শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩৬ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরাইলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ভ্যানিটি ফেয়ার-এর একটি প্রতিবেদনে এ ধরনের দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের আইফোনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এসব লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
অভিযোগ করা হয়েছে যে, ট্রাম্পের মাধ্যমে এসব দেশের স্বার্থ হাসিলের বিনিময়ে এই লেনদেনগুলো সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাত সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছিল, যেখানে কুশনার স্বাক্ষরকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং আমিরাতের নেতাদের উদ্যোগে কুশনারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি হিসাবে অন্তত ২০০ কোটি ডলার জমা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কথিত লেনদেনের বিষয়ে কুশনারকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কুশনার অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, প্রতিবেদনে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের নথি কিংবা লেনদেনের তারিখের মতো কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তার আইনজীবী চ্যাড মিজেলও অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘সব ধরনের বিকল্পই বিবেচনায় রয়েছে।’
সূত্র: এনডিটিভি
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটটি গত ২০ অক্টোবর দাখিল করা হয়।
শুক্রবার সকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ার কারণে অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এই মামলায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ, কামরুল হাসান এবং সিয়ামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চারজন মিলে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিল; তবে তাদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুহিন অপ্রতিমকে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায়। সেখানে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, এতে অপ্রতিমের মৃত্যু ঘটে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃতদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাইয়ের কথা তদন্তের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) অভিযান পরিচালনা করে ৪৭৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই সময়কালে ৩৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানের ফলে উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা, পাশাপাশি একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য জানান।
ডিএমপি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ থেকে সর্বাধিক ১৬১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগে ৮৫ জন, গুলশান বিভাগে ৫২ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৬ জন, মতিঝিল বিভাগে ৩৬ জন, ওয়ারী বিভাগে ৩৫ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৪ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
অভিযানের সময় পুলিশ ৪৩৬ পিস ইয়াবা, চার বোতল বিদেশি মদ, সাতটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৬ হাজার ৫৫০ টাকা উদ্ধার করে। এই সময় একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে, বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় বিষাক্ত মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া যুবকেরা হলেন শ্রীপুর উপজেলার মকর দমখোলা গ্রামের আজম লস্করের ছেলে আলমগীর লস্কর এবং গয়েশপুর ইউনিয়নের মালদা গ্রামের বিনোদ বিশ্বাসের ছেলে বিধান বিশ্বাস (২৮)।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামের সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে বিজয়া দশমীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে অ্যালকোহলযুক্ত মদপান করেন আলমগীর ও বিধান। মদপানের পর তারা দুজনেই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
প্রথমে তাদের বন্ধুরা আলমগীরকে অসুস্থ অবস্থায় তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিবারের সদস্যরা ভোররাতে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, বিধান বিশ্বাস গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ভোরে তার স্বজনরা তাকেও মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু ঘটে।
বিধান বিশ্বাসের কাকিমা সুপ্রিয়া সাহা বলেন, ‘দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর রাতে বিধান বন্ধুদের সঙ্গে মদপান করেছিল। এরপর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ভোররাতে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। একই ঘটনায় তার বন্ধু আলমগীরকেও হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।’
মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ইমরান হোসেন জানান, ‘হাসপাতালে দুই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। তবে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলী মিয়া জানান, বিষাক্ত বা অতিরিক্ত মদপানে দুই যুবকের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিশুসন্তানসহ ভারত থেকে পালিয়ে যাওয়া এক রুশ নাগরিকের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লির সাকেত আদালতকে এই তথ্য জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ আদালতে একটি অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট (এটিআর) জমা দিয়েছে, যা ভারতীয় এক নাগরিককে বিয়ে করা ওই রুশ নারীর বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়বস্তু।
দিল্লি পুলিশ জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোয় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে ওই রুশ নাগরিক ভিক্টোরিয়া বসুর প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
২০১৭ সালে সৈকত বসুর সঙ্গে ভিক্টোরিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সন্তান ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করে। এই দম্পতির সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে ২০২৫ সালে ডিফেন্স কলোনি থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সৈকতকে অবহিত না করেই ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ ভিক্টোরিয়া তার মাকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান এবং সন্তানকে ফেলে দেন। পরবর্তীতে তিনি ওই সন্তানের একচ্ছত্র অভিভাবকত্ব চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।
পুলিশ আদালতের কাছে আরও কিছুটা সময় চেয়ে জানিয়েছে, সৈকতের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলার মূল অভিযুক্ত ভিক্টোরিয়া বসুকে খুঁজে বের করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মস্কোর ভারতীয় দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া, মূল অভিযুক্ত ভিক্টোরিয়া বসুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের একটি রেড কর্নার নোটিশও জারি করা হয়েছে।
পুলিশ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অভিযোগকারীর জমা দেওয়া নথিপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ