০৯:২০ এম
সৌদি আরবের মক্কায় গোপনে প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর শুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, তাদের না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় জনগণ উভয় দেশের সরকারের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার এবং রাষ্ট্রীয় খরচে নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ওয়াশিংটন ডিসিতে রাবি অ্যালামনাইয়ের পক্ষ থেকে ড. মেহেদীকে ফুলেল শুভেচ্ছা
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান বিরামপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছিরের বড় ছেলে নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
সৌদি আরবে পৌঁছানোর ৬ মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক যুবতীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে পুলিশ নজরুল ও সুইটিকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ ৩ বছর ৩ মাস কারাবন্দী থাকার পর গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি সরকার তাদের দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতেন নজরুল। তবে গত বুধবার কোনো পূর্বঘোষণা বা স্বজনদের অবগত না করেই তার ওপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে বিরামপুরে থাকা স্বজনেরা নজরুলের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন।
নজরুলের মা রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের না জানিয়ে এবং আমার ছেলেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।"
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বৈঠক মঙ্গলবার
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা আব্দুল বাছির। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে একমাত্র আল্লাহই জানেন। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।"
ভাইপোর মৃত্যুর খবর শুনে বুধবার রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের আপন ফুফু আবেদা বেগম।
নজরুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় বাড়ছে। গ্রামবাসী জানান, সৌদি আরব সরকার বিভিন্ন নীতিতে শিথিলতা আনলেও বিচার প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন কট্টর সিদ্ধান্ত গ্রহণ হতাশাজনক। তারা দরিদ্র এই কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দুই দেশের সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান।
আরও পড়ুন: শীর্ষ ধনীদের দলে থাকতে ১৮ লাখ ডলার লাগবে, সামনে এলো নতুন হিসাব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন