০১:৩২ এম
নওগাঁর মান্দায় শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কারণ ছাড়াই একাধিক শিক্ষার্থীকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন। এই বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ঘটনাটি আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বিলবয়রা গয়েশিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে ঘটে।
সংবাদ পেয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজমসহ ইউপি সদস্যদের মধ্যস্থতায় প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে অবরুদ্ধ অবস্থার থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিভিন্ন পদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে অন্তত অর্ধকোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষগুলো জরাজীর্ণ হলেও সেগুলোর সংস্কার করা হয়নি। ছাউনির টিনগুলো ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানিতে শিক্ষার্থীদের বই-খাত ভিজে একাকার হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দরজা জানালা না থাকায় সন্ধ্যার পর শ্রেণি কক্ষগুলোতে মাদকের আড্ডা বসে। প্রতিনিয়ত মাদকসেবীরা চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চে পায়খানা করায় পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে যায় শ্রেণি কক্ষের পরিবেশ। প্রধান শিক্ষক এসবের ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণি কক্ষগুলো নোংরা থাকায় সেখানে বসে পাঠদান নেওয়া দুরুহ হয়ে পড়েছে। এসবের প্রতিবাদ করায় গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণ কুমার ও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজেদুল ইসলামকে মারধর করেন প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান। মঙ্গলবারও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন ও আব্দুল্লাহকে মারধর করা হয়। এতে আব্দুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশাল সদরে ৯৫ গ্রাম পুলিশের হাতে বাইসাইকেল-ইউনিফর্ম তুলে দিলেন এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী জানায়, ‘প্রধান শিক্ষক আমাদের অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেসব ভাষা বলা যাবে না। এছাড়া কারণ ছাড়াই আমাদের মারধর করেন তিনি। আজও রিফাত ও আব্দুল্লাহকে মারধর করা হয়েছে। এসব কারণে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।’
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক মাঝেমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এসব কারণে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাড়পত্র নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন তিনি। প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শ্রেণি কক্ষের সুন্দর পরিবেশের দাবি তোলায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দুরত্বের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি।’
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সিম খেতে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোর দিনমজুরের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন