০৩:১৬ পি.এম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অচলাবস্থা কাটছে না, যদিও একটি দাবি ঘিরে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১৪তম দিনে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন। তারা মানববন্ধন ও র্যালি কর্মসূচি পালন করছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন চুয়েট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সদস্যরা। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি স্বাধীনতা চত্বর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালি শেষে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আমরা আন্দোলন করে আসছি। এরই অংশ হিসেবে আজ আমরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, শিক্ষার্থীদের ছাত্রজীবন যেন বিলম্বিত না হয়। আমরা অত্যন্ত অহিংসভাবে আন্দোলন করছি। কোনো ধরনের ভাঙচুর বা রাস্তা অবরোধের মতো কর্মসূচি আমরা পালন করছি না। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হোক।"
আরও পড়ুন: আরামবাগ হাই স্কুলে এক্স স্টুডেন্ট ফোরামের মাধ্যমে পাঠ্যবই উপহার
এদিকে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা চুয়েটের শিক্ষকদের গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান শিক্ষার্থীরা।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, "আজ (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এই দিনে যেখানে আমাদের শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেখানে আন্দোলনের ১৪তম দিনেও আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে থাকতে হচ্ছে। দাবি পূরণের জন্য আজও আমাদের রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। আজ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে একসঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। আমরা চাই, অতিদ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক। সে কারণেই আমরা তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে অবস্থান করছি। আমরা দ্রুত এ সমস্যার একটি সমাধান চাই।"
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ পর্যন্ত লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে এখনো দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় চুয়েটে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন পে স্কেল ও উৎসব ভাতার দাবিতে ৪ নভেম্বর আন্দোলনে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন