শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০৫ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্ন রেখেছেন, "আর কত দিন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব।" তিনি বলেন, নিজেদের খেলোয়াড়দের দক্ষ করে গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন আয়োজিত কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতি এসব মন্তব্য করেন।
এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তরুণ সমাজকে মাদক, হতাশা এবং মোবাইল আসক্তি থেকে বিরত রাখতে খেলা ও খেলার মাঠ অপরিহার্য। তিনি অবৈধ দখলমুক্ত করে মাঠ সংরক্ষণ ও নতুন মাঠ চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপতি এ সময় বিশ্বমানের অ্যাথলেট তৈরির জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, একই আয়োজনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সরকার খেলাধুলাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকমানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করে একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে এই আয়োজনে ৫৭ সংস্থার ৫৬৫ জন অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করছেন। পুরুষদের ২২ ও নারীদের ১৮টিসহ মোট ৪০টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অ্যাথলেটরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীতে জেলা পুলিশ কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৬ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া, দুজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৪৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে ১৫১ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ১৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় পাঁচজন, কবিরহাট থানায় চারজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ১৬ জন, সেনবাগ থানায় দুজন এবং চরজব্বর থানায় তিনজনকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, চাটখিল থানায় চারজনকে এবং হাতিয়া থানায় একজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হাতিয়া থানায় আটক বাকি পাঁচজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধে নোয়াখালী জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরো জানান, এ ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। কিশোরদের চলাফেরা, বন্ধুমহল, অনলাইন কার্যক্রম এবং আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন এবং অবকাঠামোগত অবস্থার অবনতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটি। শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ক্লাসরুমে এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বর থেকে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সরকারের পক্ষ থেকে কেবল আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব সুফল না পাওয়ায় তরুণরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এবার মৌখিক আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখ সোমাইয়া সার্রে (১৮) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “বহু বছর ধরে আমাদের শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই রক্ষা করা হয়নি। আমরা চাই প্রতিটি প্রতিশ্রুতির পেছনে বাস্তবভিত্তিক ফলাফল থাকুক। আমরা আমাদের স্কুলগুলোতে সত্যিকারের পরিবর্তন দেখতে চাই।”
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— স্কুল অবকাঠামো সংস্কারের জন্য ১.৫ বিলিয়ন ইউরো ($১.৭ বিলিয়ন) জরুরি পরিকল্পনা এবং বিতর্কিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পদ্ধতি ‘পার্কোরসুপ’ (Parcoursup)-এর ব্যাপক সংস্কার।
সরকার আন্দোলন ঠেকানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা, বিশাল সরকারি ঋণ এবং বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে বড় ধরনের সংস্কার বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহের বৈঠকে সরকার যদি নতুন কোনো সন্তোষজনক সমাধান দিতে না পারে, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনের পুনর্বাসন ও সংস্কার কাজের সূচনা করেন নগর প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তিনি বলেন, "সাংবাদিকদের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বরিশাল প্রেসক্লাব।"
বরিশাল প্রেস ক্লাবের গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে অতীতের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। এ কারণে বরিশালবাসীও গর্বিত। প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত মান উন্নয়নে বরিশাল সিটি করপোরেশন সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি, যা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিবেশ সুগম করতে সহায়ক হবে।
নগর প্রশাসক অতীতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উল্লেখ করেন, '৫২'র ভাষা আন্দোলন, '৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, '৭১'র মুক্তিযুদ্ধ এবং '৯০'র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পরে জুলাই বিপ্লবে বরিশাল প্রেসক্লাবের গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, "এ প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে জনগণের পাশে ছিলেন বলেই তা চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।"
অনুষ্ঠানে বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু এবং সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন সহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দও অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা গ্রেপ্তার হয়েছেন ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআ। শুক্রবার জুমার নামাজ পরিচালনার পর তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট মিডিয়া অফিস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পর ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা শেখ খালেদ আবু জুমআকে ঘেরাও করে এবং তাকে তুলে নিয়ে যায়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার গ্রেপ্তারের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি।
এদিকে, জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর কড়াকড়ি এবং নিয়মিত আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ