ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাত্র ১৫ মাসে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন, হবিগঞ্জের শিক্ষার্থীর অনন্য কৃতিত্ব


মাত্র ১৫ মাসে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন, হবিগঞ্জের শিক্ষার্থীর অনন্য কৃতিত্ব

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও, সুঘর এলাকায় অবস্থিত নূরে মোহাম্মদীয়া (সা.) হোসাইনিয়া সুন্নীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী মাত্র ১৫ মাসে পবিত্র কুরআনুল কারিম সম্পূর্ণ হিফজ করে অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
এই কৃতিত্বের অধিকারী মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান হিফজু। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ফকিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতা মো. আজিজুর রহমান এবং মাতা মোছা. আফিয়া বেগম।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের দোয়ার বরকতেই হাফিজুর রহমান এই গৌরবময় সাফল্য অর্জন করেছেন। তারা মনে করেন, এটি শুধু মাদ্রাসার নয়, পুরো হবিগঞ্জ জেলার জন্যই একটি গর্বের অর্জন।
মাদ্রাসার পরিচালক হাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহমান তৈয়ব আলী এবং প্রধান শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ কাজী তামিম হোসেন রাব্বী বলেন, শিক্ষার্থীদের কুরআনের শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্র গঠনে প্রতিষ্ঠানটিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল পরিবেশে পাঠদান করায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও সঠিকভাবে কুরআন শিক্ষা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে।
তারা আরও জানান, মাদ্রাসায় শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের পরিবর্তে স্নেহ-মমতা ও সহজ-সরল শিক্ষাদান পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তাদের লক্ষ্য শুধু হাফেজ বা আলেম তৈরি করা নয়; বরং কুরআনের আলোয় আদর্শ, চরিত্রবান ও দ্বীনদার মানুষ গড়ে তোলা।
মাদ্রাসার ঠিকানা: বনগাঁও, সুঘর, হবিগঞ্জ সদর।
লোকেশন: ধুলিয়াখাল–মিরপুর সড়ক, বৈদ্যার বাজার সংলগ্ন, তুই ত্বলা ভবন।
যোগাযোগ: ০১৭৬৩-৪০৬৯৪৪, ০১৮০৫-০৪৬৬১৮।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মান্দায় শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩২ এম


মান্দায় শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ

নওগাঁর মান্দায় শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কারণ ছাড়াই একাধিক শিক্ষার্থীকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন। এই বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ঘটনাটি আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বিলবয়রা গয়েশিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে ঘটে।

সংবাদ পেয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজমসহ ইউপি সদস্যদের মধ্যস্থতায় প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে অবরুদ্ধ অবস্থার থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিভিন্ন পদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে অন্তত অর্ধকোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষগুলো জরাজীর্ণ হলেও সেগুলোর সংস্কার করা হয়নি। ছাউনির টিনগুলো ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানিতে শিক্ষার্থীদের বই-খাত ভিজে একাকার হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দরজা জানালা না থাকায় সন্ধ্যার পর শ্রেণি কক্ষগুলোতে মাদকের আড্ডা বসে। প্রতিনিয়ত মাদকসেবীরা চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চে পায়খানা করায় পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে যায় শ্রেণি কক্ষের পরিবেশ। প্রধান শিক্ষক এসবের ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণি কক্ষগুলো নোংরা থাকায় সেখানে বসে পাঠদান নেওয়া দুরুহ হয়ে পড়েছে। এসবের প্রতিবাদ করায় গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণ কুমার ও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজেদুল ইসলামকে মারধর করেন প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান। মঙ্গলবারও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন ও আব্দুল্লাহকে মারধর করা হয়। এতে আব্দুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী জানায়, ‘প্রধান শিক্ষক আমাদের অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেসব ভাষা বলা যাবে না। এছাড়া কারণ ছাড়াই আমাদের মারধর করেন তিনি। আজও রিফাত ও আব্দুল্লাহকে মারধর করা হয়েছে। এসব কারণে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।’

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক মাঝেমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এসব কারণে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাড়পত্র নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন তিনি। প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শ্রেণি কক্ষের সুন্দর পরিবেশের দাবি তোলায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দুরত্বের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি।’

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাধবপুরে জশনে জুলুস ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ এম


মাধবপুরে জশনে জুলুস ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা দরবার শরীফের পীর আলহাজ্ব সৈয়দ জিয়াউল কামাল (জাকারিয়া) সাহেব-এর নেতৃত্বে আসন্ন জশনে জুলুস ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উদযাপন এবং মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় এজহারিয়া ইউনুসিয়া ইউসুফিয়া জাকারিয়া সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সারা বাংলার আলোচিত ইসলামী বক্তা, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফান্দাউক দরবার শরীফের শাহজাদা সৈয়দ আবু বক্কর সিদ্দিক, গুনিয়ার দরবার শরীফের গদ্দীনশীন সৈয়দ আব্দুল আউয়াল বুলবুল চিশতী, সৈয়দ সাদী চিশতী এবং তরুণ ইসলামী বক্তা ক্বারী মিজানুর রহমান আজিজী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতৃবৃন্দ, পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক ছোট্ট মিয়া, ছাত্রসেনা, যুবসেনা, বিভিন্ন দরবার শরীফের আশেকান-ভক্তবৃন্দ এবং এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, "সবার আগে ঈমান, সবার আগে নবী (সা.)।" তারা বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়াতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন। তাঁর শুভ আগমন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত ও অনুগ্রহ। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ, তাঁর আদর্শ অনুসরণ এবং জশনে জুলুসে অংশগ্রহণ ঈমানি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
বক্তারা আরও বলেন, "যেখানে নবীর ভালোবাসা, সেখানেই ঈমানের পূর্ণতা।" তারা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর শিক্ষা আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে আগামী জশনে জুলুসে সর্বস্তরের ঈমানদার জনতাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং জশনে জুলুস ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সফলভাবে উদযাপনের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ এম


ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় অবস্থিত ভ্যানিটি ব্যাগ তৈরির কারখানার শ্রমিকরা প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস কোম্পানির বিভিন্ন দাবিতে একত্রিত হন এবং ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিকদের এ কর্মসূচি চলাকালীন সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। ৪-৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ঘটনাস্থলে যান ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেড থেকে অনিয়ম দূর করা, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, অকারণে শ্রমিক ছাটাই বন্ধ করা এবং শ্রম আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

দাবিগুলোর বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির ফ্যাক্টরির সামনে অবস্থান নেয়। তারা একত্রিত হয়ে ব্যস্ততম ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে তাদের বিক্ষোভ চালাতে থাকে। এর ফলে সড়কের উভয় পাশে মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন ধরনের শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। পাবনা-ঈশ্বরদী, ঈশ্বরদী-রাজশাহী, পাবনা-কুষ্টিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ৪-৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

এ দিকে, ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, থানার ওসি, এবং বিএনপি নেতা প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে কোম্পানির কর্মকর্তাদের এবং কয়েকজন শ্রমিক নেতার মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এক সপ্তাহের জন্য কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। দাবির বিষয়টি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পাবার পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

শ্রমিক আন্দোলনের সমন্বয়ক নাজমুল হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিতে কাজ করলেও বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। ছুটির দিনেও কাজ করতে হয় এবং যেকোনো কারণে শ্রমিকদের ছাটাই করেন কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, ‘কোম্পানির দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তা আজকের এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকল অনিয়ম বন্ধ, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এক সপ্তাহ কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু ঠিক করে আমাদের জানাবেন। আমাদের অনুরোধ হওয়া অনুযায়ী দাবি মানা হলে আমরা আবার কাজে ফিরবো। তা না হলে আমাদের আন্দোলন আরও আন্দোলিত হবে।’

জানা যায়, প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস কোম্পানিতে এক হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যেখানে বেশির ভাগ শ্রমিক নারীরা। কোম্পানিটির কারখানায় ভ্যানিটি ব্যাগ তৈরি করা হয়।

প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেডের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) জাকির হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহ কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে এবং এর মধ্যে আলোচনা করে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করার পর শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করলে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। তবে কোম্পানির কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেন এবং তারা অবরোধ তুলে নেন। এরপর সড়কে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লুটপাটের অভিযোগে চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪১ এম


লুটপাটের অভিযোগে চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, কয়েকজন সদস্য ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলে তারা দ্রুত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণের পাশাপাশি প্রশাসক নিয়োগ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে, ঠিক ১১টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মান্ডইল এলাকায় এ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও কাজের অনিয়মের প্রতিবাদে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নেন শতাধিক নারী-পুরুষ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ হলো, প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের বিশেষ বরাদ্দে প্রায় দেড় কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাদের মতামত হচ্ছে, মাত্র ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার নামমাত্র কাজ করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ তুলে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান টিটু পরিষদের কয়েকজন সদস্য ও কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ড্রেন, কালভার্ট, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ কাজ না করেই উত্তোলন করছেন। তারা একইসঙ্গে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও অনিয়ম এবং সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তোলেন। বক্তাদের দাবি হচ্ছে, এসব অনিয়মের ফলে সরকারি উন্নয়নের সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেছেন, তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং যাদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তাদের কেউ কেউ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করলেন। আন্দোলনকারীরা সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু না হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান টিটু। তিনি জানান, খাল খনন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।

এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, তিনি মাত্র দুই মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এবার তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পগুলোর আর্থিক নিরীক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ভর করবে প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর। এখন সেই তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন গোদাগাড়ীবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%