ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এপেক সম্মেলনের আগে কিমের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প


এপেক সম্মেলনের আগে কিমের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও খুবই কম।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমকে ৬০ ঘণ্টার ট্রেনযাত্রা করে দেশে ফিরতে হয়েছিল খালি হাতে।

এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ট্রাম্প বারবার বৈঠকের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছেন, কিন্তু পিয়ংইয়ং এখনও নীরব রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না ইরানের শীর্ষ নেতা

গত সপ্তাহে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আগামী মাসে এশিয়া সফরের সময় কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ‘হতে পারে’ এবং এমন বৈঠক ‘রোমাঞ্চকর হবে’।

সিউল থেকে এএফপি জানায়, তবে সোমবার তিনি বলেন, ‘আমি জানি না... কেউ বৈঠকের জন্য অনুরোধ করছে কি না, সে বিষয়েও আমি নিশ্চিত নই।’ তিনি আরও বলেন, কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর ‘সম্পর্ক খুব ভালো’ রয়েছে।

দুই নেতার মধ্যে যেকোনো বৈঠক গণমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করবে। তবে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য আলোচনার ঘোষণা দিলে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট পররাষ্ট্রনীতিতে একটি সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের আরেকটি বহুল আলোচিত বৈঠক থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ কিমের তুলনামূলকভাবে কম।

আরও পড়ুন: মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ: আইএমএফের প্রতিবেদন

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে সহায়তা করতে সেনা ও অস্ত্র পাঠানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কিম রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন। এর ফলে পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় দেশটি সুবিধা লাভ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জুলাই মাসের একটি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি টানা তৃতীয় বছরের মতো ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ব্যাংকটি পিয়ংইয়ংয়ের ‘রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’কে এর প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনও উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। দেশটির জন্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার অন্যতম প্রধান উৎস বেইজিং।

কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুল এএফপিকে বলেন, ‘আমি বৈঠকের সম্ভাবনা প্রায় দেখতেই পাচ্ছি না।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই মুহূর্তে কিম জং উনের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখাই সবচেয়ে ভালো বিকল্প।’

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুসহ ৩৫ ইসরাইলির বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু

এদিকে, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কাং কিয়ং-হোয়া জানান, কিম ও ট্রাম্পের বৈঠকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়নি।

‘প্রেমে পড়েছিলেন’

ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে তিনবার কিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক সময় তাঁদের সম্পর্ক বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, তাঁরা ‘প্রেমে পড়েছিলেন’। যদিও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এরপর থেকে উত্তর কোরিয়া তার অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় ভারত, আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে

দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনামূলকভাবে নমনীয় প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বারবার কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই পিয়ংইয়ংকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি প্রস্তাব করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি অবিলম্বে পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পরিবর্তে তা স্থগিত রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের আলোচনা করা উচিত।

সমালোচকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ উত্তর কোরিয়াকে কার্যত পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার পরিত্যাগ না করেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সুযোগ পেতে পারে পিয়ংইয়ং।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাকে পরোক্ষভাবে মেনে নেওয়ার দিকে এগিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

গত জুনে পিয়ংইয়ংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আতিথ্য দেন কিম। এর অল্প কিছুদিন আগে শি বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও পুতিনের সঙ্গে পরপর দুটি শীর্ষ বৈঠক করেন।

আরও পড়ুন: দুই সেনা হত্যায় হেবরনকে ভূতুড়ে শহর বানাল ইসরায়েল

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে পিয়ংইয়ং বা বেইজিং-- কোনো পক্ষের সরকারি বিবৃতিতেই কিছু বলা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি চীনের নীরব সম্মতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন এএফপিকে বলেন, ‘একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান এবং অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়াকে নিয়ে দুটি পৃথক জোটে বিভক্তি উত্তর কোরিয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করছে।’

‘নির্বোধ’

পিয়ংইয়ং বারবার স্পষ্ট করেছে, তারা আর পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত নয়।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বাবা নিজের সন্তানদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে বিক্রি করতেন

কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং গত সেপ্টেম্বরে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ‘চূড়ান্ত’। তিনি জানান, দেশটির পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আশা যারা করেন, তাদের তিনি ‘নির্বোধ’ বলে অভিহিত করেন।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরীয় অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ভ্লাদিমির তিখোনভ এএফপিকে বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বিলুপ্ত হবে না—এই বাস্তবতাকে ভিত্তি ধরে ওয়াশিংটন আলোচনা শুরু করবে কি না, সেটিই আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা যথেষ্ট বলেই আমি মনে করি।’

বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালনের ওপরও চীনের প্রভাব অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে শেনজেনে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সরাসরি কোনো সমঝোতা হলে এবং তাতে বেইজিংকে পাশ কাটানো হলে, উভয় পক্ষের ওপর চীনের প্রভাব কমে যেতে পারে।

উত্তর কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিন বলেন, ‘পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মতি নিয়েই সংলাপ এগিয়ে নেওয়া হতে পারে।’

তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সুবিধা পাওয়ায় সময় ও কৌশলগত গতিপ্রবাহ এখন কিমের অনুকূলে রয়েছে।

ইয়াং বলেন, ‘এসব সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে সরে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনিশ্চিত সংলাপে প্রবেশ করা—এই মুহূর্তে এমনটা কল্পনা করাও কঠিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে ৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীদের অনশন কর্মসূচির স্থান থেকে পুলিশ চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে শাহবাগ থানা-পুলিশ তাদের আটক করে।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ৪৫তম বিসিএসে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও গেজেটে নাম না আসা প্রার্থীরা অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। সেখানে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পরে অনশনরতদের মধ্যে থেকে চারজনকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাকৃবির আশরাফুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের উপসাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুল ইসলাম, একই হল শাখা ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক পদপ্রার্থী মনিরুজ্জামান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আকরাম গাজী হৃদয়। আটক অন্য ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটক করার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সেখানে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন। তাদের মধ্যে ঢাবি ছাত্রদলের নেতা নাছির উদ্দিন শাওনের নেতৃত্বে অন্যান্য নেতাকর্মীরা ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় আমরা সেখানে যাই। আটক চারজন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী নেতা বলে নিশ্চিত হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারকে সময় না দিয়ে বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: ডা. কাজী মনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


সরকারকে সময় না দিয়ে বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: ডা. কাজী মনির

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. কাজী মনিরুজ্জামান মনির মন্তব্য করেছেন যে, বিরোধীদল সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে কেবল বিরোধিতার উদ্দেশ্যে বিরোধিতা করছে।

শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘দেশ গঠনে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া প্রজন্ম দল।

ড. কাজী মনিরুজ্জামান উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমোদন নিয়ে সংগঠন পরিচালনা করলে নেতাকর্মীদের মধ্যে সাহস বৃদ্ধি পাবে এবং সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আবেদনের পাশাপাশি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর কাছে চিঠি পৌঁছানোর পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। সরকারি ব্যয় কমানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে গণভবনে প্রতিবছর খাবারের জন্য ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। সেখানে তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন যে, তার দৈনিক খাবারের ব্যয় ১০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ফলে বছরে এ বাবদ ব্যয় ৩৫ লাখ টাকারও নিচে নেমে আসবে।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দিনের বেলায় সরকারি অফিসের জানালা থেকে পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন কাজী মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সকলকে বিদ্যুতের অপচয় কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের সামাজিক সুরক্ষামূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসের শুরুতে নিয়মিত অর্থ পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছে সরকার।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৬৫ লাখ মামলা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে সরকারের আমলে কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অপরাধের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

ধর্মীয় পরিচয় ও দুর্গাপূজা নিয়ে রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ির সমালোচনা করে কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি না করে সবার উচিত দেশের সার্বিক কল্যাণ ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মেহেদী হাসান মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির নেতা মো. আকরাম হোসেন মিনহাল, এইচ এম ইমরান হোসেন ও মো. খোরশেদ মাদবর প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকার দিন শেষ, রাষ্ট্রপতির প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকার দিন শেষ, রাষ্ট্রপতির প্রশ্ন

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্ন রেখেছেন, "আর কত দিন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব।" তিনি বলেন, নিজেদের খেলোয়াড়দের দক্ষ করে গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন আয়োজিত কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতি এসব মন্তব্য করেন।

এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তরুণ সমাজকে মাদক, হতাশা এবং মোবাইল আসক্তি থেকে বিরত রাখতে খেলা ও খেলার মাঠ অপরিহার্য। তিনি অবৈধ দখলমুক্ত করে মাঠ সংরক্ষণ ও নতুন মাঠ চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপতি এ সময় বিশ্বমানের অ্যাথলেট তৈরির জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, একই আয়োজনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সরকার খেলাধুলাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকমানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করে একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে এই আয়োজনে ৫৭ সংস্থার ৫৬৫ জন অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করছেন। পুরুষদের ২২ ও নারীদের ১৮টিসহ মোট ৪০টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অ্যাথলেটরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৬ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৬ জন আটক

নোয়াখালীতে জেলা পুলিশ কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৬ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া, দুজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৪৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে ১৫১ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ১৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় পাঁচজন, কবিরহাট থানায় চারজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ১৬ জন, সেনবাগ থানায় দুজন এবং চরজব্বর থানায় তিনজনকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, চাটখিল থানায় চারজনকে এবং হাতিয়া থানায় একজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হাতিয়া থানায় আটক বাকি পাঁচজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধে নোয়াখালী জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

তিনি আরো জানান, এ ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। কিশোরদের চলাফেরা, বন্ধুমহল, অনলাইন কার্যক্রম এবং আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%