ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলনার ৫৭২ খাল দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত


খুলনার ৫৭২ খাল দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত

দখল ও দূষণের কারণে খুলনার সরকারি তালিকাভুক্ত ৫৭২টি প্রবহমান খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষক ও কৃষির উপর পানি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় কৃষক এবং কৃষি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, দখলদারদের উচ্ছেদ, নদী ও খালের শ্রেণি পরিবর্তন বন্ধ করা, বৈজ্ঞানিকভাবে ড্রেজিং, পুরনো পোল্ডার প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন, প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পানি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পানি ও পলির মান পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, কৃষি ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এমন পরিস্থিতিতে, আগামী শুকনো মৌসুমে খননের জন্য সম্ভাব্য ১৬টি খাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ জন্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: আলেমদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে রফিকুল ইসলাম মাদানির বিস্ফোরক পোস্ট!

২০২৪ সালের জুলাইয়ে খুলনা অঞ্চলের কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং ফসলি জমির বর্তমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) একটি বিশেষ জরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় প্রবহমান ও সরকারি তালিকাভুক্ত খালের সংখ্যা ৫৭২টি। এর মধ্যে ৪৪টি খাল লিজে থাকার কারণে কৃষিজমিতে সেচ বিঘ্নিত হচ্ছে। জেলার ৫২২টি খাল ভরাট হয়ে গেছে, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় দুই হাজার ২০০ কিলোমিটার।

খুলনা কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহন কুমার ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল বিশেষ জরিপ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে তালিকাটি প্রস্তুত করে। এই তালিকায় ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, পাইকগাছা, তেরখাদা ও রূপসার বিভিন্ন খালের মধ্যে গুয়াগাছিয়া, চুকনগর, শৈলমারি শাখা, হরিণটানা, বাতি-বুটিয়ার, মোজাহারি, চাঁদখালী, নয়াই, গদাইপুর, শিবসা-সংযুক্ত শাখা, ভূঁইয়ার, আঠারোবেকী ও নন্দনপুরের খাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া, কয়রায় ২০ একরের নিচে ৯৯টি জলমহাল রয়েছে, যার মধ্যে চারটি খাল সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। ১৭টির নাব্যতা না থাকায় ইজারা না দিয়ে খাস আদায় করা হচ্ছে। মামলার কারণে ১২টির ইজারা বন্ধ এবং তিনটি খালের ইজারা স্থগিত রয়েছে।

স্থানীয় কৃষক, কৃষি দপ্তর ও সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সময় খুলনায় অসংখ্য ছোট-বড় খাল জালের মতো ছড়িয়ে ছিল। এসব জলপথ নদ-নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো। কিন্তু পলি জমা, দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও মানবসৃষ্ট নানা কারণে অনেক খাল সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: বরিশালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ আওয়ামী লীগপন্থী নেতা তুহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সুদের কারবার নির্যাতনে দিশেহারা অসহায় মানুষ

কিছু খাল পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। জেলার ডুমুরিয়ায় নদী-খাল ভরাট এবং পানি ওঠানামার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কয়েক দশক ধরে বিল ডাকাতিয়ায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আগামী শুকনো মৌসুমে খুলনার ১৬টি খাল খননের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে ত্রাণ পুনর্বাসন অধিদপ্তর।

এসব খালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফুলতলা উপজেলার সায়েলের খাল ও দফাদার খাল; দাকোপ উপজেলার আনন্দনগর খাল; রূপসা উপজেলার শিয়ালী আঠারোবেকী নদী থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত খাল; বটিয়াঘাটা উপজেলার কাটিয়ানাংলা; কয়রা উপজেলার বামিয়া মাথাভাঙা ও আগরগারিয়া; দিঘলিয়া উপজেলার মাথাভাঙা এবং ডুমুরিয়া উপজেলার রূপরামপুর মাড়ুয়া-আমভিটা পর্যন্ত খাল ও ক্ষুদে খাল।

ডুমুরিয়ার কৃষক সমীর কুমার ও খর্ণিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ মোড়ল বলেন, ‘প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কৃষিকাজ করতে হয়। নদী-খালগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে শুকনো মৌসুমে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। এজন্য গভীর নলকূপ থেকে পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। অথচ খাস খালগুলো পুনঃখনন করা হলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ সম্ভব হয়। এতে কৃষিকাজে কৃষকের খরচ কমে।’

আরও পড়ুন: চৌমুহনী: অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত

পাইকগাছার বাকা গ্রামের আহাদ আলী গোলদার (৫৯) বলেন, এক সময় খাল দিয়ে বিলের পানি নদীতে নামতো। এখন নদী খনন করা হলেও খালের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের বিপদের শেষ নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের বৃষ্টির সময় ডুবতে হয়। খালগুলো খোলা থাকলে আমরা ধান-পান কইরে বাঁচতে পারতাম। পানি নোনা কম হতো।’

এদিকে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, উজানের মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং পোল্ডার ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা ক্রমেই উত্তরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। মাটিতেও লবণাক্ততা বাড়ছে।

২০২৩ সালে ডুমুরিয়ার গুটুদিয়ায় ৪ দশমিক ৬, ফুলতলা-বটিয়াঘাটায় ৪ দশমিক ১, পাইকগাছার শিববাড়ীতে ১৪ ডিএস/মি পর্যন্ত লবণাক্ততার তথ্য রয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পানি সংকটে খরিপ ও রবি মৌসুমে ধান, পাট ও সবজির উৎপাদন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছার অনেক এলাকায় সবজি চাষ ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা

অন্যদিকে, মৎস্য খাতে চিংড়ি, পাবদা, গজাল ও বোয়ালি বা বেলে জাতীয় মাছের প্রাপ্যতা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

খুলনার নদী ব্যবস্থার বিপর্যয়ের চিত্র আন্তর্জাতিক সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল চ্যালেঞ্জেস জি-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ-বিদেশের পরিবেশ-ভুগোল বিশেষজ্ঞ দল জেলার মধ্যে কেবল ডুমুরিয়ার উপজেলায় এ গবেষণা করে।

গবেষণায় ১৯৮৭-২০২৪ সাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্র, জলবিদ্যাগত তথ্য ও স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, এ সময় উপজেলার মোট নদী নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য ৪৯২ দশমিক ৯ কিলোমিটার থেকে কমে ২০৩ দশমিক ৭ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ৩৭ বছরে নদীর মোট দৈর্ঘ্য কমেছে প্রায় ৫৯ শতাংশ। গড়ে প্রতিবছর হারিয়েছে ৬ দশমিক ১৪ কিলোমিটার নদীপথ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক দপ্তরের কৃষি প্রকৌশলী দীপঙ্কর চন্দ্র বালা কালের কণ্ঠকে বলেন, নদী-খালের প্রবাহ বন্ধ হওয়ার প্রভাব কৃষিতে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল হওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানি তোলায় বড় বিপর্যয় নেমে আসছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে লবণাক্ততা। তাই নদী-খালগুলোর অবাধ পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারিভাবে এনিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে এর জন্য সমন্বয় প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের অর্ধদিবস সড়ক অবরোধ

কৃষি প্রকৌশলী দীপঙ্কর বালা জানান, কৃষি বিভাগ এনিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে। বিগত সময়ে ৬০টির মতো খাল খনন করা হয়েছে। তালিকা প্রস্তুত করে নতুন করে খননের উদ্যোগ রয়েছে। তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

খুলনা জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, নদী-খাল খনন নিয়ে একাধিক সংস্থা কাজ করে থাকে। ইতিমধ্যে খুলনায় ১৭টি খালের সম্ভাব্য তালিকা হয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি খালের নাম দুইবার আসায় খালের সংখ্যা ১৬টি।

এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার লাভ-ক্ষতি দেখে খালখনন প্রকল্প অনুমোদন পাবে। দ্রুত পলি পড়বে এমন খাল অনুমোদন পাবে না। খালগুলো খনন করা হলে কৃষি, মৎস্য এবং পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুন: খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে চলছে আধাবেলা সড়ক অবরোধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানুয়ারিতে নতুন বই, প্রাথমিকে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


জানুয়ারিতে নতুন বই, প্রাথমিকে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "শিক্ষাকার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।" শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই বিতরণ করা হবে। বইয়ের মান নিশ্চিত করতে এবার ভালোমানের কাগজ ও কালি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "নিম্নমানের কারণে প্রকাশকদের কাছ থেকে তিন লাখ বই ফেরত নেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকাশকের কাজে মানের ঘাটতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বই বিতরণের পরও কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এছাড়া ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইউনিফর্মসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুরাদনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর, ইউপি সদস্যসহ আহত ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪১ পি.এম


মুরাদনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর, ইউপি সদস্যসহ আহত ৬

কুমিল্লার মুরাদনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও যুবদলের নেতাও রয়েছেন। এ সময় কিছু বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামের সৌদিয়াপাড়া স্টেশন মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওমর আলী (৭০), ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জিয়াউর রহমান (৩৫), ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম (৩৭), কোরবানপুর গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে আমির হোসেন (৩৮), দানু মিয়ার ছেলে আল আমিন (৪৮) এবং শাহ জাহানের ছেলে রুবেল (২৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোরবানপুর গ্রামের ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে বাঙ্গরা বাজার থানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোকজনের বিরুদ্ধে।

এর পর শনিবার সকালে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কোরবানপুরের সৌদিয়াপাড়া স্টেশন মোড়ে হামলা চালান। এই ঘটনার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে কিছু বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

সংঘর্ষের ফলে আহত ছয়জনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ. কে. এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইলট স্মিত মাচ্ছার ১৭৪ যাত্রীকে বাঁচাতে জীবন বাজি, তারকাদের স্যালুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৪ পি.এম


পাইলট স্মিত মাচ্ছার ১৭৪ যাত্রীকে বাঁচাতে জীবন বাজি, তারকাদের স্যালুট

ভারতের পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার ইসরায়েলগামী একটি উড়োজাহাজের যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে। তার সাহস, কর্তব্যবোধ ও উপস্থিত বুদ্ধির জন্য বলিউডের দুই সুপারস্টার শাহরুখ খান ও সালমান খান প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্টে তারা পাইলটের প্রশংসা করার পাশাপাশি তার দ্রুত সুস্থতাও কামনা করেছেন।

শাহরুখ খান ক্যাপ্টেন স্মিতকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন আপনি দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা সহজ নয়। কিন্তু যাত্রীদের রক্ষা করতে আপনি সেটিই করেছেন। একজন ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব কী, তা আপনার সাহস ও কর্তব্যবোধে ফুটে উঠেছে। দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আপনাকে নিয়ে পুরো দেশ গর্বিত।”

সালমান খানও স্মিতের প্রশংসা করে পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, “কামাল করে দিয়েছেন পাইলটজি। আমরা সবাই আপনাকে স্যালুট করি। আপনার সঙ্গে উড়তে পারলে আনন্দিত হব। ভালো করেছেন ভাই।”

ঘটনাটি ঘটে বুধবার, যখন দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৭ জন শিশু। অভিযোগ রয়েছে, উড্ডয়নের পর পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে তার সহকারী পাইলট ছুরিকাঘাত করেন এবং একপর্যায়ে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়।

এই সময় উড়োজাহাজটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমে যায়। পরে সৌদি আরবের তাবুক শহরের প্রিন্স সুলতান বিন আবদেল আজিজ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করানো হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্মিত উড়োজাহাজের গ্যালিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

শুক্রবার আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্মিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। প্রায় ১০ মিনিটের ওই কথোপকথনে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানান।

স্মিত জানান, তিনি ১৭ বছর ধরে পাইলট হিসেবে কাজ করছেন এবং এর মধ্যে ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উড়োজাহাজটি নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। স্মিত বলেন, “আমি মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম। নিজেকে বললাম, দরজাটা তো ঠিক সামনেই। শুধু খুলে ফেলতে হবে। শেষ পর্যন্ত দরজাটি খুলতে পেরেছিলাম, এরপর মানুষজন ভেতরে ঢুকে পড়ে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও স্মিতের সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার পদক্ষেপ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে এবং ভারতীয় পাইলটদের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখেছে।

গুজরাটের বাসিন্দা স্মিত মোদিকে জানান, সংকটের মুহূর্তে তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলেন, বিশেষ করে হিন্দু দেবতা হনুমানের উদ্দেশে প্রার্থনা করার কথাও জানান।

শাহরুখ ও সালমান ছাড়াও রণবীর সিং, ভিকি কৌশল, সানি দেওল ও তামান্না ভাটিয়াসহ আরও কয়েকজন বলিউড তারকা স্মিত মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা চুক্তির আওতায় হুতিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অস্ত্র সরবরাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


মক্কা চুক্তির আওতায় হুতিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অস্ত্র সরবরাহ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান সৌদি আরব-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইসলামাবাদ দেশটিকে সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে চারটি কার্গো বিমানে অস্ত্র পাঠিয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের পাঠানো অস্ত্র ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পৌঁছেছে। এর ফলে ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও কাজ করছেন। ইয়েমেন সংঘাতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সৌদি সমর্থনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগস্ট মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইয়েমেন পরিস্থিতিকে ওই সহযোগিতার প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিডল ইস্ট আইকে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুতির বড় ধরনের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, হুতি ইতিমধ্যে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব বিমান হামলা জোরদার করেছে। গত বৃহস্পতিবার হুতিরা দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব তাদের অবস্থানে ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা সানায় একটি ‘উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে’ অভিযান চালিয়েছে এবং সাদায় ১১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তাইজে একটি ‘সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থা’র ওপর ২৭টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরও রয়েছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রেও হুতিরা হামলা চালিয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোট জানিয়েছে, তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে একটি ড্রোন আঘাত হানে। কেন্দ্রটি মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তবে হুতিরা এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগর দিয়ে অগ্রসর হয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করলেও পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি এতে অংশ নেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজেদের নিরাপত্তা উদ্বেগ—দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে দেশ দুটিকে। পাকিস্তানের প্রতিবেশী ইরান হুতিদের অস্ত্র, গোয়েন্দা সহায়তা ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র হলেও হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো প্রকাশ্যে কোনো ভূমিকা নেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানের মতো সৌদি আরবে সামরিক পরামর্শক ও অস্ত্রব্যবস্থা পাঠিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%