সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫৫ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন নাহার তামান্না সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৩.৮২ পেয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী হিসেবে তার এই অভূতপূর্ব একাডেমিক সাফল্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম আজ রবিবার তাকে অভিনন্দন জানান।
সাদিক কায়েম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই অভিনন্দন জানান। তিনি লেখেন, ‘৩.৮২ সিজিপিএ (আউট অব ৪) নিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করায় ঢাবি ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী ও ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন নাহার তামান্নাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।’
এছাড়া, সাবিকুন নাহার তামান্না নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও সমান সুযোগের জন্য লড়াই করে আসছেন। তার বিশ্বাস, একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও মানবিক ক্যাম্পাস তখনই গড়ে উঠবে যখন নারী শিক্ষার্থীরা ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজেদের মেধা, প্রতিভা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। ২০১৫ সালে বাবার চাকরির কারণে গাজীপুরে গিয়ে একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন সাবিকুন নাহার তামান্না এবং সেই স্কুল থেকেই এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরবর্তীতে এইচএসসি পরীক্ষাতেও তিনি জিপিএ-৫ অর্জন করেন, যা তার নেতৃত্বের পরিচায়ক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বিএনপি সরকারকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে পুলিশ সাথী আক্তার নামের এক নারী উদ্যোক্তাকে আটক করেছে। তিনি স্থানীয় একটি বিউটি পার্লারের মালিক।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
সুত্র জানায়, সাথী আক্তার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, প্রায় ১৪ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে গত দুই মাসে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও খাদিজা প্লাজার অন্যান্য দোকানে একাধিকবার এসি ও বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ তার দুটি শোরুম থেকে প্রায় ২৪ হাজার টাকার বিদ্যুতের তার চুরি হওয়ায় তিনি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তার বক্তব্যের ভিডিও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর নজরে এলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাথী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে স্থানীয় জনতা ওই নারী উদ্যোক্তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সুজাত শিমুল বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রী জান্নাতুন নেছা একজন থিয়েটার ও আবৃত্তিকর্মী। গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই বিয়ের খবরের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দেনমোহরের অঙ্ক। কারণ, মাত্র ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এই দম্পতি।
কিন্তু কেন তারা ৯৯৯ টাকা দেনমোহর হিসেবে বেছে নিলেন? এর পেছনে রয়েছে বিশেষ ভাবনা, ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং জীবনকে দেখার একটি নিজস্ব দর্শন। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই সুজাত শিমুল ও জান্নাতুন নেছা দেনমোহরের অঙ্কটি ব্যতিক্রমী করার কথা ভাবছিলেন। তারা এমন একটি সংখ্যা বেছে নিতে চেয়েছিলেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার পাশাপাশি বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।
সুজাত শিমুল বলেন, ‘আমরা যখন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই, তখন ভাবছিলাম, কাবিনটা হবে একটা ইউনিক নম্বর, যেটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই প্রয়োজনীয়। আমরা বিয়েকে জীবনের খুব প্রয়োজনীয় একটি অংশ মনে করি। বিয়ের মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়, একধরনের পরিপূর্ণতা আসে। সেই প্রয়োজনীয়তার জায়গা থেকেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিপদ-আপদে যে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি, সেখান থেকেই ট্রিপল নাইনের ধারণাটা আসে।’
জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা পেতে মানুষ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। সেই পরিচিত সংখ্যাটিই শিমুল ও জান্নাতুনের কাছে বিয়ের দেনমোহর নির্ধারণের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তবে এই সংখ্যার মধ্যে আরো একটি প্রতীকী অর্থ খুঁজে পেয়েছেন অভিনেতা।
সুজাত শিমুলের ভাষায়, ‘৯৯৯ পাশাপাশি থাকলেও সংখ্যাটির পরের ঘরে একটি শূন্যস্থান রয়ে যায়। এটি মানুষের জীবনের অপূর্ণতার প্রতীক। মানুষের জীবন কখনোই পুরোপুরি পরিপূর্ণ হয় না; কোথাও না কোথাও কিছুটা ঘাটতি থেকেই যায়। এসব কারণে আমরা ট্রিপল নাইন, অর্থাৎ ৯৯৯ বেছে নিয়েছি। একের জন্য পরিপূর্ণতা, অর্থাৎ সহস্রের যে ঘর, সেটি পূর্ণ হয়নি। আরেকটা মজার বিষয় হলো, আমার শ্বশুর পুলিশে ছিলেন। সেটিও ৯৯৯ পছন্দ করার একটা কারণ। সব মিলিয়ে ৯৯৯ সংখ্যাটা আমাদের পছন্দের।’
অর্থাৎ সংখ্যাটির সঙ্গে জরুরি সেবার পরিচিতি যেমন জড়িয়ে আছে, তেমনি রয়েছে তাদের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও জীবনদর্শন। সব মিলিয়েই ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই দম্পতি।
দেনমোহরের অঙ্ক নিয়ে প্রচলিত সামাজিক ধারণার বিষয়টিও তাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান সুজাত শিমুল। তার মতে, বিয়েতে দেনমোহরের পরিমাণ নিয়ে বড় অঙ্কের হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়ে সম্পর্কের প্রতি আস্থা ও বিয়ের তাৎপর্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে চেয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় যে বার্তা দিতে চেয়েছি, আমরা বিয়েতে কাবিন করতে গিয়ে এত লাখ টাকা, এত লাখ টাকা—এর মধ্যে যেন মনে হয়, একটা বিনিময় কিংবা আস্থা-অনাস্থার বিষয় সামাজিকভাবে হয়ে আসছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, নারী হিসেবে একটা সাহস—৯৯৯ টাকা কাবিনে বিয়ে করছে। অনেক কিছু মিলেই এই ৯৯৯ টাকার ভাবনাটা এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান দাবি করেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলসহ তিন নেতার সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের পরিকল্পনা করা।
আজ সোমবার, রাশেদ খান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই দাবি করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভারতীয় উচ্চ পর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক। গত ১৬ অক্টোবর মাগরিবের পরে বারিধারার একটি বাড়িতে ভারতীয় উচ্চ পর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার এই বৈঠকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াত নেতা এ টি এম মাছুমসহ মোট তিনজন অংশগ্রহণ করেন।’
রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, ‘কোন স্বার্থে এমন গোপন বৈঠক?’ তিনি বলেন, ‘যারা সারা দিন ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখে, তারা কী কারণে কোন স্বার্থে ভারতীয় এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে? কোনো ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করা, আর ভারতীয় উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক হওয়া এক জিনিস নয়।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যদি মিয়া গোলাম পরওয়ার নৈতিক রাজনীতি করে থাকেন, তাহলে তিনি এই গোপন বৈঠকের বিষয়টি পরিষ্কার করবেন। রাশেদ খান বলেন, ‘অন্যথায় ধরেই নেওয়া হবে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে জামায়াত। এই ষড়যন্ত্রের প্রথম ফাঁদ হলো, আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ছক।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ছেলেসহ একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন। মামলায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুসারে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়া এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদের অতিরিক্ত পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দায়ের করা হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব অভিযোগ
দুদক সূত্রে জানা গেছে, স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই আসামি পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসির অনুমোদন ছিল না। একই সঙ্গে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদের চেয়েও অতিরিক্ত পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সাবেক উপাচার্যের ছেলেসহ অন্যান্যদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাছাই বোর্ডের সদস্যদের অবৈধভাবে প্রভাবিত করা হয়েছিল। রিজেন্ট বোর্ডের রেজুলেশন তৈরি ও অনুমোদন করা হয়েছিল।
৮০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, অভিযোগে উল্লিখিত নিয়োগগুলোর বিপরীতে বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, এই অর্থ ব্যয়ের ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে তদন্তের ক্ষেত্রে নিয়োগের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট পদগুলোর বৈধতা, বাছাই বোর্ডের কার্যক্রম, রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং বেতন-ভাতা পরিশোধের নথি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
জবাবদিহির প্রশ্ন
সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদ, নির্ধারিত যোগ্যতা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দুদকের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) যেন একটি পারিবারিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ২৫ দম্পতি ও বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা শিক্ষক ও কর্মকর্তা পদে কর্মরত আছেন। কারও ছেলে, কারও মেয়ে, কারও ভাই, কারও বোন, কারও শ্যালক, কারও শ্যালিকা, কারও শ্বশুর, কারও জামাতা, কারও ননদ, কারও জা কর্মরত এখানে। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর'২০২৪ সেকশন অফিসার পদে উপাচার্য অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলেসহ বিভিন্ন পদে কয়েকজন কর্মকর্তার স্বজন নিয়োগ পেয়েছেন।
পবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ না পাওয়া সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২ ডিসেম্বর'২০২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড তৎকালীন উপাচার্যের ছেলেসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে মোট ৫৮ জনকে নিয়োগ দেয়। তবে ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর এবং এর আগের কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মোট পদ ছিল ৩৯টি। ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সেকশন অফিসার পদে তিনজনকে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২ ডিসেম্বর'২০২৪ নিয়োগ পান ছয়জন।
তাঁরা হলেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে শাওন চন্দ্র সামন্ত তনু, পবিপ্রবি কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের ছোট ভাই মো. আরিফুর রহমান পিয়েল, সহকারী রেজিস্ট্রারের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা, পবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের বড় ভাই মো. হাফিজুর রহমান, দুমকী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালামের ছেলে তানভীর হাসান স্বাধীন, অপরজন তাকছিনা নাজনীন নামের এক নারী।
২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে ইউজিসির করা অর্গানোগ্রামে পবিপ্রবিতে সেকশন অফিসারের পদ ৩০টি। তবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৮ জন সেকশন অফিসার।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসির অনুমোদন না নিয়েই পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগে ১ জন প্রভাষক নিয়োগের উল্লেখ করা হয়। সমালোচনার মুখে ওই পদে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হলেও নতুন বিজ্ঞপ্তি না দিয়েই ২ ডিসেম্বর'২০২৪ দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের একজন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান সোহাগের স্ত্রী শেখ তানজিলা ইসলাম দোলা।
২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ অক্টোবর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড সিস্টেম ইনফরমেশন বিভাগ এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে তিনজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তবে মেধাতালিকায় ৭ শতাংশের মধ্যে থাকা পবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীদের কেউ ভাইভা কার্ড না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ১৯ নভেম্বর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড সিস্টেম ইনফরমেশন বিভাগের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগের দাবিতে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি দেন।
এতে সেদিনই ওই বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ স্থগিত করা হয়। তবে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয় ল্যান্ড রেকর্ড অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক সাউদ বিন আলমের (প্রতীক) স্ত্রী আমিনা সারওয়ারকে।
এ দিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বিতর্কিত শিক্ষক সন্তোষ কুমার বসুকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৫ হাজার ছাত্র হত্যার হুমকি ও আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের হল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিতর্কিত মন্তব্যে তোপের মুখে পড়েন সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু। একইসাথে তার কয়েকটি অডিও ক্লিপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পেজে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অজানা কারণে এখনো স্থায়ীভাবে তাকে বরখাস্ত না করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ