০৩:১৭ পি.এম
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের মূল্য বৃদ্ধি স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও, দেশটির দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের কারণে অক্টোবরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় দাম কমার প্রভাব সীমিত ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার ১০ টা ২২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩১ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিন মার্কিন ডলার সূচক ০.৬ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট
শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কমেছে। একই সঙ্গে আগের দুই মাসের নন-ফার্ম পে-রোলের হিসাবও ব্যাপকভাবে সংশোধন করা হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেছেন, দুর্বল শ্রমবাজারের তথ্য অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা কমিয়ে দিয়েছে, যা স্বর্ণের দামে কিছুটা সমর্থন প্রদান করছে। তবে অক্টোবর মাসে সুদ না বাড়ানো হলেও ফেডের সামগ্রিক সুদ বাড়ানোর চক্র অব্যাহত থাকবে বলে বাজারের ধারণা রয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে মাত্র ১৮ শতাংশ। তবে ডিসেম্বরে সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ।
গত মাসে ফেড তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সৈয়দপুরে ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। রোববার ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো পুনর্দখলে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। তেলের দাম, বন্ডের সুদ ও ফেডের নীতির প্রত্যাশায় ওঠানামা থাকায় স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাড়তি তেল সরবরাহ এবং জি-৭ দেশগুলোর তেল মজুত থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগে অপরিশোধিত তেলের দামও কিছুটা কমেছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৯৪ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৭০৬ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন