০১:৩৮ এম
পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় অবস্থিত ভ্যানিটি ব্যাগ তৈরির কারখানার শ্রমিকরা প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস কোম্পানির বিভিন্ন দাবিতে একত্রিত হন এবং ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিকদের এ কর্মসূচি চলাকালীন সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। ৪-৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঘটনাস্থলে যান ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন।
আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে খড়বোঝাই গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড
শ্রমিকদের দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেড থেকে অনিয়ম দূর করা, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, অকারণে শ্রমিক ছাটাই বন্ধ করা এবং শ্রম আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
দাবিগুলোর বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির ফ্যাক্টরির সামনে অবস্থান নেয়। তারা একত্রিত হয়ে ব্যস্ততম ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে তাদের বিক্ষোভ চালাতে থাকে। এর ফলে সড়কের উভয় পাশে মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন ধরনের শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। পাবনা-ঈশ্বরদী, ঈশ্বরদী-রাজশাহী, পাবনা-কুষ্টিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ৪-৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
এ দিকে, ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, থানার ওসি, এবং বিএনপি নেতা প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে কোম্পানির কর্মকর্তাদের এবং কয়েকজন শ্রমিক নেতার মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এক সপ্তাহের জন্য কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। দাবির বিষয়টি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পাবার পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
শ্রমিক আন্দোলনের সমন্বয়ক নাজমুল হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিতে কাজ করলেও বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। ছুটির দিনেও কাজ করতে হয় এবং যেকোনো কারণে শ্রমিকদের ছাটাই করেন কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, ‘কোম্পানির দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তা আজকের এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।’
আরও পড়ুন: খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে একই স্থানে ২ দুর্ঘটনায় ৫ প্রাণহানি
তিনি আরও বলেন, ‘সকল অনিয়ম বন্ধ, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এক সপ্তাহ কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু ঠিক করে আমাদের জানাবেন। আমাদের অনুরোধ হওয়া অনুযায়ী দাবি মানা হলে আমরা আবার কাজে ফিরবো। তা না হলে আমাদের আন্দোলন আরও আন্দোলিত হবে।’
জানা যায়, প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস কোম্পানিতে এক হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যেখানে বেশির ভাগ শ্রমিক নারীরা। কোম্পানিটির কারখানায় ভ্যানিটি ব্যাগ তৈরি করা হয়।
প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেডের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) জাকির হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহ কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে এবং এর মধ্যে আলোচনা করে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করার পর শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করলে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। তবে কোম্পানির কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেন এবং তারা অবরোধ তুলে নেন। এরপর সড়কে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।
আরও পড়ুন: মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবক মো. রায়হান নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন