ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ


ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় অবস্থিত ভ্যানিটি ব্যাগ তৈরির কারখানার শ্রমিকরা প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস কোম্পানির বিভিন্ন দাবিতে একত্রিত হন এবং ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিকদের এ কর্মসূচি চলাকালীন সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। ৪-৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ঘটনাস্থলে যান ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন।

আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে খড়বোঝাই গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেড থেকে অনিয়ম দূর করা, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, অকারণে শ্রমিক ছাটাই বন্ধ করা এবং শ্রম আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

দাবিগুলোর বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির ফ্যাক্টরির সামনে অবস্থান নেয়। তারা একত্রিত হয়ে ব্যস্ততম ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে তাদের বিক্ষোভ চালাতে থাকে। এর ফলে সড়কের উভয় পাশে মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন ধরনের শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। পাবনা-ঈশ্বরদী, ঈশ্বরদী-রাজশাহী, পাবনা-কুষ্টিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ৪-৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

এ দিকে, ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, থানার ওসি, এবং বিএনপি নেতা প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে কোম্পানির কর্মকর্তাদের এবং কয়েকজন শ্রমিক নেতার মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এক সপ্তাহের জন্য কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। দাবির বিষয়টি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পাবার পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

শ্রমিক আন্দোলনের সমন্বয়ক নাজমুল হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিতে কাজ করলেও বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। ছুটির দিনেও কাজ করতে হয় এবং যেকোনো কারণে শ্রমিকদের ছাটাই করেন কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, ‘কোম্পানির দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তা আজকের এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।’

আরও পড়ুন: খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে একই স্থানে ২ দুর্ঘটনায় ৫ প্রাণহানি

তিনি আরও বলেন, ‘সকল অনিয়ম বন্ধ, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এক সপ্তাহ কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু ঠিক করে আমাদের জানাবেন। আমাদের অনুরোধ হওয়া অনুযায়ী দাবি মানা হলে আমরা আবার কাজে ফিরবো। তা না হলে আমাদের আন্দোলন আরও আন্দোলিত হবে।’

জানা যায়, প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস কোম্পানিতে এক হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যেখানে বেশির ভাগ শ্রমিক নারীরা। কোম্পানিটির কারখানায় ভ্যানিটি ব্যাগ তৈরি করা হয়।

প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেডের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) জাকির হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহ কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে এবং এর মধ্যে আলোচনা করে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করার পর শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করলে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। তবে কোম্পানির কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেন এবং তারা অবরোধ তুলে নেন। এরপর সড়কে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।

আরও পড়ুন: মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবক মো. রায়হান নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লুটপাটের অভিযোগে চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪১ এম


লুটপাটের অভিযোগে চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, কয়েকজন সদস্য ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলে তারা দ্রুত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণের পাশাপাশি প্রশাসক নিয়োগ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে, ঠিক ১১টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মান্ডইল এলাকায় এ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও কাজের অনিয়মের প্রতিবাদে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নেন শতাধিক নারী-পুরুষ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ হলো, প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের বিশেষ বরাদ্দে প্রায় দেড় কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাদের মতামত হচ্ছে, মাত্র ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার নামমাত্র কাজ করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ তুলে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান টিটু পরিষদের কয়েকজন সদস্য ও কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ড্রেন, কালভার্ট, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ কাজ না করেই উত্তোলন করছেন। তারা একইসঙ্গে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও অনিয়ম এবং সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তোলেন। বক্তাদের দাবি হচ্ছে, এসব অনিয়মের ফলে সরকারি উন্নয়নের সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেছেন, তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং যাদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তাদের কেউ কেউ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করলেন। আন্দোলনকারীরা সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু না হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান টিটু। তিনি জানান, খাল খনন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।

এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, তিনি মাত্র দুই মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এবার তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পগুলোর আর্থিক নিরীক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ভর করবে প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর। এখন সেই তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন গোদাগাড়ীবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কতা: বরিশালে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অপরাধচক্রের নিশানায় সাংবাদিক আসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ এম


গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কতা: বরিশালে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অপরাধচক্রের নিশানায় সাংবাদিক আসলাম

বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চাঁদাবাজি, তেল সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে বরিশাল নগরীর পরেশ সাগর স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত মেলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ ছাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত নাক কাটা রুবেল, গাঁজা রফিক এবং চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্নকাঠি এলাকার সাবেক সদস্য কালাম মেম্বার ও তাঁর ভাতিজা ছাত্রলীগ নেতা শাওনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এখানেই শেষ নয়, বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড এলাকার কয়েকটি হোটেলে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে অপরাধভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম।

গত ৩ আগস্ট ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনি এলাকার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত গাঁজা রফিকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে মাছুদুর রহমান আসলামের দায়ের করা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা দ্রুত বিচার আইনের আওতায় অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর গাঁজা রফিকের স্ত্রী তনু বেগম মুঠোফোনে মাছুদুর রহমান আসলামকে গালিগালাজ করেন এবং অস্ত্র ও মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাছুদুর রহমান আসলাম বলেন, ‘আমার ধারণা, বিভিন্ন পক্ষ একত্রিত হয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে। আবার কোনো তৃতীয় পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অন্য কারও ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার কৌশলও নিতে পারে।’

এদিকে তালাশ বিডির সম্পাদক রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মাছুদুর রহমান আসলাম একজন সাহসী সংবাদকর্মী। তিনি সব সময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করেছেন। বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি অনেকের বিরাগভাজন হয়েছেন। তারপরও তিনি সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে এ ঘটনায় বরিশালের সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যারা দাঁত ভাঙা জবাব দিতে পারবে সেই নেতা নির্বাচন করুন: এড. মাসুদ খন্দকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


যারা দাঁত ভাঙা জবাব দিতে পারবে সেই নেতা নির্বাচন করুন: এড. মাসুদ খন্দকার

পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার ব্যক্ত করেছেন, যারা আ. লীগ ও জামায়াত-এনসিপিকে দাঁত ভাঙা জবাব দিতে পারবে, সেই নেতাকে নির্বাচিত করুন। তিনি সকলকে আবেদন করেছেন, দু’দিনের ভালো-মন্দ খাওয়া-দাওয়া এবং সামান্য কিছু টাকার লোভে আপনারা দয়া করে নিজেদের মূল্যবান ভোট বিক্রি করবেন না।

এটি সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি আরো যোগ করেছেন, আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সময় শেখ মুজিব বা আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিল না। স্বাধীনতার ঘটনাবলীর মাঝে সবাই ইন্ডিয়া পালিয়ে গিয়েছিল। সেই কঠিন সময়, দুঃসময়ে, অন্ধকার রাত্রিতে ছিলেন একজন নেতার উপস্থিতি, যিনি হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

এছাড়া, বিএনপি নেতা মাসুদ বলেন, আমরা শহীদ জিয়াউর রহমানের দল করি, এবং আপনারা করেন। বাংলাদেশের মাটিতে আপনাদের মতো গর্বিত সন্তান আর কোনো দলে নেই।

অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলন উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক।

ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আুব হেনা মোস্তফা কামাল রেজা, আলতাব হোসেন খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন রাজু প্রমুখ।

সর্বশেষ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক মোজাম সভাপতি, ওয়াজ উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক এবং সাইফুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি মানুষের ভাগ্যন্নয়নের জন্য কাজ করে : রূপসায় এমপি হেলাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ এম


বিএনপি মানুষের ভাগ্যন্নয়নের জন্য কাজ করে : রূপসায় এমপি হেলাল

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ‘তারেক রহমান সরকার জনগণের সরকার, তাই জনগণের স্বার্থে সব কাজ করে যাচ্ছেন।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘সমাজে শান্তি মানুষকে ধর্মের পথে ফিরতে শেখায়। মানুষের উন্নয়ন করতে গেলে মানুষকে শান্তি দিতে হবে, তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। আপনারা মানুষের নিরাপত্তা দিন, না হলে আপনাদের জবাবদিহিতা করতে হবে।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘রূপসার মানুষের কাছে কেন চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, কেন গুলিবিদ্ধ হচ্ছে, এর জবাবদিহিতা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি কখনও সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয় না। বিএনপি মানুষের ভাগ্যন্নয়নের জন্য কাজ করে, কিন্তু গুটি কয়েক সন্ত্রাসীর জন্য রূপসাকে অশান্ত করা কোনো রকম বরদাশত করা হবে না।’

এমপি হেলাল আরও বলেন, ‘মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন বাস্তবায়ন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, রূপসাকে আধুনিক, মডেল করে তোলা হবে। আপনারা ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমি সরকারি বরাদ্দ পেয়েছি, ভোট না দিলে তো পেতাম না, তাই বরাদ্দের টাকা জনগণের কাছে বুঝিয়ে দেবো ইনশাআল্লাহ।’

তিনি মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের তালিমপুর ফাতেমা তুজজোহরা মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথাগুলি বলেন।

সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি। অত্র মাদ্রাসার উপদেষ্টা শাহ আব্দুল হাই কচি’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা খাইরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য আনিছুর রহমান, রূপসা উপজেলা বিএনপি আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, রূপসা উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক।

এ-সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে, আতাউর রহমান রুনু, আশরাফুল আলম নান্নু, বিকাশ মিত্র, মো. ইলিয়াস শেখ, মহিউদ্দিন মিন্টু, দিদারুল ইসলাম, আনোয়ার খান, মমিনুর রহমান সাগর, ইয়ারুল ইসলাম রিপন, মো. আজিজুর রহমান, মীর ফিরোজ, আমিনুল ইসলাম তারেক, আসাদুজ্জামান বিপ্লব, এম এ বারি, আব্দুল ওয়াদুদ, বাবুল শেখ, এস এম মিজানুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন লিপন, রফিকুল ইসলাম বাবু, তরিকুল ইসলাম রিপন, শাহাজামান প্রিন্স, মেহেদী হাসান, মামুন শেখ, জাকির শেখ, মাহফুজুর রহমান এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলওয়াত করেন কারী মাওলানা মামুনুর রশীদ। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে আরও বলেন আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%