ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুমিল্লায় পুকুরে ডুবে দুই শিশুর প্রাণ গেল


কুমিল্লায় পুকুরে ডুবে দুই শিশুর প্রাণ গেল

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুরে ডুবে জুনায়েদ (১০) ও হাসিব (৯) নামের দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর উত্তরপাড়া ইছামতি বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত জুনায়েদ রামনগর গ্রামের হালিমের ছেলে। সে গোপালনগর উত্তরপাড়ায় তার খালার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল জুনায়েদ। অপরদিকে, হাসিব গোপালনগর উত্তরপাড়া ইছামতি বাড়ির বাসিন্দা কাউসারের ছেলে। হাসিব স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে জুনায়েদ ও হাসিবসহ কয়েকজন শিশু বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে জুনায়েদ ও হাসিব পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে থাকা অন্যান্য শিশুরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা ছুটে আসেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

পরে পুকুরে নেমে দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রেদওয়ান আহম্মদ হিমেল জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছিল বলে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরে দুজনের ইসিজি করা হয়। ইসিজি পরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এ দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করতে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করতে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

কুমিল্লা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ইয়াছিন জানিয়েছেন, সরকার কৃষিপণ্যকে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একদিন পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে, এমন একটি স্বপ্ন রয়েছে।

আজ কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইনস্টিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীতে খাবারের অভাব নেই, তবে নিরাপদ খাবারের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে এবং মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও টেকসই উৎপাদনের দিকে যেতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনের জন্য পৃথিবীর অন্যতম উর্বর ও সম্ভাবনাময় অঞ্চল। দেশের মাটি, বাতাস, আলো ও বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক সুবিধা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় অনুকূল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় কৃষকদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই নিজেদের সুস্থ রাখতে এবং আগামীর প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

মন্ত্রী কৃষিকাজে কোনো লজ্জা নেই উল্লেখ করে বলেন, ‘মাঠে যেতে হবে এবং নিজের ফসল নিজেকেই উৎপাদন করতে হবে। আমরা গরুর দুধ খাই, মাংস খাই। তাহলে গরুর গোবর ফেলতে কিসের লজ্জা? সীমিত সম্পদ নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও এখনো দেশে কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটো আমদানি করতে হয়। তবে সেই দিন বেশি দূরে নয়, যেদিন এসব পণ্য আর আমদানি করতে হবে না, বরং বাংলাদেশই এসব কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উয়েফা নেশনস লিগে রেকর্ড গড়ে আর্তেতাকে বার্তা দিলেন ভিক্টর গিওকেরেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


উয়েফা নেশনস লিগে রেকর্ড গড়ে আর্তেতাকে বার্তা দিলেন ভিক্টর গিওকেরেস

সুইডেনের আর্সেনাল তারকা ভিক্টর গিওকেরেস উয়েফা নেশনস লিগের একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন। আন্তর্জাতিক বিরতির সময় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে গোল করে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি একটি অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।

ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম গোলডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ অক্টোবর বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সুইডেন ১-১ গোলে ড্র করে। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতাকে যোগ্যতার কথা জোরালোভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।

আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ড এমিরেটসে নিয়মিতভাবে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছিলেন। তবে সুইডেনের হয়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করার ফলে তিনি উত্তর লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে প্রধান ভূমিকা নিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।

গিওকেরেসের গোলের ধারাবাহিকতা শুরু হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বিপক্ষে চার গোল করার মাধ্যমে। এরপর থেকে নেশনস লিগে তিনি নিয়মিতভাবে গোল করে চলেছেন।

বসনিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের ৬১ মিনিটে করা গোলটির মাধ্যমে গিওকারেস স্লোভেনিয়ার বেনিয়ামিন সেসকো এবং সার্বিয়ার আলেকসান্ডার মিত্রোভিচের টানা ৫ ম্যাচে গোল করার আগের রেকর্ডটি ভেঙে দেন।

আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও, লিগে খেলার সুযোগ পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে আর্সেনালের হয়ে তিনি কঠিন সময় পার করছেন। গানার্সদের শুরুর একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া এবং ক্লাবের হয়ে গোলখরায় থাকার কারণে আর্তেতা তাকে ফর্ম নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।

তবে আন্তর্জাতিক বিরতিতে সুইডেনের জার্সিতে ৩ ম্যাচে ৩টি গোল করে গিওকারেস প্রমাণ করেছেন যে তিনি আর্সেনালের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। কাই হাভার্টজ এবং ক্রিস্টোস জোলিসের ইনজুরির কারণে আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে ক্লাব ফুটবলে ফেরার পর আর্তেতার দলে গিওকারেস বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে আরেকটি গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আর্সেনাল আক্রমণভাগকে আরো শক্তিশালী করতে স্প্যানিশ লিগের ক্লাব অ্যাথলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজকে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আনার জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে রাশিয়ার হামলা, সৃষ্টি হয়েছে যান চলাচলের বিশৃঙ্খলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে রাশিয়ার হামলা, সৃষ্টি হয়েছে যান চলাচলের বিশৃঙ্খলা

ঢাকা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে রাশিয়ার হামলার খবর দিয়েছেন শহরের মেয়র।

এই হামলা রাজধানীর অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের সর্বশেষ ঘটনা, যা যান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।

আজ ড্রোন হামলার সতর্কতা জারির পর নর্দার্ন ব্রিজে এই হামলা সংঘটিত হয়। এর আগে, সাউদার্ন ব্রিজেও হামলা হয়েছে।

নগর কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলাগুলো কিয়েভকে ‘তছনছ করে দিচ্ছে’।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মূলত পূর্বাঞ্চলের স্থলযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ফ্রন্টলাইনের নিকটবর্তী এলাকাগুলোর তুলনায় কিয়েভ এতদিন অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, ‘নর্দার্ন ব্রিজে হামলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন।

একটি পরবর্তী আপডেটে ক্লিৎসকো জানান, হামলায় সেতুর সড়কের অংশ ও ট্রলিবাসের বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই মুহূর্তে সেতুটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।’

এর আগে দনিপ্রো নদীর ওপর একাধিক সেতুতে হামলা হয়েছে। এই সেতুগুলো কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযুক্ত করে নির্মিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনার ৫৭২ খাল দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


খুলনার ৫৭২ খাল দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত

দখল ও দূষণের কারণে খুলনার সরকারি তালিকাভুক্ত ৫৭২টি প্রবহমান খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষক ও কৃষির উপর পানি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় কৃষক এবং কৃষি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, দখলদারদের উচ্ছেদ, নদী ও খালের শ্রেণি পরিবর্তন বন্ধ করা, বৈজ্ঞানিকভাবে ড্রেজিং, পুরনো পোল্ডার প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন, প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পানি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পানি ও পলির মান পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, কৃষি ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এমন পরিস্থিতিতে, আগামী শুকনো মৌসুমে খননের জন্য সম্ভাব্য ১৬টি খাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ জন্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে খুলনা অঞ্চলের কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং ফসলি জমির বর্তমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) একটি বিশেষ জরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় প্রবহমান ও সরকারি তালিকাভুক্ত খালের সংখ্যা ৫৭২টি। এর মধ্যে ৪৪টি খাল লিজে থাকার কারণে কৃষিজমিতে সেচ বিঘ্নিত হচ্ছে। জেলার ৫২২টি খাল ভরাট হয়ে গেছে, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় দুই হাজার ২০০ কিলোমিটার।

খুলনা কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহন কুমার ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল বিশেষ জরিপ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে তালিকাটি প্রস্তুত করে। এই তালিকায় ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, পাইকগাছা, তেরখাদা ও রূপসার বিভিন্ন খালের মধ্যে গুয়াগাছিয়া, চুকনগর, শৈলমারি শাখা, হরিণটানা, বাতি-বুটিয়ার, মোজাহারি, চাঁদখালী, নয়াই, গদাইপুর, শিবসা-সংযুক্ত শাখা, ভূঁইয়ার, আঠারোবেকী ও নন্দনপুরের খাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া, কয়রায় ২০ একরের নিচে ৯৯টি জলমহাল রয়েছে, যার মধ্যে চারটি খাল সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। ১৭টির নাব্যতা না থাকায় ইজারা না দিয়ে খাস আদায় করা হচ্ছে। মামলার কারণে ১২টির ইজারা বন্ধ এবং তিনটি খালের ইজারা স্থগিত রয়েছে।

স্থানীয় কৃষক, কৃষি দপ্তর ও সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সময় খুলনায় অসংখ্য ছোট-বড় খাল জালের মতো ছড়িয়ে ছিল। এসব জলপথ নদ-নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো। কিন্তু পলি জমা, দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও মানবসৃষ্ট নানা কারণে অনেক খাল সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

কিছু খাল পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। জেলার ডুমুরিয়ায় নদী-খাল ভরাট এবং পানি ওঠানামার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কয়েক দশক ধরে বিল ডাকাতিয়ায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আগামী শুকনো মৌসুমে খুলনার ১৬টি খাল খননের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে ত্রাণ পুনর্বাসন অধিদপ্তর।

এসব খালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফুলতলা উপজেলার সায়েলের খাল ও দফাদার খাল; দাকোপ উপজেলার আনন্দনগর খাল; রূপসা উপজেলার শিয়ালী আঠারোবেকী নদী থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত খাল; বটিয়াঘাটা উপজেলার কাটিয়ানাংলা; কয়রা উপজেলার বামিয়া মাথাভাঙা ও আগরগারিয়া; দিঘলিয়া উপজেলার মাথাভাঙা এবং ডুমুরিয়া উপজেলার রূপরামপুর মাড়ুয়া-আমভিটা পর্যন্ত খাল ও ক্ষুদে খাল।

ডুমুরিয়ার কৃষক সমীর কুমার ও খর্ণিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ মোড়ল বলেন, ‘প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কৃষিকাজ করতে হয়। নদী-খালগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে শুকনো মৌসুমে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। এজন্য গভীর নলকূপ থেকে পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। অথচ খাস খালগুলো পুনঃখনন করা হলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ সম্ভব হয়। এতে কৃষিকাজে কৃষকের খরচ কমে।’

পাইকগাছার বাকা গ্রামের আহাদ আলী গোলদার (৫৯) বলেন, এক সময় খাল দিয়ে বিলের পানি নদীতে নামতো। এখন নদী খনন করা হলেও খালের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের বিপদের শেষ নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের বৃষ্টির সময় ডুবতে হয়। খালগুলো খোলা থাকলে আমরা ধান-পান কইরে বাঁচতে পারতাম। পানি নোনা কম হতো।’

এদিকে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, উজানের মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং পোল্ডার ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা ক্রমেই উত্তরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। মাটিতেও লবণাক্ততা বাড়ছে।

২০২৩ সালে ডুমুরিয়ার গুটুদিয়ায় ৪ দশমিক ৬, ফুলতলা-বটিয়াঘাটায় ৪ দশমিক ১, পাইকগাছার শিববাড়ীতে ১৪ ডিএস/মি পর্যন্ত লবণাক্ততার তথ্য রয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পানি সংকটে খরিপ ও রবি মৌসুমে ধান, পাট ও সবজির উৎপাদন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছার অনেক এলাকায় সবজি চাষ ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে, মৎস্য খাতে চিংড়ি, পাবদা, গজাল ও বোয়ালি বা বেলে জাতীয় মাছের প্রাপ্যতা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

খুলনার নদী ব্যবস্থার বিপর্যয়ের চিত্র আন্তর্জাতিক সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল চ্যালেঞ্জেস জি-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ-বিদেশের পরিবেশ-ভুগোল বিশেষজ্ঞ দল জেলার মধ্যে কেবল ডুমুরিয়ার উপজেলায় এ গবেষণা করে।

গবেষণায় ১৯৮৭-২০২৪ সাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্র, জলবিদ্যাগত তথ্য ও স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, এ সময় উপজেলার মোট নদী নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য ৪৯২ দশমিক ৯ কিলোমিটার থেকে কমে ২০৩ দশমিক ৭ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ৩৭ বছরে নদীর মোট দৈর্ঘ্য কমেছে প্রায় ৫৯ শতাংশ। গড়ে প্রতিবছর হারিয়েছে ৬ দশমিক ১৪ কিলোমিটার নদীপথ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক দপ্তরের কৃষি প্রকৌশলী দীপঙ্কর চন্দ্র বালা কালের কণ্ঠকে বলেন, নদী-খালের প্রবাহ বন্ধ হওয়ার প্রভাব কৃষিতে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল হওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানি তোলায় বড় বিপর্যয় নেমে আসছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে লবণাক্ততা। তাই নদী-খালগুলোর অবাধ পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারিভাবে এনিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে এর জন্য সমন্বয় প্রয়োজন।

কৃষি প্রকৌশলী দীপঙ্কর বালা জানান, কৃষি বিভাগ এনিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে। বিগত সময়ে ৬০টির মতো খাল খনন করা হয়েছে। তালিকা প্রস্তুত করে নতুন করে খননের উদ্যোগ রয়েছে। তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

খুলনা জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, নদী-খাল খনন নিয়ে একাধিক সংস্থা কাজ করে থাকে। ইতিমধ্যে খুলনায় ১৭টি খালের সম্ভাব্য তালিকা হয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি খালের নাম দুইবার আসায় খালের সংখ্যা ১৬টি।

এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার লাভ-ক্ষতি দেখে খালখনন প্রকল্প অনুমোদন পাবে। দ্রুত পলি পড়বে এমন খাল অনুমোদন পাবে না। খালগুলো খনন করা হলে কৃষি, মৎস্য এবং পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%