সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:১৫ পি.এম
ধনী পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হলে একটি পরিবারের নিট সম্পদের পরিমাণ অন্তত ১৮ লাখ ডলার হতে হবে। এই তথ্য ভিসার (Visa) একটি বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান সম্পদের মূল্য, বাড়ি ও শেয়ারবাজারের উত্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় এই সীমাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তবে শুধুমাত্র সম্পদের পরিমাণই নয়, পরিবারের বার্ষিক আয় এবং বসবাসের অঞ্চলও আর্থিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভিসার বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার নতুন মানুষ কোটিপতির তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বাড়ি ও শেয়ারের মতো সম্পদের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মানুষের মোট সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পূর্বে যে পরিমাণ সম্পদকে আর্থিক সচ্ছলতার বড় মাপকাঠি হিসেবে ধরা হতো, এখন তার চেয়ে বেশি সম্পদ প্রয়োজন হচ্ছে। ভিসার হিসাবে, জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে হলে নিট সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ১৮ লাখ ডলার হতে হবে। তবে অঞ্চলভেদে এই সীমা ভিন্ন হতে পারে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে নিট সম্পদের প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ ডলার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই সীমা ১৯ লাখ ডলার, দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ লাখ ডলার এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ১৭ লাখ ডলার। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের মূল্য এবং সম্পদের বাজারদরের পার্থক্যের কারণে অঞ্চলভেদে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, একই পরিমাণ সম্পদ নিয়ে একটি পরিবার যদি কোনো অঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশে থাকে, তবে অন্য অঞ্চলে একই অবস্থানে নাও থাকতে পারে।
নিট সম্পদ বলতে বোঝায়, কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের মোট সম্পদ থেকে সব ধরনের দায়দেনা বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থমূল্য। এর মধ্যে বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংকে থাকা অর্থ, বিনিয়োগ, অবসরকালীন সঞ্চয় এবং স্বর্ণ বা মূল্যবান সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর মতো সম্পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, বাড়ি বা গাড়ির ঋণ, শিক্ষাঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া এবং অন্যান্য ঋণ দায়দেনার মধ্যে পড়ে। তাই শুধুমাত্র আয় বা ব্যাংকে জমা অর্থ দিয়ে কারও মোট সম্পদের অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। সম্পদের বর্তমান মূল্য ও মোট ঋণের হিসাব একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের ব্যয়ের ধরন অন্যান্য পরিবারের তুলনায় ভিন্ন। পোশাক, বিমানে ভ্রমণ এবং হোটেলে থাকার মতো খাতে তাদের ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে বেশি সম্পদ থাকা মানেই সব পরিবার একইভাবে অর্থ ব্যয় করে, এমন নয়। পরিবারের আয়, বয়স, বসবাসের স্থান এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনও ব্যয়ের ধরনকে প্রভাবিত করে। ভিসার বিশ্লেষণে আর্থিক সচ্ছলতা বোঝার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সম্পদের পরিমাণ নয়, ভৌগোলিক অবস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয়কেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের ২০২৬ সালের বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারের গড় নিট সম্পদ প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। তবে গড় সম্পদ এবং শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের সীমা এক বিষয় নয়। অল্পসংখ্যক অত্যন্ত ধনী পরিবারের বিপুল সম্পদও জাতীয় গড়কে বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে গড় পরিবারের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে শীর্ষ ধনীদের সম্পদের ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
নিট সম্পদ বাড়ানোর জন্য আর্থিক পরিকল্পনা, জরুরি প্রয়োজনে সঞ্চয়, উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। ফিডেলিটির মতে, নিয়মিত সঞ্চয়, ঋণ কমানো এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বিনিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন আয়স্তরের মানুষই ইতিবাচক নিট সম্পদ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারেন। তবে ১৮ লাখ ডলারের সীমাটি ভিসার বিশ্লেষণভিত্তিক মানদণ্ড; সম্পদের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ শতাংশে অবস্থানের হিসাব জরিপ ও তথ্যের সময়কাল অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়।
এই ৭ নেতা হলেন- আমির হোসেন আমু, দীপু মনি, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, আবদুর রাজ্জাক, মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হামলা ও উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণ। তাদের বিরুদ্ধে এসব অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এছাড়া অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতা, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত না করা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রসিকিউশনের যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদনটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এরপর অভিযোগ আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠনসহ বিচার শুরুর বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।
৭ আসামিই আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। দলের নীতিনির্ধারণেও তাদের ভূমিকা ছিল। তাদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান ও মির্জা আজমের বিরুদ্ধেও ট্রাইব্যুনালে প্রথমবারের মতো বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেনিয়ায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে ফেরার সময় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৪ জন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় নাইরোবি-মোম্বাসা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। যাত্রীরা স্থানীয় একটি গির্জার যাজকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পর মোম্বাসায় ফিরছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ট্রাক পেছন থেকে বাসটিকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ভুলভাবে অন্য গাড়িকে অতিক্রম করার চেষ্টা করা হতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মহাসড়কটির একই স্থানে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে একটি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছিলেন। কেনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতি এবং সড়কের বেহাল অবস্থাকে বিবেচনা করা হয়। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন দুই আওয়ামীপন্থি আইনজীবী।
এই দুই আইনজীবী হলেন হাসানুজ্জামান তুষার ও হাসান চৌধুরী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে তারা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন।
শুনানি শেষে আদালত অবমাননার বিষয়টি কতটুকু গুরুতর তা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে, শুনানির প্রেক্ষাপটে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-২ এর সব মামলার শুনানি বাতিল করা হয়েছে। আওয়ামী আইনজীবীদের মামলা ছাড়া অন্যদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু একজন বিচারক অসুস্থ থাকায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। সেদিনও অভিযুক্ত আইনজীবীরা, হাসানুজ্জামান তুষার ও হাসান চৌধুরী, আদালত অবমাননার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে আসেন। নিরাপত্তার কারণে তাদের সাথে আসা আরও কয়েকজন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এর আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাতসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করার কারণে ১৬ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে।
প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হতে পারে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার শ্রীপুরে হানু নদীর ওপর নির্মিত সাঁকো ভেঙে পড়ার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছেন। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার ফলে যেখানে পারাপারে সময় লাগত মাত্র ১ মিনিট, সেখানে এখন অতিরিক্ত ৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে।
এটি জানা গেছে যে, শ্রীপুর উপজেলার নৌহাটা গ্রামের সঙ্গে কাদিরপাড়া গ্রামের সংযোগকারী এই সাঁকোটি ছিল। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সাঁকোর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতেন। স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে প্রতি এক-দুই বছর পরপর সেখানে একটি নতুন সাঁকো নির্মাণ করা হতো, যাতে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া, কাদিরপাড়া ও নৌহাটার মাঠ থেকে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও সাঁকোটির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
সম্প্রতি, হানু নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গিয়ে একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে সব শ্রেণীর মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। কর্মস্থলে যথাসময়ে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে এবং যাতায়াত বাবদ আর্থিক খরচও অনেক বেড়ে গেছে।
দুর্ভোগ নিরসনের জন্য নদীটির ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় হস্তক্ষেপ ও নজর দাবি করছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব খান জানিয়েছেন, সাঁকোটি দ্রুত পুনরায় নির্মাণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ