১০:৪৫ পি.এম
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের জন্য পানির সুব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে অবহেলিত বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য পানির ফিল্টার স্থাপন করা হলেও অধিকাংশ ফিল্টার কয়েক মাস ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সুপেয় পানির মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে কলেজ প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কবি নজরুল সরকারি কলেজে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে ফিল্টার স্থাপন করা থাকলেও তা কয়েক মাস ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। বি ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাঁধন কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একই চিত্র দেখা গেছে। অন্যদিকে, ‘এ’ ভবনের আয়তন বড় হলেও সেখানে মাত্র একটি ফিল্টার রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান রিডিং রুমের সামনেও ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে, তবে বেশির ভাগ সময় সেখানে পানি পাওয়া যায় না।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনের ফিল্টারটি অচল থাকায় সেখানে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কার্যকর ফিল্টার মাত্র তিনটি—সি ভবনের চতুর্থ তলায়, বি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এবং এ ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি করে রয়েছে। ফিল্টার অকেজো থাকায় সি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার শিক্ষার্থীদের পানি পান করতে চতুর্থ তলায় যেতে হয়। তবে সেখানেও অধিকাংশ সময় পানি পাওয়া যায় না। ফলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বোতলজাত পানি কিনে পান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
আরও পড়ুন: জবি ছাত্রদলের দাবি, সমাবর্তন ফি শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে
শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রশাসনের অবহেলার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শিবলু রিফাত বলেন, "সুস্থ থাকার জন্য নিরাপদ পানি শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার। অথচ তারা এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।" তিনি আরও বলেন, "বেশির ভাগ সময় পানি কিনে পান করতে হয়। শিক্ষার্থীদের এত বড় একটি সমস্যা থাকলেও কলেজ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনের কোনো চিন্তাই নেই।"
রসায়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, “আমাদের ‘এ’ ভবনের আয়তন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী অন্তত তিনটি ফিল্টার প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে মাত্র একটি ফিল্টার রয়েছে। আমাদের একটি পরীক্ষাগারে ব্যবহারিক পরীক্ষা করতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লাগে। এত দীর্ঘ সময় পরীক্ষার পর পানি পান করতে ভবনের অন্য পাশে যেতে হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী ফিল্টারের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।
লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতে আসা পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আহমেদ সিয়াম বলেন, "লাইব্রেরিতে পড়ার সময় পানির পিপাসা পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পানি পান করতে নিচতলায় রিডিং রুমের সামনে গেলেও বেশির ভাগ সময় পানি পাওয়া যায় না।" প্রশাসনের কাছে তার দাবি, লাইব্রেরিসহ প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে আরও একাধিক ফিল্টার স্থাপন করা হোক।
রিডিং রুমে পড়তে আসা রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুল হাসান বলেন, "রিডিং রুমের সামনে ফিল্টার থাকলেও বেশির ভাগ সময় পানি পাওয়া যায় না।" তিনি দ্রুত ফিল্টারটি সচল করার দাবি জানান।
আরও পড়ুন: পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি, ২০ লাখ বই সংশোধন হচ্ছে
ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, "ব্যবস্থাপনা বিভাগের সামনে ফিল্টার থাকলেও তা কয়েক মাস ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে শিক্ষকদের জন্য রাখা পানির ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, মাঠে পানির জন্য একটি ট্যাংক বসানো হয়েছে, তবে সেই পানি পান করার উপযোগী নয়। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অবহেলার চোখে দেখছে। তার দাবি, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হোক।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, "পানির ফিল্টার তো প্রতিটি বিভাগেই রয়েছে। আমি লাইব্রেরির সামনের ফিল্টারটি মেরামত করতে বলেছিলাম, কিন্তু সেটি মেরামত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই।" তিনি আরও বলেন, "রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিভাগের সামনে কারা ফিল্টার স্থাপন করেছে, তা আমার জানা নেই। তারা আমাদের এ বিষয়ে জানায়নি।"
তিনি আরও জানান, "শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, রিডিং রুমের সামনের ফিল্টারটি নষ্ট হয়ে আছে। ওই ফিল্টারটি আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি সেটি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছি, তবে কাজ শেষ হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।
আরও পড়ুন: বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন