল পয়েন্ট (সিআইপি) ব্যবহারের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ইন্টার-অপারেটর এক্সচেঞ্জ (আইওএক্স) সুইচ স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে অপারেটররা সম্মিলিত কমন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, যৌথ ব্যবস্থায় কল লেনদেনের হিসাব, সরকারের রাজস্ব ভাগাভাগি এবং অপারেটরদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ তুলনামূলক সহজ ছিল। পাশাপাশি সম্ভাব্য আর্থিক দায়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক গ্যারান্টি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করত।
নতুন নির্দেশনার ফলে এই কাঠামোয় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এ পরিবর্তন সব অপারেটরের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।
ফার্স্টকমের বিরুদ্ধে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের প্রায় আড়াই কোটি টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের দাবি, বকেয়া অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যাংক গ্যারান্টি নিশ্চিত না করে প্রতিষ্ঠানটিকে যৌথ কমন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা উচিত নয়।
তাঁদের আশঙ্কা, আর্থিক দায় নিষ্পত্তির আগে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে নতুন বকেয়া তৈরি হতে পারে। এতে পাওনা আদায় এবং আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ফার্স্টকমকে ঘিরে বিটিআরসির সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বকেয়া নিষ্পত্তি এবং ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বকেয়া পরিশোধ না করা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ফার্স্টকমের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ মে জারি করা নির্দেশনায় ওই বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করলে নতুন টপোলজিতে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বকেয়া পরিশোধকে শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর ফার্স্টকমের ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ক্যাপ প্রত্যাহার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বকেয়া পাওনা এবং বিটিআরসির নিজস্ব আর্থিক দাবি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে। ফলে আগের শর্তের সঙ্গে পরবর্তী সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ফার্স্টকমের বকেয়া ইস্যুতে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ বিটিআরসির প্রকাশিত সভার কার্যবিবরণী বা মিটিং মিনিটস ঘিরেও বিরোধ দেখা দেয়।
ওই কার্যবিবরণীতে ফার্স্টকম, আইজিডব্লিউ অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার উল্লেখ ছিল বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অপারেটর এমন সমঝোতা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তাঁদের অভিযোগ, কার্যবিবরণীতে উপস্থাপিত তথ্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ নিয়ে নথির যথার্থতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ে। যদিও জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও পক্ষগুলোর বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এ বিতর্কের এক দিন পর, ১৬ মার্চ ২০২৬, ফার্স্টকমকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ফলে বকেয়া, সমঝোতা এবং পূর্ববর্তী বিধিনিষেধের বিষয়গুলো নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
ফার্স্টকমের মালিকানা কাঠামোও আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এস আলমের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফার্স্টকমে ৭৭ শতাংশের বেশি শেয়ার থাকার দাবি রয়েছে। বাকি শেয়ারের মালিকানা সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও তাঁর পরিবারের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর স্পেশাল জজ আদালত এস আলম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪২টি কোম্পানির অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তথ্য রয়েছে।
ওই তালিকায় জেনেসিস টেক্সটাইল ও লায়ন সিকিউরিটিজ কোম্পানি লিমিটেডের নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি ফার্স্টকমের বড় শেয়ারহোল্ডার বলে দাবি করা হয়েছে। আদালতের আদেশের পর সংশ্লিষ্ট শেয়ার ও সম্পদের আইনি অবস্থান কী ছিল এবং তা ফার্স্টকমের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে—এসব প্রশ্নের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
ফার্স্টকমের কার্যক্রম ঘিরে বকেয়া অর্থ, ব্যাংক গ্যারান্টি, অপারেশনাল ক্যাপ প্রত্যাহার, সভার কার্যবিবরণী এবং মালিকানা—একাধিক বিষয় সামনে এসেছে। এসব প্রশ্নের নিরসনে বিটিআরসির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, প্রযোজ্য বিধিমালা এবং আর্থিক দায় নিষ্পত্তির তথ্য স্পষ্ট করা জরুরি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তে কোনো প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা পেয়েছে কি না, তা নির্ধারণে অভিযোগের পাশাপাশি নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। টেলিযোগাযোগ খাতে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে এসব প্রশ্নের জবাব গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ