রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৪ পি.এম
বেড়া উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে টয়লেটের উপস্থিতি রয়েছে, তবে শিক্ষার্থীদের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। কিছু বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে আলাদা পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই এবং নিয়মিত পানি, সাবান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। এই কারণে শিশুরা প্রয়োজনের সময় টয়লেট ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বেড়া উপজেলায় ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা) ব্যবস্থায় এই ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১২টি। এসব বিদ্যালয়ে অবকাঠামোর অভাব, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা কম—এসব সমস্যা বিদ্যমান।
হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৭৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে ১৯১ জন ছেলে এবং ২২৮ জন মেয়ে। তাদের জন্য মাত্র ৪টি পুরাতন টয়লেট রয়েছে। টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সমস্যা হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের টয়লেট ব্যবহার করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্মিত দুই রুম বিশিষ্ট একটি টয়লেট অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে বর্তমানে পরিত্যক্ত হয়ে আছে।
হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেদায়েততুল্লাহ জানান, বিদ্যালয়ে টয়লেট থাকলেও আলাদা পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় টয়লেট পরিষ্কার করা হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে সমস্যা হয়। এই কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে সুস্থভাবে টয়লেট ব্যবহারের নিয়ম ও পরিচ্ছন্নতার ধারণা দেওয়া হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, টয়লেটে প্রায়ই দুর্গন্ধ থাকে এবং অনেক সময় পানি ও সাবান পাওয়া যায় না। ফলে টয়লেট ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার করার সুযোগ থাকে না। শিক্ষার্থী জীম ও আব্দুল্লাহ্ বলেন, টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় একজন ব্যবহার করলে অন্যদের অপেক্ষা করতে হয়। অধিক ব্যবহারের কারণে কখনো কখনো টয়লেটে দুর্গন্ধও হয়। তাদের মতে, নতুন ভবন ও পর্যাপ্ত টয়লেট হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমবে।
তবে সব বিদ্যালয়ের সমস্যা একই নয়। পৌরসভার কিছু কিছু স্থানে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টয়লেটগুলো তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন থাকলেও সেখানে মূল সমস্যা সংখ্যা ঘাটতি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য এই অল্পসংখ্যক টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিদিন চাপ তৈরি হচ্ছে।
রাক সাফূল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ মিয়া জানান, ৩৮৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে ৩টি টয়লেট রয়েছে, যার মধ্যে ছেলেদের জন্য ১টি ও মেয়েদের জন্য ২টি। টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় বর্তমানে সংস্কার করে ব্যবহৃত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে টয়লেট ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা হয় এবং মা সমাবেশের মাধ্যমে অভিভাবকদেরও সচেতন করা হচ্ছে।
দুটি বিদ্যালয়ের চিত্রে সমস্যার ধরন আলাদা হলেও মূল সংকটটি একই—শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একটিতে রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, অন্যটিতে শিক্ষার্থীর তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা কম। এর বাইরে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
অভিভাবকরা বলছেন, শিশুদের শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিভাবক ওয়াসিম, সবুজ ও মমিনের মতে, শুধু টয়লেট নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি ও সাবানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার মতে, শিক্ষার্থীর তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা কম—এটি সত্য। কিছু বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৫টি বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবনের আবেদন করা হয়েছে। নতুন ভবন হলে টয়লেটসহ অবকাঠামোগত কিছু সমস্যার সমাধান হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘স্বদেশ’ সিনেমায় গীতার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন গায়েত্রী জোশি। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি ছিল তার বলিউডে অভিষেক। তবে সেই সিনেমার পর তাকে আর অভিনয়ে দেখা যায়নি। ২০০৫ সালে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী বিকাশ ওবেরয়কে বিয়ে করে গায়েত্রী বলিউড থেকে সরে যান। বর্তমানে তিনি স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মুম্বাইয়ে পারিবারিক জীবন কাটানোর পাশাপাশি ডিজাইন সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
‘স্বদেশ’ দিয়েই অভিনয়ে পরিচিতি
বলিউডে আসার আগে গায়েত্রী জোশি মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে চ্যানেল ভি-এর ভিডিও জকি (ভিজে) হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ২০০০ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। একই বছর তিনি মিস ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্বও করেন।
এরপর ২০০৪ সালে আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত ‘স্বদেশ’ সিনেমায় শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পান গায়েত্রী। সিনেমায় তার চরিত্রের নাম ছিল গীতা, যিনি একজন স্কুলশিক্ষক। অন্যদিকে শাহরুখ খান অভিনয় করেন নাসার বিজ্ঞানী মোহান ভার্গবার চরিত্রে।
‘স্বদেশ’ মুক্তির পর গায়েত্রীর অভিনয় প্রশংসিত হয়। তবে সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত তার অভিনয়জীবনের শুরু ও শেষ হয়ে যায়।
কেন বলিউড ছাড়লেন?
‘স্বদেশ’-এর পর গায়েত্রী বেশ কিছু চিত্রনাট্য শুনেছিলেন। পরবর্তী সিনেমা নিয়ে তার আগ্রহও ছিল। তবে বিয়ের পর তার অগ্রাধিকার বদলে যায়।
২০১৯ সালে ‘বলিউড হাঙ্গামা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গায়ত্রী বলেছিলেন, বিয়ের পর তিনি চাইলে অভিনয় চালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজের বিয়ে ও পরিবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গায়েত্রীর বক্তব্য ছিল, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে মনোযোগ ভাগ করতে চাননি তিনি। বিয়ে ও সন্তানদের জন্য পুরোপুরি সময় দেওয়াকেই তখন অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেন।
‘স্বদেশ’কে তিনি নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন। অল্প সময়ের অভিনয়জীবন নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানিয়েছিলেন।
স্বামী ভারতের ৫৯তম ধনী
গায়েত্রীকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে তার স্বামী বিকাশ ওবেরয়ের সম্পদের কারণে। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬ অনুযায়ী, বিকাশ ওবেরয়ের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৪৮ হাজার ১০০ কোটি রুপি। এই সম্পদ নিয়ে ভারতের ধনীদের তালিকায় তার অবস্থান ৫৯তম।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মাধ্যমে বিকাশ ওবেরয় তার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তিনি মুম্বাইভিত্তিক ওবেরয় রিয়েলটির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের তালিকায় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার ৯৬০ কোটি রুপি এবং অবস্থান ছিল ৫৮তম।
দুই সন্তানকে নিয়ে পারিবারিক জীবন
বিয়ের পর গায়েত্রী ও বিকাশের সংসারে দুই ছেলে—ভিহান ও যুবান। বলিউড থেকে দূরে থেকে সন্তানদের বড় করা ও পরিবারকে সময় দেওয়াতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন গায়ত্রী।
২০১৯ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তার দুই ছেলেই ‘স্বদেশ’ সিনেমাটি দেখেছে। মায়ের অভিনীত সিনেমাটির প্রতি তাদেরও ভালো লাগা রয়েছে।
জুহুতে বিলাসবহুল বাড়ি
বর্তমানে গায়েত্রী ও বিকাশ মুম্বাইয়ের জুহুতে তাদের নতুন বাড়িতে থাকেন। প্রায় ৭৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের নয়তলা বাড়িটির নকশা করেছেন ইতালীয় স্থপতি ও ডিজাইনার পিয়েরো লিসোনি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট ইন্ডিয়া’য় বাড়িটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাড়িটিতে রয়েছে দুটি বেসমেন্ট, জিম ও স্পা, ১২ আসনের ব্যক্তিগত সিনেমা হল, অতিথি আপ্যায়নের জন্য বড় পরিসর এবং পরিবারের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত জায়গা।
এ ছাড়া ছাদে রয়েছে ইনফিনিটি পুল, যেখান থেকে আরব সাগরের দৃশ্য দেখা যায়। বাড়ির বিভিন্ন অংশে এম এফ হুসেন, রবীন্দ্র রেড্ডি ও মনজিৎ বাওয়ার মতো শিল্পীর শিল্পকর্মও রয়েছে।
গায়েত্রী জানিয়েছেন, বাড়িটিকে অনেকটা বুটিক হোটেলের মতো করে সাজানোর পরিকল্পনা ছিল বিকাশের। শুরুতে বিষয়টি তার পছন্দ না হলেও পরে বাড়িটির ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় তুলনাটি যথাযথ মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।
এখন কী করছেন গায়েত্রী?
বলিউড থেকে সরে যাওয়ার পর গায়েত্রী খুব একটা প্রকাশ্যে আসেন না। পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি ডিজাইন সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। ‘আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদনে তাকে ওবেরয় রিয়েলটির ডিজাইন কিউরেটর হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি সিনেমায় অভিনয় করে বলিউড থেকে বিদায় নিলেও ‘স্বদেশ’-এর গীতা চরিত্রকে গায়েত্রী জোশিকে এখনও মনে রেখেছেন দর্শকরা। শাহরুখ খানের বিপরীতে তার সেই অভিনয় সিনেমাপ্রেমীদের কাছে দুই দশকেরও বেশি সময় পরও পরিচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ৪ নম্বর গৈলা ইউনিয়নের সেরাল চৌরাস্তা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কুমারীয়ারপিঠ গ্রামের আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে মো. মেহেদী হাসান সজল (৩৪) এবং ঝালকাঠীর রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠী ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মোসলেম খানের ছেলে মো. রাশেদ খান (৩৩)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগৈলঝাড়া থানাধীন ৪ নম্বর গৈলা ইউনিয়নের সেরাল চৌরাস্তা এলাকায় জনৈক হাবিবুলের দোকানের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা** উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশাল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।** একই সঙ্গে মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পুলিশকে জানিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাদকবিরোধী তথ্য দিতে হটলাইন: ০১৩২০-১৬২০৯
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ রবিবার দুপুরে উপজেলার বিষখালী নদী তীরবর্তী দৃষ্টিনন্দন ও ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পর্যটনকেন্দ্র ছৈলার চর চত্বরে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে উৎসবমুখর পরিবেশে রঙ-বেরঙের বেলুন উড়িয়ে দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. মমিন উদ্দিন। ছৈলার চরের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. মমিন উদ্দিন। তিনি তার বক্তব্যে ঝালকাঠির পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন।
জেলা প্রশাসক এর বক্তব্যে বলেন: প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন "বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল লক্ষ্যই হলো ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের মাধ্যমে পর্যটন খাতকে নতুন রূপ দেওয়া। আমাদের ঝালকাঠির পর্যটনকেও এই আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে হবে। "ডিজিটাল প্রচার ও ব্র্যান্ডিং: ছৈলারচরের মতো চমৎকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে আমাদের ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডিং করতে হবে। "নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন: "এখানে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো আমাদের প্রধান দায়িত্ব। ছৈলারচরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, লেক সংস্কার ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। "অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: "ঝালকাঠির এই পর্যটন সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, যা আমাদের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মো. মকবুল হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে ছৈলার চরের প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ছৈলা গাছের বন ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে একে একটি পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় প্রশাসনের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে একটি বর্ণিল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ছৈলার চরের মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই মূল আলোচনা সভাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৫ টাকা। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। তবে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে বলে দেখা গেছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) হিলি বাজারে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ৪৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৩৫ টাকা। এই হিসাবে, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১০ টাকা।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা নুরুল ইসলাম জানান, ‘গত কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া ও বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকেরা বাজারে পেঁয়াজ কম আনছেন। এর ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় মোকামে দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে মোকামে প্রতি মণ পেঁয়াজ এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে এক হাজার ৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচও বেড়েছে। অন্যদিকে মোকামে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। আবহাওয়া ভালো হলে কৃষকেরা বাজারে পেঁয়াজ বেশি সরবরাহ করবেন।’ তখন সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে নিম্নআয়ের মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম বাড়তি থাকায় তাদের সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন জানান, ‘জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা কোন পণ্য কত দামে কিনছেন, তা ক্রয় রসিদের মাধ্যমে যাচাইয়ের পাশাপাশি বিক্রয়মূল্যও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদি কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ